আন্দোলনরত দলগুলো নিয়ে হবে জাতীয় সরকার : ফখরুল

10

সরকারের অপশাসনে ব্যবসায়ীরা খুব খারাপ সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ একটি খবরের কাগজে বড় বড় ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বড় বড় ব্যবসায়ী একটা কথা বলছেন- আমরা খুব খারাপ সময়ে মধ্যে আছি।

আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে এখন এমন অবস্থা হয়েছে আমরা আমাদের শ্রমিকদের তাদের যে মজুরি দেব সেই মজুরির টাকা পর্যন্ত আমাদের কাছে থাকছে না। এটা নাকি রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে হচ্ছে। গত এক বছরেই কেবল ৭৮ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। যে দেশের অর্থনীতিতে সরকারের লোকেরা পুরো সম্পদ লুট করে পাচার করে নিয়ে যায় সেই দেশের অর্থনীতি কি থাকতে পারে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যখন সংকট আসে তখন তা মোকাবিলা করার জন্য সে দেশের অর্থনীতি, রিজার্ভ দিয়ে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। এখন ব্যবসায়ীরা বলছেন এই সময়ে যদি আমরা প্রণোদনা পেতাম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুবিধা পেতাম তাহলে হয়তো আমরা দাঁড়াতে পারতাম। আবার ব্যাংকগুলো বলছে এলসি নাকি খোলা যায় না। কারণ তাদের ডলার নেই, ডলার দিতে পারছে না। রিজার্ভের টাকা তো লোপাট করে ফেলেছে আগে থেকেই এবং এত বেশি লোপাট করেছে যে সরকার ডিফেন্সিভ হয়ে বলছে- আমরা রিজার্ভ চিবিয়ে খাইনি। আপনারা চিপিয়ে খাননি আমরা জানি, আপনারা গিলে ফেলেছেন এবং সেগুলো আবার পাচার করে দিয়েছেন। প্রমাণিত সত্য।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষ কিন্তু পিছিয়ে নেই। প্রত্যেকটা সমাবেশে এত মানুষ হচ্ছে যা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এখন আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ সেই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের এদের পরাজিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিচারকদের প্রতি সন্মান রেখে বলতে চাই দয়া করে ন্যায়বিচার করুন। কারণ, এদেশে বহু প্রমাণ আছে-বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা। আমরা বার বার বলেছি, আবারো বলছি, ১৯৭১ সালে দেশের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে এখন গণতন্ত্রের জন্য ৩৫ লক্ষ মানুষকে আসামি করেছো, আমার ৭ জন যোদ্ধা প্রাণ দিয়েছে। এর মূল্য অবশ্যই তোমাদের দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনো সময় আছে সরে দাঁড়ান, নিরাপদে সরে দাঁড়ান। তা না হলে জনগণের মধ্যে যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে সুনামীর মতো তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এবং এর নেতৃত্বে আছেন আমাদের তারেক রহমান তারুণ্যের প্রতীক।

বিএনপি মহাসচিব বলেছন, আমরা আন্দোলন করে এ সরকারকে সরাব। এ সরকারকে সরানোর পরে আমরা আন্দোলনরত সমস্ত দলগুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করব।

উত্তরবঙ্গ ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান থোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্র দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।