বিটকয়েনের ব্যাপক দরপতনে এল সালভাদরে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

46

বিটকয়েন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। সেখানে প্রচলিত ডিজিটাল এই মুদ্রার ব্যাপক দরপতনে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশটিতে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতি বাঁচাতে চীনের দ্বারস্থ হচ্ছে দেশটির সরকার। 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বিটকয়েনকে বৈধতা দেয় এল সালভাদর। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হলেও এরপর থেকে সেখানে স্থানীয় বাজারে ডলারের পাশাপাশি বিটকয়েনেই লেনদেন চলছিল। 

তখন কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। সে সময় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ, প্রযুক্তিগত সমস্যায় তরতর করে পড়ে যায় বিটকয়েনের দাম। একদিনেই বিটকয়েনের দাম ৫২ হাজার ডলার থেকে কমে ৪৩ হাজার ডলারে নেমে যায়। এ কারণে লাতিন আমেরিকার দরিদ্র দেশটি তখন হারায় প্রায় ৩০ লাখ ডলার।

সম্প্রতি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘এফটিএক্স’ নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা দেওয়ার পর এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে বলেছেন, চীনের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে তার সরকার। এরপর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স উলোয়া বলেছেন, চীন ওই চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির ২১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ কেনার প্রস্তাব দিয়েছে।

ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দরপতনের কারণে অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপাকে পড়ে যায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ এল সালভাদর। আসছে জানুয়ারিতে ইউরোবন্ড অ্যামোর্টাইজেশনের জন্য ৬৬৭ মিলিয়ন ইউরো (৬৮৮ মিলিয়ন ডলার) পরিশোধ করতে হবে দেশটিকে। চলতি বছরের শুরুতে বুকেলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তার দেশ জাতীয় ঋণ পরিশোধের জন্য বিটকয়েন বন্ড ইস্যু করবে এবং বিটকয়েনের মূল্য এক লাখ ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

কিন্তু তথাকথিত এই ‘আগ্নেয়গিরি বন্ড’ বাজারে  আসেনি। বিপরীতে বর্তমানে বিটকয়েনের ভয়াবহ দরপতনের পর এর মূল্য ১৬ হাজার ডলারের কাছাকাছি নেমে গেছে। এতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশটির অর্থনীতিতে। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলের অস্বচ্ছ বিটকয়েন বাণিজ্যকে। ধারণা করা হচ্ছে, ২,৩৮১ বিটকয়েন কিনতে এরই মধ্যে ১০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছেন তিনি। দরপতনের পর এর মূল্য এখন দাঁড়িয়েছে ৪০ মিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

“বুকেলে যদি স্বপ্ন দেখে থাকেন যে তিনি আইএমএফের পরামর্শের বিপরীতে গিয়ে একটি ভিন্ন এবং উদ্ভাবনী রাজনৈতিক অর্থনীতি তৈরি করবেন, তবে সেই স্বপ্ন ব্যর্থ হয়েছে,” বলেছেন সালভাদোরান অর্থনীতিবিদ লুইস মেমব্রানো।

তিনি বলেছেন, “কোনও সহজ বিকল্প নেই, কোনও শর্ট-কাট নেই।” 

এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এল সালভাদরের এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে চীন। তাদের ধারণা, অর্থনীতি বাঁচাতে ঋণ দেওয়ার নামে দেশটির অর্থনীতি গ্রাস করতে পারে চীন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান