নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য: জাপানের রাষ্ট্রদূতের ব্যাখ্যা চাইবে সরকার

22

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইবে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানান।

শাহরিয়ার আলম বলেন, নির্বাচন নিয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। বিদেশি কূটনীতিকরা শিষ্টাচার লঙ্ঘন করলে সরকার কঠোর হবে।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিদেশি বন্ধুদের পরামর্শের প্রয়োজন নেই।

এর আগে গত সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি শুনেছি, পুলিশ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে ফেলেছে। আমি অন্য কোনো দেশে এ ধরনের উদাহরণ শুনিনি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি উচিত নয়। ’

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধু দেশের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করে না বাংলাদেশ। কারণ গত চার বছরে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেনি জাপান সরকার। ’

জাপানের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে যাঁরা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন তাঁদের পেশাদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, এর পেছনে কী উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় নির্বাচন নিয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য সরকারের জন্য অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আগে গত সোমবার শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীও বাংলাদেশে বিদেশি কূটনীতিকদের ভিয়েনা কনভেনশন ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন। জাপানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক টুইটবার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘পারস্পরিক সম্মান না থাকলে পারস্পরিক আস্থা থাকে না। গণমাধ্যমে বাংলাদেশে কয়েকটি বিদেশি মিশনের প্রধানদের যেসব বক্তব্য আসছে তা ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন! তারা কি মিয়ানমারের জেনোসাইড ও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বহিষ্কার নিয়ে কিছু বলেন বা করেন? জাপান কি সেখানে (মিয়ানমারে) বিনিয়োগ, দ্বিমুখী নীতি বন্ধ করবে?’

সরকার এর আগে বিদেশি কূটনীতিকদের কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুসরণ করার বিষয়ে প্রয়োজনে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। গত ১৮ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকার সব বিদেশি দূতাবাস, জাতিসংঘ কার্যালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার রিলেশন নীতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভিয়েনা কনভেনশেন অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত বা কূটনীতিকদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাঁরা কী করতে পারবেন আর পারবেন না তা সেখানে বলা আছে। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো, মতামত দেওয়া কূটনীতিকদের কাজ নয়। এমনকি একটি দেশে বিদেশি কূটনীতিকরা কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন বা কাকে আমন্ত্রণ জানাবেন তাও ওই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়।