বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল এখন আপলিঙ্ক করতে পারবে ভারত থেকেই

11

ভারত সরকারের নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের টিভি চ্যানেল এখন ভারত থেকেই তাদের অনুষ্ঠান আপলিঙ্ক করতে পারবে।

দিল্লিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুর থেকে আপলিঙ্ক করার জন্য বিদেশি চ্যানেলগুলোর যে খরচ হয়, তার চেয়ে অনেক কম খরচেই তারা ভারতের এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব অপূর্ব চন্দ্রা এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ভারতের মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক ধাক্কায় স্যাটেলাইট আপলিঙ্কের অনেক বিধিনিষেধ ছেঁটে ফেলা হবে। আসলে আমরা ভারতকে সিঙ্গাপুরের চেয়েও বড় আপলিঙ্কিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছি – আর বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের টিভি চ্যানেলই এই সিদ্ধান্তের ফলে লাভবান হতে পারবে।

বাংলাদেশের যে সব চ্যানেল নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স (সংবাদ ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ) প্রচার করে এবং যাদের ফোকাস মূলত ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ বা বিনোদনে— সেই দু’ধরনের চ্যানেলের জন্যই এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। 

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল এখন আপলিঙ্ক করতে পারবে ভারত থেকেই 

 

আসলে ভারতে এতদিন টিভি চ্যানেলগুলোর আপলিঙ্কিং ও ডাউনলিঙ্কিংয়ের জন্য যে গাইডলাইনস (নির্দেশিকা) চালু ছিল, তা প্রায় এক যুগেরও বেশি পুরনো। সেই মান্ধাতার আমলের নিয়মকানুনে এত বেশি জটিলতা ও বিধিনিষেধ ছিল যে ভারতের চ্যানেলগুলোও ভারত থেকে আপলিঙ্ক করার ঝামেলায় যেতে চাইতো না।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দিলেই বিষয়টা স্পষ্ট হবে। ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এই মুহূর্তে মোট ৮৯৭টি দেশি-বিদেশি টিভি চ্যানেল নথিভুক্ত আছে, অর্থাৎ তাদের ভারতে সম্প্রচার করার বৈধ অধিকার আছে। কিন্তু এই প্রায় ৯০০ চ্যানেলের মধ্যে মাত্র তিরিশটি ভারত থেকে তাদের কনটেন্ট আপলিঙ্ক করে থাকে, বাকিরা ব্যবহার করে থাকে বিদেশি স্যাটেলাইট। 

এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোর জন্য ভারত এখন যাকে বলে উঠেপড়ে লেগেছে। বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ভারতকে যাতে আগামী দু’বছরের মধ্যেই সিঙ্গাপুরের চেয়েও বড় ‘আপলিঙ্কিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা যায় – সেটাই এখন দিল্লির টার্গেট।

বিদেশি স্যাটেলাইট সংস্থাগুলোকে পেমেন্ট করার জন্য গত অর্থ বছরে টিভি চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে সোয়া দশ কোটি ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স ভারত সরকারই অনুমোদন করেছে। এই আপলিঙ্কিংয়ের কাজটা যদি এখন ভারতীয় স্যাটেলাইট সংস্থাগুলোকে দিয়ে করানো যায়, তাহলে মূল্যবান বিদেশি মুদ্রা বা ফোরেক্সরও অনেক সাশ্রয় হবে বলে সরকার আশা করছে।

ঠিক একই কারণে বাংলাদেশের মতো বিভিন্ন দেশের চ্যানেলগুলোর কাছে ভারত থেকে আপলিঙ্কিং আকর্ষণীয় হবে বলে দিল্লিতে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

 তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার কথায়, ‘ধরা যাক নেপাল বা বাংলাদেশের একটা টিভি চ্যানেল যদি এখন সিঙ্গাপুর থেকে আপলিঙ্ক করে, তাদের পুরো পেমেন্টটাই ডলারে করতে হবে। কিন্তু আমরা এমন ব্যবস্থা নেব যাতে ভারতীয় কোনও সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করলে তারা রুপি বা টাকাতেই লেনদেন করতে পারবে, ডলারের ভোলাটিবলিটি বা ওঠাপড়ার কোনও আঁচ তাদের ওপর পড়বে না।’ 

সার্বিকভাবে ভারত থেকে আপলিঙ্কিং করলে সেটা যেন বিদেশি চ্যানেলগুলোর কাছে অনেক সস্তা ও সুবিধাজনক হয়, সেটা নিশ্চিত করতেই এখন কাজ চলছে। 

নতুন বিধিমালায় যেসব নিয়ম শিথিল করা হয়েছে, তার একটা হলো টিভিতে কোনও লাইভ ইভেন্ট সম্প্রচার করতে হলে তার জন্য আগাম অনুমতি আর নিতে হবে না। সম্প্রচারের ভাষায় পরিবর্তন কিংবা মোড অব ট্রান্সমিশনে (এসডি থেকে এইচডি কিংবা উল্টোটা) পরিবর্তনও করা যাবে অনায়াসেই।

সংবাদ ও বিনোদনের দুনিয়ায় সক্রিয় বাংলাদেশের অজস্র টেলিভিশন চ্যানেল ভারতের এই নতুন ‘আপলিঙ্কিং অফারে’ কীভাবে সাড়া দেয় বা সিঙ্গাপুরের চেয়ে সেটা তাদের বেশি আকৃষ্ট করতে পারে কি না – সেটাই এখন দেখার বিষয়।