বাদ পড়লো মিয়ানমার, ভিন্টেজ কার র‍্যালি যেভাবে বাংলাদেশে এলো

11

শেষ মুহূর্তে যাত্রাপথ থেকে মিয়ানমারকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ‘ইস্ট হিমালয়ান ভিন্টেজ কার র‍্যালি’, যাতে অংশ নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের প্রায় বিশটি বিদেশি অ্যান্টিক গাড়ি। উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এটিই প্রথম এত বড় মাপের আন্তর্জাতিক ক্লাসিক কার র‍্যালি।

বাংলাদেশের পথে ইস্ট হিমালয়ান কার র‍্যালি

রবিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এই র‍্যালি। সীমান্তে রীতিমতো ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে বাংলাদেশের পুলিশ ও প্রশাসন (উদ্যোক্তাদের ভাষায় সেই সঙ্গে ‘সিক্রেট পুলিশ’ বা গোয়েন্দারাও) তাদের স্বাগত জানিয়েছেন। সিলেট ও মৌলভীবাজারে দুই রাত কাটিয়ে র‍্যালি এখন গাজীপুরে। সেখান থেকে যশোর হয়ে আগামী শনিবার (১২ নভেম্বর) তারা কলকাতায় যাত্রা শেষ করবেন।

বাংলাদেশের পথে ইস্ট হিমালয়ান কার র‍্যালি বাংলাদেশের পথে ইস্ট হিমালয়ান কার র‍্যালি

এই র‍্যালি প্রথমে ভারত, ভুটান ও মিয়ানমার – এই তিন দেশের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মিয়ানমারকে বাদ দিয়ে যাত্রাপথে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরাও তাতে উচ্ছ্বসিত।

 

ইস্ট হিমালয়া কার র‍্যালির লোগো ইস্ট হিমালয়া কার র‍্যালির লোগো

ইস্ট হিমালয়া কার র‍্যালির লোগো

এই ইস্ট হিমালয়ান র‍্যালির প্রধান সংগঠক, বেলজিয়ামের নাগরিক ব্রুনো লিউনেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের অনুমতির জন্য আমাদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে যখন আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে এই র‍্যালি সে দেশের কাজে আসবে এবং দেশের ভাবমূর্তিকেই উজ্জ্বল করবে, তখন তারা আমাদের আবেদনে সায় দিয়েছেন।’

তবে একই সঙ্গে তিনি জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে প্রবেশ করার দু’দিনের মধ্যেই তারা বুঝতে পারছেন, অনুমতির জন্য এই অপেক্ষা করাটা পুরোপুরি সার্থক হয়েছে।

সিলেটে র‍্যালি নিয়ে স্থানীয়দের উৎসাহ ছিল বিপুল সিলেটে র‍্যালি নিয়ে স্থানীয়দের উৎসাহ ছিল বিপুল

সিলেটে র‍্যালিকে নিয়ে স্থানীয়দের উৎসাহ ছিল বিপুল

‘বাংলাদেশের স্থানীয় মানুষজন যেভাবে এই র‍্যালিকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তা ভাবাই যায় না। গত দু’দিন ধরে প্রধান রাস্তা ছেড়ে আমরা অনেক সময়ই গ্রামের ভেতরের রাস্তা নিয়েছি, এমন অনেক এলাকায় গেছি যেখানে মানুষ হয়তো প্রথমবারের মতো কোনও সাদা চামড়ার মানুষ দেখলেন। বাংলাদেশ যেভাবে আমাদের সংবর্ধনা জানাচ্ছে, তাতে র‍্যালির সবাই একেবারে আপ্লুত’, বলছিলেন ব্রুনো লিউনেন।

অথচ এই র‍্যালির প্রথমে বাংলাদেশে আসার কথাই ছিল না। যে রুটম্যাপ সংগঠকরা প্রকাশ করেছিলেন, তাতে ভারত ও ভুটানের পর মিয়ানমারেই ঢোকার কথা ছিল ‘ইস্ট হিমালয়ান কার র‍্যালি’র। এরই মধ্যে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় তাদের কপালে দুশ্চিন্তার বাঁজ পড়তে থাকে – কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারের সম্মতি চলে আসায় সংগঠকরা হাফ ছেড়ে বাঁচেন। তড়িঘড়ি মিয়ানমারকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে যাত্রায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

র‍্যালির নতুন রুট : বাংলাদেশ ইন, মিয়ানমার আউট র‍্যালির নতুন রুট : বাংলাদেশ ইন, মিয়ানমার আউট

র‍্যালির নতুন রুট: বাংলাদেশ ইন, মিয়ানমার আউট

‘মিয়ানমারে এর আগেও আমরা ছয় বার ক্লাসিক কার র‍্যালি করেছি। কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের পর সে দেশের পরিস্থিতি আমাদের দুশ্চিন্তায় রেখেছিল। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অনুমতি পেয়ে যাওয়ার পর আমাদের আর দু’বার ভাবতে হয়নি – মিয়ানমারকে বাদ দিয়ে র‍্যালির তৃতীয় দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছি’, বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন ব্রুনো লিউনেন।

সিলেটের সরু রাস্তায় কার র‍্যালির গাড়ি সিলেটের সরু রাস্তায় কার র‍্যালির গাড়ি

সিলেটের সরু রাস্তায় কার র‍্যালির গাড়ি

এই কার র‍্যালিতে যোগ দিয়েছে মার্সিডিজ, জাগুয়ার, ভোলভো, পোর্শ-সহ বহু বনেদী গাড়ি নির্মাতা সংস্থার একাধিক গাড়ি, যার কোনও কোনওটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েরও আগেকার। রয়েছে জার্মান সংস্থা বিএমডাব্লিউ-এর তৈরি দুটো ভিন্টেজ মোটর সাইকেলও। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা অধিকাংশই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

এই ধরনের কোনও কার র‍্যালি যখন কোনও দেশের মধ্যে দিয়ে যায়, তা সে দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে প্রভূত সাহায্য করে। বিশেষত ইউরোপ বা আমেরিকার পর্যটকরা এই সব র‍্যালির খোঁজখবর রাখেন, তারা সেই সব দেশের এক্সোটিক লোকেশনে ‘রোড ট্রিপ’ করার ব্যাপারে উৎসাহী হন। ইস্ট হিমালয়ান কার র‍্যালি বাংলাদেশে ঠিক একই জিনিস ঘটাতে সাহায্য করবে বলে সংগঠকরা বলছেন।

বাংলাদেশের পেট্রল পাম্পে তেল ভরছে ভিন্টেজ গাড়িগুলো বাংলাদেশের পেট্রল পাম্পে তেল ভরছে ভিন্টেজ গাড়িগুলো

বাংলাদেশের পেট্রল পাম্পে তেল ভরছে ভিন্টেজ গাড়িগুলো

গত ২০ অক্টোবর কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে এই বর্ণময় র‍্যালির ‘ফ্ল্যাগ অফ’ বা সূচনা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটনমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। পরবর্তী ২৪ দিন ধরে ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে র‍্যালির সুপ্রাচীন গাড়িগুলো আগামী শনিবার (১২ নভেম্বর) তাদের যাত্রা শেষ করবে আবার সেই কলকাতাতেই।