৪৫ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে দেশ

30

শর্ত সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার (আনুমানিক ৪৫ হাজার কোটি টাকা) ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। ব্যালান্স অব পেমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ অন্য সূচকগুলোয়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করে সরকার। এ ঋণ পেতে হলে সরকারকে অনেক শর্ত মানতে হবে। যদিও সরকার শর্তগুলো বলতে নারাজ। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘নতুন কোনো শর্ত ছাড়াই আমরা আইএমএফ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাচ্ছি। আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবেই ঋণ পাচ্ছি।’ অন্যদিকে আইএমএফ বলেছে, এ ঋণ পেতে বাংলাদেশকে আর্থিক খাতে বেশকিছু সংস্কারমূলক কাজ করতে হবে। এর মধ্যে ভ্যাট আইন, ২০১২-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, আর্থিক খাতের নজরদারি বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা, জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কাটাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে তোলা, ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহার বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব, নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নসহ আরও কিছু সংস্কারমূলক কার্যক্রম পরিপালন করতে হবে বাংলাদেশকে। তবে বাংলাদেশ কখনই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি। আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এমনকি বাংলাদেশের অবস্থা কখনই শ্রীলঙ্কার মতো হবে না। এ প্রসঙ্গে প্রতিনিধি দলের প্রধান রাহুল আনন্দ বলেন, আইএমএফ মার্চে সারা বিশ্বের ডেবথ সাইটেইনেবিলিটি নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন করেছে। সেখানে দেখা গেছে বাংলাদেশ ডেবথ সাসটেইনেবল। সেখানে বাংলাদেশের ঋণ ৪০ শতাংশের কম। এর মধ্যে (এক্সটারনাল) বৈদেশিক ঋণ দেখা গেছে ২০ শতাংশ, যা খুবই সহনশীল। তবে সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের মতো রিজার্ভ থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রকৃত রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলার। যদিও সরকার তা ৩৬ বিলিয়ন ডলার হিসেবে দেখাচ্ছে।

এ ঋণের প্রথম কিস্তি ৪৪৭ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে আসছে ফেব্রুয়ারিতে। বাকি অর্থ ৬৫৯ মিলিয়ন ডলার সমান ছয় কিস্তিতে ২০২৬ সালের মধ্যে পাবে বাংলাদেশ। সরকার-আইএমএফ কোনো পক্ষই শর্ত বলছে না। এটিকে আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম হিসেবে আখ্যা দিয়েছে উভয় পক্ষ।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এখানে মূল বিষয় হলো, কোনো শর্তই পরিষ্কার নয়। উভয় পক্ষ যেসব সংস্কারের কথা বলেছে সেগুলো তো আসলেই চলমান। কিন্তু এর বাইরে কোনো শর্ত আছে কি না- যেমন প্রথম কিস্তি পাওয়ার আগে কী কী করতে হবে। পরবর্র্তী কিস্তিগুলো পাওয়ার আগে কোন সময় কী করতে হবে সেগুলো তো নির্দিষ্ট করে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এখানে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। আর চলমান সংকট মোকাবিলায় এ ঋণ কতটা কার্যকর হবে বা সংকট কেটে যাবে কি না তা এখনই বলা যাবে না। তবে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব তো অর্থনীতিতে পড়বেই।’ এ ঋণের ফলস্বরূপ সরকারের কিছুটা লাভ হবে। ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। আইএমএফের ব্যবসা হবে। কিন্তু জনগণের কোনো লাভ হবে না। কারণ জিনিসপত্রের দামও কমবে না। আরও ভোগান্তি বাড়বে। ফলে এ ঋণের কারণে জনগণের কোনো কল্যাণ হবে না বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ।

এদিকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের ব্যাপারে আইএমএফের প্রাথমিক সম্মতি পেয়েছে বাংলাদেশে। আইএমএফের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ঋণের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে স্টাফ লেভেলে সমঝোতা হয়েছে সংস্থাটির। এটিকে ওই ঋণের ব্যাপারে আইএমএফের গ্রিন সিগন্যাল বলা যেতে পারে। যখন কোনো দেশ আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়ে থাকে, তখন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল সে দেশ পরিদর্শন ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে। সাধারণত এ সফরের সময় ঋণ প্রাপ্তির জন্য অর্থনৈতিক সংস্কারের বেশ কিছু শর্তও দেওয়া হয়। এসব শর্তের ব্যাপারে একমত হলে ঋণের ব্যাপারে স্টাফ লেভেলে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা বলা হয়।

তবে নিয়ম অনুযায়ী আইএমএফের স্টাফ মিশন সমঝোতার পর ঋণের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফ তাদের ব্যবস্থাপনার কাছে নিয়ে যাবে। ব্যবস্থাপনার অনুমোদন পেতে লাগে দুই মাসের মতো। এরপর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংস্থাটির বোর্ডসভায় উত্থাপন করা হয়। বোর্ডসভায় পাস হলে তারপর ওই ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে। পরের কিস্তিগুলো অনুমোদনের জন্য সময় সময় শর্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে আইএমএফ।

আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই ঋণ পাচ্ছি- অর্থমন্ত্রী : নিজ দফতরে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন সঙ্গে ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইএমএফ থেকে যেভাবে ঋণ সহযোগিতা চেয়েছিলাম, সেভাবেই আইএমএফ বাংলাদেশকে মোট সাত কিস্তিতে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দিতে যাচ্ছে, যার প্রথম কিস্তি ৪৪৭ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে। এরপর পরবর্তী ছয় কিস্তি সমানভাবে মোট ৬৫৯ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার করে ছাড় করবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চার বছর মেয়াদি এ ঋণ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ঋণের গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে ন্যূনতম সাড়ে তিন বছর থেকে ১০ বছর। আর পরিশোধের সর্বোচ্চ সুযোগ রয়েছে ২০ বছর।’

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের অর্থনীতিই এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। উন্নত থেকে উন্নয়নশীল সব দেশে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। প্রায় সব দেশের মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে কমে গিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির উত্তাপের আঁচ আমাদের অর্থনীতিতেও কিছুটা লেগেছে। এ অস্থিরতায় যাতে কোনো ধরনের সংকট ঘনীভূত না হয় তা নিশ্চিত করতেই আমরা আগাম সতর্কতা হিসেবে আইএমএফের ঋণের জন্য অনুরোধ করেছিলাম।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে এর আগে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। চলমান ঋণ আলোচনার পর্বটি আজ আমরা সফলভাবে সমাপ্ত করলাম। আমরা যেভাবে ঋণ চেয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই ঋণ পেতে যাচ্ছি বলে আমি আশা করছি। আইএমএফের সফররত দলটি বাংলাদেশ সরকারের সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো বলে তারা আমাদের জানিয়েছে। আইএমএফ টিম আমাদের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। সে অনুযায়ী আমরা চার বছর মেয়াদি ঋণ কর্মসূচি নিতে যাচ্ছি।’

আইএমএফের এই ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে চার খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো- অর্থনীতির বহিঃখাতকে স্থিতিশীল করা; ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণকে সামনে রেখে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দেওয়া; আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা; বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। ঋণ দেওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনায় আইএমএফ বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শর্ত দেয়নি। মূলত আর্থিক খাতে সরকার আগে থেকেই যেসব সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল এ রকমটাই তাদের প্রস্তাব ছিল।

এ সময় আইএমএফের ভর্তুকি কমানোর শর্ত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভর্তুকির প্রয়োজন রয়েছে। আমরাও আইএমএফের কাছে সে বিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরেছি।’ তবে তারা ভর্তুকি কমানোর কোনো শর্ত দেয়নি বলে জানান তিনি। সুদের হার ৯-৬-এর পরিবর্তে বাজারেরর ওপর ছেড়ে দেওয়ার শর্ত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বের অনেক দেশ তা-ই করেছে। কিন্তু আমরা করিনি। কারণ আমরা দেশের কথা, মানুষের কথা ও জনকল্যাণের কথা ভেবেছি। এটা যদি না থাকে তাহলে আমরা থাকব না। আর কৃষি খাতের ভর্তুকির ব্যাপারে আমরা বলেছি, এটাই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এটা চলমান থাকবে।’

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার আইএমএফ ঋণ ছাড়ের সার্বিক প্রক্রিয়া তুলে ধরে বলেন, ‘তিনটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় আমরা সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছি। সেগুলো হচ্ছে এক্সটেনডেন্ট ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেনডেন্ট ফাইনান্স ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং রেজিলেন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। প্রতিটি ঋণ কর্মসূচির গ্রেস পিরিয়ড ও পরিশোধকাল ভিন্ন ভিন্ন। তবে সবকটির ঋণই মিলবে সাত কিস্তিতে। প্রথম কিস্তি ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৪৭ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ এভাবে পরবর্তী চার বছরে ছয় কিস্তিতে সমান ৬৫৯ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার করে ছাড় করা হবে।’

গভর্নর বলেন, ইসিএফের আওতায় প্রদেয় ঋণে সাড়ে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে। এর পরবর্তী ১০ বছরে এই ঋণ শোধ করতে হবে। ইএফএফ ঋণ কর্মসূচিতে সাড়ে তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড মিলবে। আর পরিশোধ করতে হবে পরবর্তী ১০ বছরে। আরএসএফ ঋণ কর্মসূচিতে পাওয়া যাবে ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা এবং তা পরিশোধ করা যাবে আগামী ২০ বছরে। আইএমএফের ঋণের শর্ত প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, আগে বাংলাদেশকে আইএমএফ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের শর্ত দিত, এবার কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। গত চার অর্থবছরে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বাজেটের মাধ্যমে যেসব সংস্কারের কথা বলেছেন, মূলত সেসব সংস্কার নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় মূলত সব সংস্কার একসঙ্গে প্যাকেজ আকারে তুলে ধরা হয়েছে, যার কাজও চলেছে এবং চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ কখনো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি : আইএমএফ

ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ কখনো ব্যর্থ হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং এ সম্পর্ক খুবই ভালো। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও মোটামুটি ভালো আছে। বাংলাদেশের অবস্থা কখনই শ্রীলঙ্কার মতো হবেও না বলে মনে করে আইএমএফ। প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে আলোচনা শেষে ঢাকা ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইএমএফ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাহুল আনন্দ। টানা ১৫ দিনের সফর শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ঋণ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সমঝোতা হয়েছে। বলা হয়েছে, বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) ও বর্ধিত তহবিল সুবিধার (ইএফএফ) আওতায় ৩২০ কোটি ডলার আর রেজিলিয়েন্স সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া হবে। ৪২ মাসের মেয়াদে এ ঋণ দেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল আনন্দ বলেন, আইএমএফ শুধু সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে থাকে। রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে পর্যালোচনা করে না। ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বা জাতীয় বিষয় নিয়ে তাদের কোনো কনসার্ন বা মতামত নেই।

তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি এমনিতেই ভালো নয়। বিশ্বের সব দেশই সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। এ অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশ মোটামুটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তারা কিছুটা কনসার্ন। কেননা বাংলাদেশের এখন একচুয়াল (প্রকৃত) রিজার্ভ রয়েছে ২৬ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

রাহুল আনন্দ জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে ঋণ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ঋণের বিষয়ে পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ২৬ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসে। সফরে বাংলাদেশ ব্যাংক, আন্তমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে তারা। আলোচনা শেষে গতকাল ঋণের বিষয়ে সমঝোতার কথা জানায় আইএমএফ। গতকাল রাতেই ঢাকা ছেড়ে গেছে রাহুল আনন্দের নেতৃত্বাধীন আইএমএফ প্রতিনিধিদল।