একনেক সভা: মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার খবর দিল সরকার

62

আগের মাসের ৯.১০ শতাংশ থেকে কমে অক্টোবর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৯১ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি কমাই এই ইতিবাচক পরিবর্তনের বড় কারণ।  

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে (৯.১৩ থেকে ৯.৫৮ শতাংশ)।

তবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে ৯.০৮ শতাংশ হয়েছে। এটা আগের মাসে ছিল ৮.৫০ শতাংশ।

kalerkanthoগতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনাবাদি জমিতে চাষের ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আয়েশি-বিলাসী প্রকল্প নেওয়া যাবে না। তবে ছোট গ্রামীণ প্রকল্প বা কল্যাণমুখী প্রকল্পে আপস করা যাবে না। বড় প্রকল্প গ্রহণে সম্ভাব্যতা যাচাই নিবিড়ভাবে করতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুনিয়াব্যাপী মন্দা চলছে, অপচয় কমানোর পাশাপাশি মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রেমিট্যান্স কমছে, কথাটা সত্য নয়: ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাস আয় কমেনি দাবি করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেছেন, জুলাই-অক্টোবরে সর্বশেষ ৭.১৯৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।    জুলাই থেকে অক্টোবরে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। রপ্তানি ১৬.৮৫ বিলিয়ন হয়েছে। গত মাসের চেয়ে এটা বেড়েছে।

kalerkanthoপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ বাড়াতে টাকার মান কমাতে হবে। আমরা চাচ্ছি, দেশে আরো ডলার সরবরাহ হোক। ’

আইএমএফের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথাগতভাবে সরকার রিজার্ভ রক্ষা করছে। সরকার কোথাও কিছু লুকায়নি। ৩৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রিজার্ভ আছে বলে দাবি করেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, রিজার্ভের হিসাবে আইএমএফ একমত না হলে কিছু আসে যায় না।

মজুরি বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি কমেছে : পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মজুরি বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি কমেছে। গত অক্টোবরে মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬.৯১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬.৮৬ শতাংশ। এটা খুবই ভালো দিক। নিম্ন আয়ের লোক এ কারণে কিছুটা স্বস্তি পাবে। অক্টোবরের মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে আমরা যে ধারণা করেছিলাম তা বাস্তব হয়েছে। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৮.৯২ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৯.১৩ শতাংশ। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৯০ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯.০৩ শতাংশ। ’

জানতে চাইলে সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই সময়ে আমাদের বড় সমস্যা মূল্যস্ফীতি। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিসংখ্যান। কিন্তু আমাদের মূল্যস্ফীতির হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার মিল আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ’ তিনি বলেন, এই হিসাব সঠিক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তিন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ৯৪৭ কোটি টাকা : একনেকে পাঁচটি প্রকল্পের সংশোধনীসহ মোট ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গতকাল। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বেড়েছে। ব্যয় বেড়েছে ৯৪৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। বাকি দুটি প্রকল্পে শুধু মেয়াদ বেড়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে চারটি।

নুতন ও সংশোধনী প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে তিন হাজার ৩৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, আর বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ৩২২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ২৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

অনুমোদিত প্রকল্প : চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ ও টেকনাফ অংশের জেটিসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৪-এর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামোসহ অঞ্চল-২, অঞ্চল-৫-এর সার্ভিস প্যাসেজগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক, নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সংশোধনী এসেছে বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে।

দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এটি নতুন প্রকল্প। এ ছাড়া রয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন ও খুলনা পুলিশ লাইন নির্মাণ প্রকল্প।