মধ্যবর্তী নির্বাচন: ভোট দেওয়ার ডাক মার্কিন নেতাদের

11

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে নিজ ঘাঁটিতে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতারা। এর আগে সবাই একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ায়।

গত রবিবার নিউ ইয়র্কে সমাবেশ করেন ডেমোক্র্যাট নেতা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ অঙ্গরাজ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তিনি।

সোমবার তাঁর মেরিল্যান্ডের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা। সেখানে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।
 
অন্যদিকে রবিবার ট্রাম্প অংশ নেন ফ্লোরিডার এক সমাবেশে। ২০১৬ ও ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে জয় পান তিনি। সোমবার তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ওহাইওর এক সমাবেশে।

ওহাইও অঙ্গরাজ্য ট্রাম্পের কাছে বিশেষ এক স্থান। এখানেই প্রথমবার রিপাবলিকান ভোটারদের মাঝে নেতা হিসেবে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছিলেন তিনি।
 
ডাকযোগে বা অনলাইনে এরই মধ্যে চার কোটিরও বেশি মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছেন। আজ ভোটের দিনে বাকিদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উজ্জীবিত করেছেন উভয় নেতাই।

মুদ্রাস্ফীতি, গর্ভপাত ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের মতো বিষয় এবারের নির্বাচনে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিউ ইয়র্কে বাইডেন বলেন, ‘এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ২০ বছরের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দেবে। মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরোপুরি বিপরীত দুই দলের একটিকে বেছে নিতে হবে ভোটারদের। ’ 

অন্যদিকে ফ্লোরিডার মায়ামিতে ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা দেশকে সমাজতান্ত্রিক কিউবা বা ভেনিজুয়েলায় পরিণত করতে চায়। ’ এখানে ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারও ইঙ্গিত দেন।

দুই দলের অন্য কিছু নেতারও গতকাল বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা। ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন যাবেন ভার্জিনিয়ায়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন পেতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী রন ডিসান্টিস যোগ দেবেন মায়ামিতে।  

আজকের ভোটের ওপর নির্ভর করবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, এবার রিপাবলিকানদের পাল্লা ভারী।  

জরিপের ফল বলছে, নিম্নকক্ষ তথা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছেন রিপাবলিকানরাই। আর উচ্চকক্ষ তথা সিনেটে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মূলত পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া ও নেভাদার ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে উচ্চকক্ষ কার নিয়ন্ত্রণে যাবে।  

উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাতছাড়া হলে পরবর্তী দুই বছরে আইনি বিষয়গুলোতে বেগ পোহাতে হবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে। ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও নির্ভর করবে এই নির্বাচনের ফলের ওপর। সূত্র : বিবিসি ও আলজাজিরা।