কুকুরের গর্ভে জন্ম নিলো নেকড়ে

6
 
 
 
ভিনিউজ ডেস্ক- কুকুরের  জরায়ুতে জন্ম নিলো পৃথিবীর প্রথম ক্লোন করা মেরুপ্রদেশীয় নেকড়ে। মায়া নামের এই নেকড়ের ক্লোন তৈরি করেছে চীনের সংস্থা সিনোজিন বায়োটেকনোলজি। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজ। 
 
 
 
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমসে’র সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন নয়, মায়ার জন্ম হয়েছে তিন মাসেরও বেশি সময় আগে। তবে তার জন্মের ১০০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সে সুস্থ আছে, তা দেখার পরেই পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হল।
 
 
মেরুপ্রদেশের বন্য এক স্ত্রী নেকড়ের ডিম্বাণু থেকে মায়ার জন্ম হলেও তার ভ্রূণটি প্রতিস্থাপিত করা হয়েছিল একটি বিগল প্রজাতির কুকুরের গর্ভে। 
 
 
 
কেন এমন পরিকল্পনা? 
 
সিনোজিন বায়োটেকনোলজির কর্ণধার জানান, বিপণ্ণ পশুদের বাঁচাতেই এই ধরনের পরিকল্পনা করা হয়। ২০২০ সাল থেকেই মেরুপ্রদেশের নেকড়ের ক্লোনিং করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ দুই বছরের নিরলস প্রচেষ্টার পরে সাফল্য এল। বিশ্বে এই প্রথম এই ধরনের ক্লোনিংয়ে সাফল্য এলো বলে দাবি করেন তিনি। মায়া এখন উত্তর চীনের হেইলংগিয়াং প্রদেশের এক ল্যাবে তার ‘জন্মদাত্রী’ মা কুকুরের সঙ্গেই রয়েছে।
 
সব মিলিয়ে মেরুপ্রদেশীয় স্ত্রী নেকড়ের ডিম্বাণু থেকে ১৩০টিরও বেশি নতুন ভ্রূণ তৈরি করা হয়েছে।
 
কেন কুকুরের জরায়ুতে ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত? 
 
জানা যায়, যেহেতু বুনো নেকড়ে থেকেই কুকুরের উৎপত্তি, তাই এই সিদ্ধান্ত। তাছাড়া নেকড়ে ও কুকুরের জিনগত সাদৃশ্যের কথাও মাথায় রাখা হয়েছিল।
 
বিজ্ঞানীরা মায়ার জন্মকে ঘিরে আশাবাদী। ভবিষ্যতে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের বাঁচাতে এই ধরনের ক্লোনিং বিপুল সাহায্য করবে বলেই মনে করছে বিজ্ঞানী মহল। 
 
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে এক স্কটিশ বিজ্ঞানীর তত্ত্বাবধানে জন্ম নিয়েছিল প্রথম ক্লোন করা প্রাণী ডলি। সেই ভেড়ার জন্মের পর কেটে গিয়েছে প্রায় তিন দশক। ইতিমধ্যেই ক্লোনিং নিয়ে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে পৃথিবী। যার অন্যতম নিদর্শন মায়া। যা এই সংক্রান্ত গবেষণাকে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই ধারণা বিজ্ঞানিদের।