আবারো মনোনয়ন পেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ফারুক, উচ্ছসিত নেতাকর্মীরা

 

কাজল আর্য, টাঙ্গাইল প

আসন্ন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ফজলুর রহমান খান ফারুক। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা উচ্ছসিত, টাঙ্গাইলে বিরাজ করছে আনন্দ। শনিবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডীর দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরআগে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। তারা হলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক একুশে পদকপ্রাপ্ত ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর খান মেনু ও শামসুল হক। ফজলুর রহমান খান ফারুক দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ধানমন্ডির কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি ২০১৬ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরআগে ছিলেন প্রশাসক।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক ১৯৭৩ সালে মির্জাপুরের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছিলেন ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মির্জাপুরে আওয়ামী রাজনীতির শক্ত ঘাঁটির বীজ বপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ফজলুর রহমান খান ফারুকই। সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা এবং সাংবাদিক ফজলুর রহমান খান হয়ে উঠেছেন জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম ধারক, আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিক। তিনি ধাপে ধাপে জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি হয়ে অদ্যবধি আছেন। তাঁর একমাত্র ছেলে খান আহমেদ শুভ চলতি বছরে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে মির্জাপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। শুভ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক।
ফজলুর রহমান খান ফারুক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ঘনিষ্ঠ এ সহচর। ১৯৪৪ সালের ১২ অক্টোবর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামে। রাজনীতির পাশাপাশি করেছেন সাংবাদিকতা। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। এখন তার সম্পাদনায় টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ‘আজকের দেশবাসী’ নামে একটি দৈনিক পত্রিকা।

ফজলুর রহমান খান ফারুকের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ১৯৬০ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স পাস করেন। তিনি ১৯৬২ সালে টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে কারাবরণ করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৬৮ সালে ১১ দফা আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির সদস্য, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ এবং কারাবরণ করেন। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে টাঙ্গাইল জেলার ১০৭টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি করেন এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঢাকার বাইরে ৩ এপ্রিল প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ৭২’ সালে স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়ণ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে সবচেয়ে কম বয়সে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। ৭৫’ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। ১৯৮৪ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে একই পদে দায়িত্বপালন করেন। পরে সভাপতি হন। ৭৫ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়াবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেন। ১/১১ সময় শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবিতে জনমত গঠন করেন।

ফজলুর রহমান খান ফারুক টাঙ্গাইলের শতবর্ষ প্রাচীন করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব ও টাঙ্গাইল ক্লাবের আজীবন সদস্য, টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের আজীবন সদস্য, জেলা শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য ও টাঙ্গাইল হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মির্জাপুরের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই ফজলুর রহমানের একমাত্র পোশাক হচ্ছে মুজিব কোট। অন্য কোনো পোশাকে তাকে দেখা যায়নি। সরকারি বেসরকারি অসংখ্য সফরে গিয়েছেন দেশের বাইরে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও এফবিসিসিআই এর পরিচালক অবু নাসের কালের কণ্ঠকে বলেন টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে অপরিহার্য নেতা, সর্বজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবক জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাওয়ায় জেলাবাসী আনন্দিত। আমাদের জননেত্রীর নির্ভূল সিদ্ধান্তে জেলার রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারন ফজলুর রহমান খান ফারুক একজন আপাদমস্তক সুশিক্ষিত, ত্যাগী ও অভিজ্ঞতায় পূর্ণ একজন বর্নাঢ্য রাজনীতিবিদ।

ফজলুর রহমান খান ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন সারাজীবন দল ও মানুষের জন্য কাজ করছি। পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য। জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি দল ও দেশের জন্য। দল মনোনয়ন দিয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং দল মনোনয়ন দিলে চিরকৃতজ্ঞ। আশা করি বিজয়ী হবো।

টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান, ১২ জন সাধারণ সদস্য পুরুষ এবং ৪ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোট ১৭ টি পদে নির্বাচন হবে। টাঙ্গাইলের ১২ টি উপজেলায় মোট ভোটার ১৭২২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১৩১৫ জন এবং মহিলা ৪০৭ জন। ইতোমধ্যে নির্বাচনী আবহ সৃষ্টি হয়ে গেছে। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ১৫ সেপ্টেম্বর, প্রত্যাহার ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর।

এদিকে সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের প্রার্থীরা যার যার এলাকায় দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। তাদের কর্মী অনুসারীরা পোস্টার, ব্যানার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রার্থীতা ঘোষণা করে প্রচার প্রচারনা চালাাচ্ছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে।