ভারত -বাংলাদেশের সম্পর্ক আজ অদ্ভুতভাবে সুন্দর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে- শ্রীরাধা দত্ত. ,ফেলো বিকেকানন্দ ফাউন্ডেশন

14

ভিনিউজ ডেক্স: ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আজ অদ্ভুতভাবে সুন্দর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। বিকেকানন্দ ফাউন্ডেশন ফেলো ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সুনামধন্য গবেষক শ্রীরাধা দত্ত এ কথা বলেন।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ৫ সেপ্টম্বর ভারত সফর উপলক্ষে সাউথ এশিয়া মনিটরিং ওয়েভসাইটে একথা বলেন।

আমি সাউথ এশিয়া নিয়ে কাজ করি।আজকে আমি বাংলাদেশ প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনার ভারতবর্ষে আসছেন ৫সেপ্টেম্বর তিন দিনের জন্য,আমি সেই ব্যাপারে কিছু বলতে চাই।এই প্রোগ্রামটা দিয়ে সাউথ এশিয়া মনিটরিং এর আপনারা তাদের ওয়েবসাইটে দেখেছেন বিভিন্ন ফিচার।আজকে প্রথম ভিডিও দিচ্ছি:

তিনি বলেন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ,শেখ হাসিনা আসছে ভারতবর্ষে।২০০৮ এ ইলেকশন জিতে উনি ক্ষমতায় এসেছেন।তারপর থেকেই দেখে এসেছেন যে তার সাথে ভারতবর্ষের সম্পর্ক্যটা আস্তে আস্তে অদ্ভুতভাবে সুন্দর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।এখন যে জায়গাটায় দাঁড়িয়েছে সেটা আমার মনে হয়না আগে কখনো কল্পনা করা যেত।আমরা জানি যে যখন ভারতবর্ষ, যখন বাংলাদেশ তৈরী হয় তখন ভারতবর্ষ পাশে দাড়িয়েছিলো সেই লিবারেশন ওয়ার এর সময়।কিন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আমাদের ইন্দিরা গান্ধীর আমাদের প্রাইম মিনিস্টার ভারতবর্ষের তার সাথে সুসম্পর্ক ছিলো। যেটা নিয়ে অনেক চর্চা হয়েছে,কথা হয়েছে।কিন্ত কিছু পলিটিকাল চেঞ্জেস হয়েছে বাংলাদেশে। মিলিটারি লিডার ছিলেন। তারপরে ফার্স্ট ডেমোক্রেসি আসে বাংলাদেশে 1৯৯১ থেকে।কিন্ত ডেমোক্রেসি আসার সংগে সংগে এমন না যে আমাদের সাথে সম্পর্ক্যটা খুব ভালো হয়েছে।টাইম লেগেছে।তারমধ্যে ৫ বছরের জন্য 1৯৯৬এ প্রধম শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন প্রথমবারের জন্য।আপনারা সবটাই জানেন যে মুজিবর রহমান এর কন্যা উনি।আওয়ামীলীগ টার দায়িত্ব উনার ঘাড়ে,উনি ওটা লীড করেন খুব সক্ষমভাবে।কিন্ত তার আগে আমি ভারত-বাংলার সম্পর্ক্যের আগে একটু বাংলাদেশের কথা আপনাদের বলি।আপনারা হয়তো নজরে পড়েছে যে বাংলাদেশ ৫০ বছর হয়েছে গত বছর।এবং সেইটা অনেক কথা হয়েছে।শুধু বাংলাদেশে না সমগ্র সাউথ এশিয়াতে।এটা নিয়ে অনেক এপ্রিশিয়েট করেছে।কারণ যখন ১৯৯১ এ লিবারেশন ওয়ারে যখন পাকিস্থান থেকে বেড়িয়ে এসে ইস্ট পাকিস্তান নিজেদের বাংলাদেশ নামে নিজেদের তৈরী করে।সেইসময় তাদের অবস্থা ইকোনোমিকালি বলুন,পলিটিকালি বলুন বলুন খুব খুবই খারাপ ছিলো। মানে একদম ইকোনোমি ভেংগে গিয়েছিলো।সেই যায়গা থেকে আজকে ইনফ্যাক্ট ওয়াল্ড ব্যাংক বলে যে Bangladesh is one of the fastest growing economy. and আমি একটু আগে বললাম যে অনেক পলিটিকাল ইনস্টাবিলিটি গেছে বাংলাদেশে।From military regimes to democracy, সেটাতেও অনেক সময় প্রব্লেম দেখা গিয়েছে।কিন্ত তা সত্বেও বাংলাদেশ গত কুড়ি বছরে আমি দেখেছি কুড়ি বছরে ৬ পারসেন্ট গ্রোথ রেট রাখতে পেড়েছে।সেটা কিন্ত খুবিই,ইনফ্যাক্ট একারণেই যেখানে অলরেডি পলিটিকাল ইনস্টাবিলিটি তার সাথে সাথে কি করে এরকম ইকোনোমি গ্রোথ সাসটেইন করতে পেড়েছে এটাকে কিন্ত অনেকে “বাংলাদেশ মিরাকল” বলে বা “বাংলাদেশ প্যারাডক্স বলে”।এবার আমি আসি বাইলাটিক রিলেশন এ।বাংলাদেশ আর ভারতবর্ষ এর সম্পর্ক্য এখন আমি আগে বললাম যে আমি আগে কল্পনাও করা যেত না।আমি জানি মুজিবর রহমানের একটা ভিশন ছিলো সোনার বাংলার। সেইটা আমাদের সাথে আমরা তাল মিলিয়ে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি।১৯৯৫ এ উনাকে হত্যা করা হয়।কিন্ত তারপরে এখন মানে ২০০৯ এ উনি প্রাইম মিনিস্টার হন সেকেন্ড টার্মে।প্রথমেই যে একটা কাজ করেন ইনফ্যাক্ট বাংলাদেশ -ইন্ডিয়া যে রিলেশন, আমরা অনেক বছর ধরে দেখেছি ভারতবর্ষের নর্থইস্ট বলুন বা অন্য যায়গায় বলুন প্রচুর ভায়োলেন্স, টেরোরিজম হয়েছে।তাতে আমাদের অনেক নেইবারহুড থেকে তাড়া সাপোর্ট পেয়েছে।প্রতীবেশী বলেই তাড়া করতে পেড়েছে।Which includes Bangladesh, Pakistan, China. বাংলাদেশ এটা করলো তাতে এটা নিয়ে নানা কথা বার্তা চলেছে।অনেক ঝগড়া হয়েছে।তাড়া রাজি হয়নি,আমড়া এটা বলেছি যে এরকম এরকম হয়েছে।কিন্ত শেখ হাসিনা এসে খুব সুন্দরভাবে তিনি বুঝতে পেড়েছেন যে এক্সাক্টলি কনসার্ন টি কোথায়।খুব ক্লিয়ারলি এড্রেস করেছেন যে একারণে যে আপনারা কদিন আগেই দেখেছেন যে আসামের চীফ মিনিস্টার উনি বলেছেন যে বাংলাদেশের এ কাজের জন্য আমাদের সিকিউরিটি ব্যাপারগুলো এতো ভালো ভাবে দেখেছেন।আজকাল আসাম ভালো করে ঘুমোতে পারে।তখন যে একটা অদ্ভুত ভায়োলেন্স সৃষ্টি হয়েছিলো, চারিদিকে শুধু আসামে কেন সবটা নর্থইস্ট এ বাংলাদেশ খুব সুন্দরভাবে এড্রেস করে।বাংলাদেশ আমাদের সাথে করতে পেরেছে।কারন আমরা খবই বেনিফিটেট হয়েছি।আপনারা জানেন যে নর্থইস্ট একচুয়ালি ৫টা দেশের সাথে বর্ডার শেয়ার করে।সেইটা আমাদের নেইবারের সাথে।বাংলাদেশের সাথেও লম্বা একটি বর্ডার।কিন্ত আমাদের সাথে একটা ২১ কিলোমিটার ফালি একটি বর্ডার আপার ওয়েস্ট বেংগলের সাথে শেয়ার করে।যেই কারণে আমাদের সংগে নর্থইস্ট এর অদ্ভুত দুরত্ব ছিলো। যেটা ফিজিক্যালি বলুন, জুওগ্রাফিক্যালি বলুন,সাইকোলজিক্যালি দুরুত্ব অনেক।যখন ২০১০ সালে প্রথমবার শেখ হাসিনা আমাদের ভারতবর্ষে আসেন আমাদের সংগে তখন প্রাইম মিনিস্টার মনমোহন সিং তখন এর সাথে যে চুক্তিটা সই হয়, ২০১০ এ,সেইটার থেকে কিন্ত সম্পর্ক্যটা অদ্ভুতভাবে বদলে যায়।ব্রেকথ্রু যাকে আমরা বলি।বাংলাদেশ দেখছি যে যেই যায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সেখানে যোগাযোগ অনেক বেড়ে গেছে।যাওয়া আসা বেড়ে গেছে।বিকজ, ৫০ বছর যখন হয় সেলিব্রেশিনের সেইটা কখনো আমরা ইন্ডিয়ার থেকে দেখি নাই।প্রাইম মিনিস্টার আর প্রেসিডেন্ট দুজনেই সেবছর ভিসিট করে।যেটা অফকোর্স আনপ্রেসিডেন্ট ও।অফকোর্স আমাদের ফরেন মিনিস্টার মিউচুয়ালী দুইদিক থেকে যাওয়া আসা।ইনফ্যাক্ট ১৫ বছর আগে ১ বিলিয়নের মতো ট্রীপ ছিলো। এখন ১০ বিলিয়ন ট্রীপে ছাড়য়েছে।এখন হয়তো আমরা ১২ বিলিয়নে এসে দাড়িয়েছি।যে টাইপের ফরেন পলিসি একটা আউটফিন দেখছি প্রাইম মিনিস্টার আসার সাথে।এটা কিন্ত সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ আমাদের সাথে ভালোভাবে কোওপারেট করেছে বলে।আর দিয়েছে,এখন নর্থইস্ট এর সাথে ইনফ্যাক্ট বাংলাদেশ থেকে নর্থইস্ট এ ইনভেস্টমেন্ট আসছে।সবসময় বলি সাউথ এশিয়া কিন্ত আন্ডার পারফর্মিং। আমাদের সাপ্লাই কিন্ত ভালো অবস্থা গড়তে পারেনি।এখন দেখতে পাচ্ছি অল্প দিয়ে শুরু হলেও নর্থইস্ট এ ইনভেস্টমেন্ট আসছে।আমাদের নর্থইস্ট র যে এগ্রো বেসড প্রডাক্ট আছে সেটা দিয়ে কোম্পানি টা তাদের জুস তাদের নানা টাইপের ফুড বেসড প্রডাক্ট যেটা বিদেশে পাঠায়।এছাড়াও বাংলাদেশ আমাদের থেকে ১০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ কিনছে।ত্রিপুরা থেকে যাচ্ছে।নর্থইস্ট এর সাথে যে আমাদের কানেকশন করিডোর তৈরী হয়েছে সেটা আমরা আগে করতে পারিনি।অফকোর্স এখন কিন্ত সম্পর্ক্যটা মিলিটারি বেসড ও হয়েছে। আগে আমরা অনেক বছর কোন ডিফেন্স আমাদের এগ্রিমেন্ট ছিলো না,সেটা সই করা হয়েছে।আমরা এক্সারসাইজ একসাথে করতে পারছি।নানা যায়গায় মানে কোন ইস্যু নেই যেখানে বাংলাদেশ আর ইন্ডিয়া একসাথে কাজ করতে পারছে না।প্রথমেই বলেছিলাম যে একটা প্রজেক্ট আমরা করেছিলাম যেটা ঢাকা মেট্রো প্রজেক্ট। জাপানের সাথে একসাথে কাজ করছি।তাছাড়াও আমরা ধরুন প্রায় ৮ বিলিয়ন লাইন অফ ক্রেডিট দিয়েছি বাংলাদেশকে।তাছাড়াও ২০১০ সালের পর থেকে নানা টাইপের কাজ হয়েছে। ইনফ্যাক্ট বেশী ভাগ লাইন ক্রেডিট যেটা দিয়েছি বাংলাদেশকে তাতে অনেকেই মনে করেন যে বাংলাদেশের লাভ হয়েছে বেশী।নিশ্চয়ই উপকৃত হয়েছে।কিন্ত সেই উপকৃত কিন্ত আমরাও হয়েছি।অনেক প্রগ্রেস হয়েছে যেটা আগে কখনো আমরা ভাবতে পারিনি যে এরকমভাবে দুই দেশ এগিয়ে যেতে পারবে।মানে আমি বিশ্বাস করি যে যেইভাবে হুমম এমন না যে কিছু ডিফারেন্স নেই,কিছু ইললিগাল মুভমেন্ট এখনো হচ্ছে whether interms of some burnt item বলুন,হিউম্যান এটাকিং বলুন সব হচ্ছে।আপনারা কিছুদিন আগে দেখেছেন যে করিডোর নিয়ে কিছু উত্তেজনা হয়েছে।সেগুলো দেখেছেন। কিন্ত এইসব সত্বেও আমাদের সিকিউরিটি নিয়ে বাংলাদেশ যেভাবে সিকিউরিটি কনসার্ন এড্রেস করেছে জন্য আমরা যেমন দুহাত ভরে বাংলাদেশকে দিয়েছি তেমনি বাংলাদেশ আমাদের পাশে না থাকলে কিন্ত আমাদের এতোদুর আসাও হতোনা বলে আমি মনে করি।