দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছরের শূণ্য পদে এনটিআরসিএ’র কাছে শিক্ষক চায়নি কপিলমুনি কলেজ

আশরাফুল ইসলাম সবুজ, পাইকগাছা: এবারো এনটিআরসিএ’র ই-রিক্যুইজিশন চাহিদাপত্রে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক চেয়ে নাম পাঠায়নি কপিলমুনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষিত শিক্ষকের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ দিনেও নতুন শিক্ষক না পাওয়ায় পদোন্নয়ন পাচ্ছেননা সংশ্লিষ্ট বিভাগের জুনিয়র শিক্ষক। অভিযোগে জানাযায়, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচ,এম আজমল হোসেন গত ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল অবসরে গেলে পদটি শূণ্য হয়। এরপর অনার্স বিভাগের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তাপস কুমার সাধুকে কোন প্রকার নিয়োগ ছাড়াই পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্তে জেনারেল সেকশনের উক্ত শূণ্য পদে প্যাটার্ন বা সমন্বয় করা হয়। এরপর দীর্ঘ দিনেও প্যাটার্নভূক্ত শিক্ষক তাপস সাধুকে এমপিওভুক্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে নিয়মানুযায়ী শূণ্যপদে এনটিআরসিএকে সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষক চেয়ে আবেদন না করায় কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষিত প্রভাষকের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন প্রভাষক না পাওয়ায় দীর্ঘদিন আটকে আছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জুনিয়র শিক্ষকের পদোন্নয়নের বিষয়টি। কলেজের পরিচালনা পরিষদের একাধিক সূত্র জানায়, অবৈধ প্রক্রিয়ায় অনার্স থেকে প্যাটার্নভূক্ত প্রভাষক তাপস সাধুকে কয়েক দফার প্রচেষ্টায় এমপিও না পাওয়ায় এবং মাউশির যথাযথ কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সর্বশেষ পরিচালনা পরিষদের সভায় ৬টি শূণ্য পদের বিপরীতে এনটিআরসিএ’র ই-রিক্যুইজিশন চাহিদা পত্রে শিক্ষক চেয়ে আবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। তবে এক অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক চেয়ে চাহিদা পত্রে নাম পাঠানো হয়নি। এব্যাপারে সূত্র জানায়, পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্তের বাইরে কলেজেরই একটি পক্ষ ডিজির আইন শাখার মতামত সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়ে গোপনে মাউশির মাধ্যমে এমপিও’র চেষ্টা করছে। যার কারনে বিষয়টিতে শিক্ষক চেয়ে এনটিআরসিএকে চাহিদাপত্রে নাম পাঠানো হয়নি। এব্যাপারে পরিচালনা পরিষদের একাধিক সূত্র দাবি করেন, তাপস সাধুর এমপিও’র সর্বশেষ প্রক্রিয়ার জন্যও পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। সূত্র আরো জানায়, তাপস সাধুর অনার্স বিভাগে থাকাকালীণ কলেজ থেকে প্রাপ্ত অনারিয়াম এখনো চালু রয়েছে। জেনারেল বিভাগে এমপিও’র তদ্বিরের পাশাপাশি তিনি অনার্সের সুবিধা নিয়ে দ্বৈত সুবিধা ভোগ করছেন। সর্বশেষ পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেনারেল সেকশনে শিক্ষক চেয়ে আবেদন পাঠালে অনার্স বিভাগে ফিরে যেতেও তার পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানান তারা।এব্যাপারে কপিলমুনি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুল্ল্যাহ বাহার বর্তমানে ছুটিতে চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব না হলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ত্রিদিব কান্তি মন্ডল জানান, সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই এনটিআরসিএকে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল। তবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেননা। এমনকি আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ এবিষয়ে যাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি বা তারাই বিষয়টি ভাল বলতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন। তবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাও জানাতে পারেননি তারা।