কুষ্টিয়ায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৬জনের যাবজ্জীবনসহ অর্থদন্ডাদেশ আদালতের

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ  কুষ্টিয়া মডেল থানা ও কুমারখালী থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৬জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহষ্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত-১এর বিচারক তাজুল ইসলাম এবং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম  জনাকীর্ণ আদালতে সাজাপ্রাপ্Í আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

রায়ে কারাদন্ডসহ ২৫হাজার টাকা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সাজার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ডা: সানাউর রহমান (৫৭)কে হত্যায় চাঞ্চল্য সৃষ্টির মামলায় যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর গ্রামের বাসিন্দা মজিবর রহমান ব্যাপারীর ছেলে আজিজুল ইসলাম (২৫), আব্দুর রহমান ওরফে কালা কাজীর ছেলে সাইজুদ্দিন কাজী (৩০), কবুরহাট দোস্তপাড়ার আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে জয়নাল সরদার (৩৮) এবং খাজানগর মাদ্রাসাপাড়ার আজিজুল হক খানের ছেলে সাইফুল ইসলাম খান (৩০)।

অপরদিকে কুমারখালী থানার ব্যবসায়ী রিয়াজুল উপজেলার বাড়াদি গ্রামের বাসিন্দা মৃত: আইনুদ্দিন বিশ^াসের ছেলে সিফাত বিশ^াস (৫০) এবং ভাতিজা মৃত: জয়েন বিশ^াসের ছেলে ওয়াসিম আলি (৩৭)।

আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মে, সকাল পৌনে ১০টায় সদর উপজেলার মৃত: বজলুর রহমানের ছেলে হোমিও চিকিৎসক মীর সানাউর রহমান (৫৭) তার সহযোগী কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: সাইফুজ্জামানসহ নিজ দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র বটতৈল শিশির মাঠ এলাকায় পৌছালে পিছন থেকে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালায়। আসামীরা ধারালো চাপাতিসহ রড ও লাঠিসোটা ব্যবহার করে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা টের পেলে গুরুতর রক্তাক্ত জখম আহত দুইজ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মীর সানাউর রহমানকে মৃত ঘোষনা করে। গুরুতর আহত ইবি শিক্ষক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। এঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মীর আনিসুর রহমান বাদি হয়ে ২১ মে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক আজিজুর রহমান আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক উস্কানী থেকে কতিপয় ধর্মান্ধ ব্যক্তিদের দ্বারা ঘটেছে বলে রহস্য উন্মোচিত হয়েছে মন্তব্য করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।  

অপরদিকে ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল বিকাল ৫টার সময় কুমারখালী থানার বাড়াদি গ্রামে প্রতিবেশী ব্যবসায়ী বিয়াজুল (৫৫) কে উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দের জেরে প্রতিবেশীর হামলায় ও ধারালো চাকুর আঘাতে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। এঘটনায় নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৪ এপ্রিল কুমারখালী থানায় ৯জনের নামোল্লেখসহ হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে কুমারখালী থানা পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক দীলিপ কুমার বিশ^াস ২০১৭ সালে ১০ সেপ্টেম্বর আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে জড়িত বলে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন আদালতে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের সরকারী কৌসুলি এ্যাড. রফিকুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ী রিয়াজুল হত্যা মামলায় স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে দুই আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ১০হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬মাসের কারাবাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হোমিও ডাক্তার সানাউর রহমান হত্যা মামলায়  পুলিশের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে দীর্ঘ স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে ৪ আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডসহ প্রত্যেকের পৃথক ভাবে ২৫হাজার টাকা করে অর্থ দন্ডাদেশ অনাদায়ে আরও ১বছরের সাজা দন্ডাদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।