রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব-এঁর ৯২ তম জন্মদিন পালিত

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ৮ আগষ্ট ২০২২ খ্রি. সোমবার বেলা ১১.০০ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী মহীয়সী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব-এঁর ৯২তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা সভা আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক সহযোগে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পালিত হয়।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার সরকার-এঁর অসুস্থতাজনিত কারনে তাঁর অনুমতিক্রমে অত্র দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আমানুল হাসান দুদু। সার্বিক পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব-এঁর ৯২ তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আজকের দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিমন্ডলীঃ-মোঃ আমানুল হাসান দুদু, এ্যাড. ইব্রাহিম হোসেন, অধ্যক্ষ (অবঃ) মোঃ আমজাদ হোসেন নবাব এবং আলহাজ্ব মোঃ জাকিরুল ইসলাম সান্টু।
সম্পাদক মন্ডলীঃ-সাংগঠনিক সম্পাদক মন্ডলী-এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান আসাদ, এ্যাড. মোঃ আব্দুস সামাদ মোল্লা এবং মোঃ আলফোর রহমান, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ কুমার প্রতীক দাস রানা, দপ্তর সম্পাদক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা উপাধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল করিম শিবলী, শ্রম বিষয়ক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান, উপ-প্রচার সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান।
সদস্যমন্ডলীঃ-মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদশা, মোঃ নকিবুল ইসলাম নবাব, অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম ফারুক, আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন ডাবলু, মোঃ রবিউল ইসলাম এবং প্রভাষক রোখসানা মেহবুব চপলা। চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন, পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ(অবঃ)মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ খান, জেলা যুবলীগ সভাপতি মোঃ আবু সালেহ এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী আজম সেন্টু, জেলা কৃষকলীগ আহবায়ক অধ্যক্ষ মোঃ তাজবুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব বিমল সরকার, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা নার্গিস শেলী এবং সাধারণ সম্পাদক বিপাশা খাতুন, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক এম. মিজানুর রহমান রানা, জেলা তাঁতীলীগ সভাপতি মোঃ মাজদার রহমান মকুল এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাইনুল ইসলাম, জেলা মৎস্যজীবী লীগ আহবায়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ সাকিবুল ইসলাম রানা এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন অমি প্রমুখ নেতা-কর্মী-সমর্থকবৃন্দ।

দোয়া পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ রেজওয়ানুল হক পিনু মোল্লা।

আজকের দোয়া অনুষ্ঠানের সভাপতি অর্থাৎ রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আমানুল হাসান দুদু এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা তাঁদের বক্তৃতায় মহীয়সী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব-এঁর জীবনকর্ম তুলে ধরে বলেন…..
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত না থেকেও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস ছিলেন বেগম মুজিব। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি জাতির পিতার পাশে থেকে দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। তাঁর কর্মের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন একটি সংগ্রামমুখর জীবনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যে জীবন কোটি জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের সাথে দ্বিধাহীনভাবে যুক্ত হয়েছিল ত্যাগ ও নিপীড়ন মোকাবেলা করবার দীপ্ত প্রতিজ্ঞায়। আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, বেগম মুজিব সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বলেছেন-“আমার স্ত্রীর মতো সাহসী মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। আমাকে যখন পুলিশ এসে জেলে নিয়ে যায়, আমার উপর নানা অত্যাচার করে, আমি কবে ছাড়া পাব বা কবে ফিরে আসব ঠিক থাকে না, তখন কিন্তু সে কখনো ভেঙে পড়েনি। আমার জীবনের দুটি বৃহৎ অবলম্বন। প্রথমটি হলো আত্মবিশ্বাস, দ্বিতীয়টি হলো আমার স্ত্রী আকৈশোর গৃহিণী”।
তাঁরা বলেন, ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধু যে পরিবেশ ও পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছেন, শেখ ফজিলাতুন নেছাও সেই একই পরিবেশে বড় হয়েছেন, এমনকি একই পরিবারে। স্বাভাবিকভাবেই মুজিবের আদর্শ, তাঁর সহজাত মানসিকতা, সাহস ও আত্মবিশ্বাসী সত্তা দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন। সেই কিশোরী বয়স থেকে সকল ক্ষেত্রে স্বামী মুজিবকে সমর্থন করার বিষয় তাঁর মধ্যে পূর্ণদমে লক্ষ্য করা যায়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে তিনি প্রশ্নহীনভাবে সমর্থন দিয়েছেন, মনোবল ও সাহস জুগিয়েছেন, অপরিসীম প্রেরণা জুগিয়েছেন। এর সবই তিনি করে গেছেন একান্ত নিভৃতে থেকে।

মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর চাচাতো ভাই ছিলেন। শেখ ফজিলাতুন নেছার ডাকনাম ছিল রেনু। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি পিতা-মাতা উভয়কেই হারান। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর থেকে তিনি হবু-শাশুড়ি এবং বঙ্গবন্ধুর মাতা সায়েরা খাতুনের কাছে সন্তানের মতো বড় হতে থাকেন। পিতামহের ইচ্ছায় ১৯৩৮ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। যদিও তাঁদের সংসারজীবন শুরু হয়েছিল অনেক পরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন কলকাতায় পড়াশোনা করতেন। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় এবং দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর স্বামী যখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিভিন্নভাবে মানুষের সেবা করেছেন, তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে নেপথ্য সমর্থন দিয়ে গেছেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা। এমনকি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের প্রচারণা ও সার্বিক কর্মকাণ্ডে অপরিসীম সহযোগিতায় বেগম মুজিবকে একান্তভাবে যুক্ত থাকতে দেখা যায়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠন করতে রাস্তায় নেমে লিফলেট বিতরণ করেছেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

আজকের সভার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক তাঁদের বক্তৃতায় বলেন, বঙ্গমাতার জ্যেষ্ঠকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র লেখায় পাওয়া যায়-“বঙ্গবন্ধু জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো কারান্তরালে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। তাঁর অবর্তমানে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দলকে সংগঠিত করা, আন্দোলন পরিচালনা করা সহ প্রতিটি কাজে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বেগম মুজিব। তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের বলিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন নেপথ্যে থেকে। তাঁর স্মরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল, আন্দোলন চলাকালীন প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় সাক্ষাৎকারের সময় বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ নিয়ে আসতেন। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সেই নির্দেশ জানাতেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চোখ বাঁচিয়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতেন। আবার আওয়ামী লীগের কার্যকরী সংসদের সভা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে চলাকালীন তিনি নিজের হাতে রান্নাবান্না করতেন এবং খাদ্য পরিবেশন করতেন। এ সংগঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করার কাজে তার অবদান অপরিসীম। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চক্ষু বাঁচিয়ে সংগঠনকে সংগঠিত করতেন, ছাত্রদের নির্দেশ দিতেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেন। দিনের পর দিন বঙ্গবন্ধুর কারাগারে থাকা অবস্থায় বেগম মুজিব শত সংকট মোকাবেলা করে সংসার সামলে ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করেছেন, তাদের পড়াশোনা করিয়েছেন। কোনদিন স্বামীর প্রতি এতটুকু অভিযোগ করাতো দূরে থাক, সবসময় আপসহীন থেকে তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্যের পানে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন বঙ্গমাতা”।

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা তাঁর বক্তৃতায় আরও বলেন, মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বঙ্গমাতার কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তারা বলেন, শেখ রেহানা লিখেছেন-“জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দেখে আসছি, আমার বাবা কারাবন্দি। মা তাঁর মামলার জন্য উকিলদের সঙ্গে কথা বলছেন, রাজবন্দি স্বামীর জন্য রান্না করে নিয়ে যাচ্ছেন, গ্রামের শ্বশুর-শাশুড়ি ও আত্মীয়স্বজনের খবরাখবর রাখছেন। আবার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, যারা বন্দি তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে টাকাও পাঠিয়ে দেন। কারাগারে দেখা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে বাইরের সব খবর দিচ্ছেন এবং তাঁর কথাও শুনে আসছেন। কাউকে জানানোর থাকলে ডেকে জানিয়েও দিচ্ছেন। এরপর আছে তাঁর ঘর-সংসার। এরমধ্যে ছেলেমেয়েদের আবদার, লেখাপড়া, অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা সবকিছুর প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হয়। এতকিছুর পরও তাঁর নিজের জন্য সময় খুঁজে নিয়ে তিনি নামাজ পড়ছেন, গল্পের বই পড়ছেন, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গল্প করছেন। এক ভীষণ দায়ভার বহন করেছেন বঙ্গমাতা! ধীর-স্থির এবং প্রচণ্ডরকম সহ্যশক্তি তাঁর মধ্যে ছিল। বিপদে, দুঃখ-বেদনায় কখনো ভেঙে পড়তে দেখিনি। বরং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে চেষ্টা করেছেন-এটাই ছিল তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা, তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ”।

২৩ মার্চ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে সারাদেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগের দিন ২২ মার্চ রাতে খেতে বসে বঙ্গবন্ধুকে চিন্তাক্লিষ্ট দেখে বেগম মুজিব জানতে চেয়েছিলেন- “পতাকা ওড়ানোর ব্যাপারে কি কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন?” বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- “না, নিতে পারিনি। আমি পতাকা ওড়াতে চাই। একটাই ভয়, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এখনো ঢাকায় অবস্থান করছে। পাকিস্তানিরা বলবে, আলোচনা চলা অবস্থাতেই শেখ মুজিব নতুন পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এ অজুহাত তুলেই তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর সামরিক হামলা চালাবে।” এ অবস্থায় বেগম মুজিব পরামর্শ দিয়েছিলেন-“আপনি ছাত্র নেতাদের বলুন আপনার হাতে পতাকা তুলে দিতে। আপনি সেই পতাকা বত্রিশ নম্বরে ওড়ান। কথা উঠলে আপনি বলতে পারবেন, আপনি ছাত্রজনতার দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন।” বঙ্গবন্ধু আর কোনো কথা না বলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দেন, পরদিন ২৩ মার্চ তিনি ৩২ নম্বরে স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়াবেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা সেই ঘোষণায় উৎফুল্লচিত্তে জয় বাংলা স্লোগানে মুখর করে তোলে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা অনুযায়ী পরদিন পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে এবং র‌্যালি করে সেই পতাকা ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে হস্তান্তর করে। সেদিন সচিবালয় থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের সমস্ত সরকারি বেসরকারি অফিস ও বাসাবাড়িতে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এর আগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আগে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল এবং দলীয় নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন পক্ষের নানামুখী প্রস্তাব ও পরামর্শে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া না দেওয়া নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বঙ্গবন্ধুকে তিনি কারও পরামর্শ না শুনে নিজে যা সঠিক মনে করেন, তাই বলতে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেখানে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবেনা। বঙ্গবন্ধু তাই করেছিলেন। এমনই ধী-শক্তিসম্পন্ন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের কন্টকাকীর্ণ পথে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান ও গুরুত্ব নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়ার কথা তা হয়নি। দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অসীম ত্যাগ এবং মহতী কর্মের সাথে পরিচয় ঘটানোর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেগম ফজিলাতুন নেছাকে তুলে ধরার আহবান রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাঁর বক্তৃতায়। নেতৃবৃন্দ গভীর কষ্টের সাথে বলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের মতো মহীয়সী নারীও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ৭৫ ‘এর ১৫ আগস্টের কালোরাতে দুস্কৃতকারীদের হাতে শহীদ হন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব-এঁর ৯২.তম জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন সহ দোয়া/প্রার্থনা করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী এবং সমর্থকবৃন্দ।

উল্লেখ্য-রাজশাহী জেলাধীন সকল উপজেলার সকল সাংগঠনিক স্তরে স্ব-স্ব উপজেলাধীন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে মতিবিণিময় সহ সমন্বয়পূর্বক আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক সহযোগে একই কর্মসূচি পালন করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক’কে যথাসময়ে আহবান জানানো হয়েছে।