আসাম থেকে বাংলাদেশ হয়ে জ্বালানি যাবে ত্রিপুরায়

এশিয়ার বাজারে

বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতীয় পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিকেন্ট ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ওই অনুমতি দেয়।

গতকাল বুধবার ঢাকায় ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) এবং বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মধ্যে এসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী কালের কণ্ঠকে বলেছেন, এমওইউটি স্বাক্ষরের দিন থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর আওতায় আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিকেন্ট ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করতে পারবে। রাস্তা ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশকে প্রতি কিলোমিটারে টনপ্রতি এক টাকা ৮৫ পয়সা মাসুল দেবে আইওসিএল। এ ছাড়া আরো ফি রয়েছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, এর আগে ২০১৬ সালে এ ধরনের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য আসাম থেকে ত্রিপুরায় পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অনুমতি দেয়।

ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, এ বছর ভারি বর্ষায় উত্তর-পূর্ব ভারতের রাস্তার অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে আসামের মধ্য দিয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য ত্রিপুরা, দক্ষিণ আসাম ও মিজোরামে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য একটি জরুরি বিকল্প পথের প্রয়োজন হয়।

গতকাল সই হওয়া সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করে ভারতের মোটর স্পিরিট, হাই-স্পিড ডিজেল, সুপিরিয়র কেরোসিন তেল এবং তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসসহ পেট্রোলিয়াম পণ্যের চলাচলের সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পেট্রোলিয়াম/এলপিজি রোড ট্যাংকারের এই চলাচল অস্থায়ী। শুধু কয়েক মাসের স্বল্প সময়ের জন্য। বিকল্প সরবরাহ রুটের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এ ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা স্মারকটির মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত। এমওইউতে কিছু প্রশাসনিক ফি, চার্জ, স্থানীয় মাসুল এবং রাস্তা ব্যবহারের জন্য প্রতি কিলোমিটারে টনপ্রতি এক টাকা ৮৫ পয়সা খরচসহ অন্যান্য খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমওইউর আওতায় ডাউকি-তামাবিল-সিলেট-মৌলভীবাজার/ব্রাহ্মণবাজার-শমশেরনগর-চাতলাপুর-কৈলাশর রুট ব্যবহার করে ভারতীয় যানবাহন চলাচল করবে। পেট্রোলিয়াম/এলপিজি রোডের ট্যাংকারগুলো যথাক্রমে ডাউকি-তামাবিল এবং চাতলাপুর-কৈলাশর দিয়ে সিল করা অবস্থায় ঢুকবে ও বের হবে। ট্যাংকারগুলো বাংলাদেশে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে।