শৈলকুপায় হিন্দু বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা

 

ভিনিউজ-ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রতন চন্দ্র কুন্ডু বাদী হয়ে শৈলকুপায় থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৩২ জনকে এজাহারনামীয় ও ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। গ্রামে পুলিশ টহল বাসানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী বগুড়া ইউনিয়নে মেম্বর মো. ফরিদ মুন্সিকে। আসামিদের বাড়ি বগুড়া ও রত্নাঘাট গ্রামে। ঘটনাস্থল থেকে ৬–৭ কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনার নেপথ্যে চাঁদাবাজিও রয়েছে। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে প্রথমে চায়ের দোকানদার দেব কুমারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর তাকে মারপিঠ শুরু করে। সার ব্যবসায়ী বিকাশ মন্ডল লাঙ্গলবাঁধ বাজার থেকে ফিরছিলেন। তার কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তাকেও মারপিট করে। হামলাকারীরা বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ করে। ত্রাস সৃষ্টি করে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে।

মামলার বাদী রতন চন্দ্র কুন্ডু বলেন, মাঝেমাঝে সন্ত্রাসীরা এ গ্রামে এসে চাঁদা দাবি করে। না পেয়ে বকাবকি করে। চাঁদাবাজির কারণে এ হামলার হয়েছে। সোমবার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শৈলকুপা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই ঘটনাস্থলে যান। তিনি আমাদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দেন। আর অপরাধীদের বিচার করা হবে বলে জানান। তার সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা ছিলেন।’

শৈলকুপায় আট হিন্দুবাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ১৫শৈলকুপায় আট হিন্দুবাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ১৫।
পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালায়।’

উল্লেখ্য, রবিবার রাতে কামারিয়া গ্রামে সন্ত্রাসীরা ৮টি হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে। তাদের হামলায় নারীসহ ১৫ জন আহত হন।