আগামী জুনের মধ্যে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেল চলাচল শুরু হবে : রেলমন্ত্রী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি – রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেল চলাচল শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে রেল মন্ত্রণালয়।
তিনি আরো জানান, এছাড়া পদ্মা সেতুর সঙ্গে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে ।
রেলপথ মন্ত্রী আজ সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর দেশব্যাপী প্রদর্শনের শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ডি.এন. মজুমদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মঞ্জুর উল আলম চৌধূরী, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা বক্তব্য রাখেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যেই এই রুটে রেল চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ৬৪ জেলায় রেল নেয়ার পরিকল্পনা করেন। সে লক্ষ্যে ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে রেল এগিয়ে যাচ্ছে। গত ১২/১৩ বছরে দেশে রেলের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। রেল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। রেলে গতি এসেছে।
রেল দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা অন্য কোন সংস্থার তৈরি করা রাস্তা রেললাইন অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়া উচিত। সব দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষের উপর ছেড়ে না দিয়ে নিজেদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর দেশব্যাপী প্রদর্শন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানাতে এটি আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এ প্রদর্শনী চলবে। এরপর অন্য জায়গায় এটি চলে যাবে। এভাবে এটি পশ্চিমাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রদর্শন করা হবে।
পরে তিনি ফিতা কেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরের প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় নেতৃবৃন্দ জাদুঘরের প্রদর্শনীতে জাতির পিতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং নানা আন্দোলন সংগ্রাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র ও ভিডিও ডুকুমেন্টেশন ঘুরে দেখেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রেলের বগিতে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরটি নির্মাণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। একটি মিটারগেজ ও একটি ব্রডগেজ কোচে একই জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে।
দুটি কোচের একটি থাকবে দেশের পূর্বাঞ্চলে অন্যটি থাকবে পশ্চিমাঞ্চলের রেলস্টেশনে। জাদুঘরটি কোন রেলস্টেশনে কত দিন থাকবে রোববার এর একটি শিডিউল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
শিডিউল অনুযায়ী, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে একটি জাদুঘর থাকবে ১ থেকে ৫ আগস্ট, ভাটিয়ারী স্টেশনে থাকবে ৫ থেকে ৭ আগস্ট, সীতাকুন্ড স্টেশনে থাকবে ৭ থেকে ৯ আগস্ট, চিনকিআস্তানা স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১১ আগস্ট, ফেনী জংশনে থাকবে ১১ থেকে ১৫ আগস্ট, গুণবতী স্টেশনে থাকবে ১৪ থেকে ১৭ আগস্ট, নাঙ্গলকোট স্টেশনে থাকবে ১৬ থেকে ১৯ আগস্ট, লাকসাম জংশনে থাকবে ১৮ থেকে ২৩ আগস্ট, চৌমুহনী স্টেশনে থাকবে ২৪ থেকে ২৫ আগস্ট, মাইজদীকোর্ট স্টেশনে থাকবে ২৬ থেকে ২৭ আগস্ট, নোয়াখালী স্টেশনে থাকবে ২৮ থেকে ২৯ আগস্ট, চাঁদপুর স্টেশনে থাকবে ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা স্টেশনে থাকবে ২ থেকে ৪ নভেম্বর, আখাউড়া স্টেশনে থাকবে ৫ থেকে ৮ নভেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১০ নভেম্বর, ভৈরব স্টেশনে থাকবে ১১ থেকে ১২ নভেম্বর, নরসিংদী স্টেশনে থাকবে ১৩ থেকে ১৪ নভেম্বর, টঙ্গী জংশনে থাকবে ১৫ থেকে ১৬ নভেম্বর এবং ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে থাকবে ১৭ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
অন্যদিকে আরেকটি কোচ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের গোপালগঞ্জ স্টেশনে থাকবে ১ থেকে ৫ আগস্ট, কাশিয়ানী স্টেশনে থাকবে ৬ থেকে ৭ আগস্ট, ভাটিয়াপাড়া ঘাট স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১০ আগস্ট, মধুখালী জংশনে থাকবে ১২ থেকে ১৩ আগস্ট, রাজবাড়ী স্টেশনে থাকবে ১৫ থেকে ১৭ আগস্ট, ফরিদপুর স্টেশনে থাকবে ১৯ থেকে ২০ আগস্ট, পাংশা স্টেশনে থাকবে ২২ থেকে ২৩ আগস্ট, কুমারখালি স্টেশনে থাকবে ২৫ থেকে ২৬ আগস্ট, কালুখালী জংশনে থাকবে ২৮ থেকে ২৯ আগস্ট, কুষ্টিয়া স্টেশনে থাকবে ৩০ থেকে ৩১ আগস্ট, খুলনা স্টেশনে থাকবে ২ থেকে ৭ নভেম্বর, দৌলতপুর স্টেশনে থাকবে ৯ থেকে ১০ নভেম্বর, নোয়াপাড়া স্টেশনে থাকবে ১২ থেকে ১৩ নভেম্বর, যশোর স্টেশনে থাকবে ১৫ থেকে ১৮ নভেম্বর, বেনাপোল স্টেশনে থাকবে ২০ থেকে ২১ নভেম্বর, নাভারণ স্টেশনে থাকবে ২২ থেকে ২৩ নভেম্বর, মোবারকগঞ্জ স্টেশনে থাকবে ২৫ থেকে ২৬ নভেম্বর, দর্শনা স্টেশনে থাকবে ২৮ থেকে ২৯ নভেম্বর এবং চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে থাকবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।