প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের আশা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে রামপাল তাপ বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধনের আশা করছে বাংলাদেশ। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র উদ্বোধন হচ্ছে—ভারতের সংবাদমাধ্যমের এমন খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আন্ত মন্ত্রণালয় সভা করে দেখব, কী কী করা যাবে।

এটা (রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র) ‘ওয়ান অব দ্য উইশলিস্ট’ (প্রত্যাশার তালিকায় অন্যতম) হিসেবে আছে। ’

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসে গতকাল রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তিন দিনের সফরে ভারতে যেতে পারেন। তখন তিনি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৩২০ মেগাওয়াট ‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার স্টেশন’ যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুেকন্দ্র। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করছে ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড’। ভারতের এনটিপিসি এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে এটি একটি ৫০:৫০ যৌথ উদ্যোগ। প্রকল্পটির মূল্য ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময় ভারত সফর করবেন এবং দুই থেকে তিন দিন অবস্থান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মোদি সরকার এই সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ ঢাকা ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে পৌঁছানোর আগে কলকাতা-চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দরের মধ্যে ‘ট্রায়াল রান’ বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে। এর আওতায় কলকাতা থেকে নৌযান আগামী ৫ আগস্ট মোংলা বন্দরে পৌঁছাবে। সেই নৌযানের একটি কনটেইনারে ১৬ টন লোহার পাইপ ও আরেকটি কনটেইনারে সাড়ে আট টন প্রি-ফোম থাকবে। লোহার পাইপভর্তি কনটেইনারটি তামাবিল-ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে যাবে। প্রি-ফোমভর্তি কনটেইনারটি বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর সীমান্ত দিয়ে আসাম রাজ্যে যাবে। এর মাধ্যমে কলকাতা-চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ছাড়াও ভারতের জন্য কম খরচে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য আনা-নেওয়ার বিকল্প পথ তৈরি হবে।