বেসামরিকদের পূর্বাঞ্চল ছাড়ার নির্দেশ দিলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন দোনেৎস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে এখনো বসবাসরত সকল বেসামরিক নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

কিয়েভ থেকে গভীর রাতে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি যুদ্ধের তীব্রতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন যত বেশি মানুষ দোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে যাবে, রুশ সেনাবাহিনী তত কম লোককে হত্যা করতে পারবে।

রুশ বাহিনীর ধীরগতির অগ্রগতির মধ্যেই ওই অঞ্চলে ব্যাপক লড়াই চলছে।

রুশরা ইতিমধ্যে সেখানকার বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা যতটা সম্ভব জীবন বাঁচাতে এবং যতটা সম্ভব রুশ সন্ত্রাস সীমিত করতে সব ধরনের সুযোগ ব্যবহার করব। ‘

এদিকে রাশিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ আখ্যায়িত করেছে ইউক্রেন। ব্রিটেনে নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাস এক টুইট বার্তায় বলেছে, ইউক্রেনীয় আজভ ব্যাটালিয়নের সৈন্যদের ফাঁসিতে ঝুলে ‘অপমানজনক মৃত্যু’ই প্রাপ্য। দূতাবাস থেকে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাশিয়ার কঠোর সমালোচনা করল কিয়েভ।   

বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়ার হেফাজতে থাকা ৫০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দি নিহত হওয়ার পর জানা যায়, নিহতদের মধ্যে আজভ সৈন্যরা রয়েছে। হামলার ব্যাপারে ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরকে দোষারোপ করেছে।

রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্কের একটি কারাগারে হামলায় তারা নিহত হয়। মস্কো-কিয়েভ পরস্পরকে দোষারোপের মধ্যেই রুশ দূতাবাস ওই টুইটটি করেছে।

ব্রিটেনের রুশ দূতাবাস টুইটারে জানায়, আজভ যোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য। তবে এই মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে নয়, বরং ফাঁসি দিয়ে কার্যকর করা উচিত। কারণ তারা সত্যিকারের যোদ্ধা নয়। অপমানজনক মৃত্যু তাদের প্রাপ্য।

মারিউপোলে ইউক্রেনের শেষ দুর্গ আজভস্তাল ইস্পাত কারখানার পতনের পর সেখানে অবস্থানরত এক হাজারের বেশি যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করে। তাদেরকে ধরে নিয়ে গেছে রুশ সেনারা।

দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার হাতে থাকা বন্দিদের প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের তদন্ত চেয়েছে ইউক্রেন। জাতিসংঘ এবং রেড ক্রস কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাশিয়া।

শনিবার বিকেলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবন্দি নিহতের ব্যাপারে তদন্ত হলে স্বাগত জানাবে মস্কো।

সূত্র : বিবিসি