বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ হবে জনগণের রাষ্ট্র : ফখরুল

সরকার দেশের গোটা সড়ক ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহতের প্রসঙ্গ টেনে আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহের চমৎকার স্যুট-কোট পরে খুব সুন্দর করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেটা করছে সেটা অতীতে কখনো হয় নাই। ‘ আপনি তো আজকে গোটা সড়ক ব্যবস্থাকে একটা নৈরাজ্যের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন।

প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। গতকাল ১১ জনকে ট্রেন এসে ধাক্কা দিয়ে সবাইকে হত্যা করেছে। এ রকম অসংখ্য নজির প্রতিদিন আমরা দেখাতে পারি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে দেশের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা আশা করেছিলাম গণতান্ত্রিক একটা দেশ পাব, আমরা আশা করেছিলাম এখানে একটা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। কিন্তু সব কিছু আওয়ামী লীগ চুরি, ডাকাতি, লোভের কারণে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই কর্তৃত্ববাদী শাসন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে, বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা একদম রসাতলে চলে গেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, যে দল জনগণকে স্বপ্ন দেখায়। নিঃসন্দেহে জনগণের আন্দোলনে জয়লাভ করে যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে অবশ্যই এসব সমস্যার সমাধান করব এবং এই দেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শপথ নিতে হবে যে এই ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের জন্য এক দফা, এক দাবি। বাংলা সাহিত্যে একটা খনার বচন আছে- ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়। ‘ এই যে আমরা কষ্ট পাচ্ছি এর জন্য দায়ী শেখ হাসিনার সরকার।

এত লোড শেডিং কেন প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, যখন তারা ক্ষমতায় বসল বলেছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে এবং এখন যা হিসাব দেখায় তাতে দেখা যায়, প্রয়োজনের অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশ এখন তৈরি করেছে। কিন্তু তবে এত লোড শেডিং কেন? কারণ হচ্ছে-দুর্নীতি-চুরি, মেগা চুরি।

তিনি বলেন, আজ পত্রিকায় খবর দেখলাম আমাদের সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য আমরা একটা সারজার্চ দিই, পয়সা দিই। তা দিয়ে একটা ফান্ড তৈরি করেছিল। সেটার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা এই সরকার গ্যাস কেনার জন্য নিয়ে গেছে। এটা আরেক বাটপাড়ি, আরেকটা ডাকাতি।

লোড শেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। লোড শেডিংয়ের প্রতিবাদ জানাতে দক্ষিণ মহানগণের নারীকর্মীরা হারিকেন নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় আলোচনাসভায় মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, সেলিমুজ্জামান সেলিম, মীর নেওয়াজ আলী, সাইফুল আলম নিরব, মহানগর দক্ষিণের হাবিবুর রশীদ হাবিব, ইশরাক হোসেন, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, যুবদলের মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মহিলাদলের সুলতানা আহমেদ, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, সুমন ভুঁইয়া, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য দেন।