মন্ত্রিত্ব হারালেন পার্থ, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার ৬ দিন পর অবশেষে মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারিত হলেন মমতার মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়। 

বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নের পক্ষ থেকে মুখ্য সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বীবেদীর স্বাক্ষর করা একটি বিবৃতি জারি করে এই কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। 

শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি পরিষদীয় এবং তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সে ক্ষেত্রে ওই তিনটি দপ্তর থেকেই সরিয়ে দেওয়া হলো পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। আপাতত ওই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই নিজের হাতে রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 

 

উল্লেখ্য, এই দুর্নীতি মামলায় গত ২২ জুলাই মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। আদালতের নির্দেশের বর্তমানে ইডি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। ওই দিন পার্থ চ্যাটার্জির দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে তদন্ত চালায় ইডির কর্মকর্তারা। কিন্তু তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

পার্থর সাথেই গ্রেফতার হয় তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নারী মডেল ও অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এখনো পর্যন্ত কলকাতার টালিগঞ্জ এবং কলকাতা লাগোয়া বেলঘরিয়ার রথতলা এলাকায় দুইটি আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় পঞ্চাশ কোটি রুপি উদ্ধার করে ভারতের ইডির কর্মকর্তারা। 

এদিকে, বিকালে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প বোর্ডের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, পার্থদার কাছে যে যে মন্ত্রণালয় গুলো ছিল সেগুলো আমার কাছে আসছে। আমি হয়তো কিছুই করবো না। কিন্তু যেহেতু নতুন করে যতক্ষণ না মন্ত্রিসভা গঠন করছি… পার্থ দা কে রিলিভ করেছি। তারপর এই মন্ত্রণালয়গুলো আমার কাছে এসেছে।” 

তবে মন্ত্রিত্ব সামলানোর পাশাপাশি দলের মহাসচিব পদে বহাল রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তিনি। সে ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, অর্থাৎ দল থেকে তাকে অপসারিত করা হয় কিনা সেটাই এখন দেখার। 

বৃহস্পতিবার বিকালেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বৈঠক আছে। আপাতত সেদিকে তাকিয়ে আছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।