বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা কখনো স্থান পাবে না: বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ভিনিউজ-বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ মনে করে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলেই বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা কখনো স্থান পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে তাদেরকে সনাক্ত করে যথাযথ শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।

শনিবার ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সম্প্রতি নড়াইলে ফেসবুকে একটি মন্তব্যের জের ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলার প্রেক্ষপট তুলে ধরতে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে , উন্নয়নের নানা সূচকে আমূল পরিবর্তন ঘটছে, ঠিক তখনই একটি মহল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

আজকের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। কে হিন্দু , কে মুসলিম বাংলাদেশের জনগণ সেটি বড় করে দেখে না। তারা মনে করে আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশ। এখানে কোন সাম্প্রদায়িকতা স্থান পায়নি, কখনো দেয়াও হবে না। যারা উস্কানি দিয়ে এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ সরকার।

দেশে সাম্প্রদায়িক উস্কানির ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে না পারে সেদিকে সরকারের নজর রয়েছে।

‘ইমোশন কাজে লাগিয়ে একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়’ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘একটি ছেলের ফেসবুকের পোস্ট দেখে আবেগের (ইমোশনাল) বশবর্তী হয়ে নড়াইলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে সব ধর্মের প্রাধান্য রয়েছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাইকে নিয়ে আমাদের দেশ। আমরা জাতি হিসেবে অত্যন্ত ইমোশনাল।’

ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার জেরে সম্প্রতি নড়াইলের দিঘলিয়ার সাহাপাড়ায় দুটি বাড়িতে ভাঙচুর হয়। একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বাজারের তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় ইতমধ্যে গ্রেপ্তার ৫ জনকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

নড়াইলের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাঝে মাঝে যেকোনো ভাবেই দু-একটি উক্তি চলে আসে এবং এগুলো পুঁজি করে ইমোশনালভাবে কিছু ঘটনা ঘটে যায়। আর ইমোশন কাজে লাগিয়ে একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়।’

‘নড়াইলসহ এর আগেও কিছু ঘটনা ঘটেছে। সবগুলো ঘটনাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎক্ষণাৎ অ্যাপ্রোচ করেছে। নড়াইলের ঘটনা যখনই ঘটেছে তখনই ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ছেলেটির বাড়ি প্রটেকশনে ছিল এবং তাকে খোঁজা হচ্ছিল। কিন্তু ছেলেটির ফেসবুকের পোস্ট দেখে একটি গোষ্ঠী ইমোশনাল হয়ে নড়াইলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে , বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইমোশন কাজে লাগিয়ে যারা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় তারা সব জায়গাতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে একটি ছেলে, এতে বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ছেলেটির বাড়ি প্রটেকশন দেয় এবং যারা যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে, তাদের ধরা হয়েছে।

নড়াইলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, নড়াইলের ঘটনায় সবগুলো বিষয় সামনে এনে ইনভেস্টিগেশন চলছে। কে কতখানি সম্পৃক্ত ছিল তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।