গোতাবায়া; যুদ্ধের হিরো থেকে পলাতক প্রেসিডেন্ট

গোতাবায়া রাজাপক্ষে। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দেশটির ক্ষমতায় এসেছিলেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা। রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পরাজিত করতে সক্ষম হওয়ায় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষের মতো জাতির নায়ক হিসেবে বিবেচিত হতেন তিনিও। কিন্তু রাজাপক্ষে পরিবারের পতনের সময়টাতে তারা জাতির চক্ষুশূল হয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট হিসেবে গোতাবায়া ছিলেন বিপুল ক্ষমতার অধিকারী। সেই ক্ষমতাশালী ব্যক্তিই এখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। গতকাল বুধবার তার পদত্যাগ করার কথা ছিল। ভোর হওয়ার আগেই জনরোষের মুখে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। সেখানে থেকে লঙ্কান প্রেসিডেন্টের সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা।

প্রায় দুই দশক কঠোর হাতে শ্রীলঙ্কা শাসন করেছে রাজাপক্ষে পরিবার। মাহিন্দা রাজাপক্ষে দীর্ঘদিন শ্রীলঙ্কা শাসন করেছেন। ২০১৯ সালে মাহিন্দার ভাই গোতাবায়া দেশটির নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু মেয়াদ অবসানের আগেই তাকে পদ ছাড়তে হচ্ছে। 

শ্রীলঙ্কা এখন গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটে নিমজ্জিত। রিজার্ভ সঙ্কটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারছে না দেশটির সরকার। গোতাবায়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরোটা দায় সরকারের নয়। যদিও সরকারের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। 

অনেক ভুল পদক্ষেপের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। বিদেশি ঋণ, বিশাল ঘাটতি মোকাবেলায় অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করার জন্য কর কর্তন বিপদ বয়ে এনেছে। রেটিং এজেন্সিগুলো শ্রীলঙ্কাকে ডিফল্ট লেবেলের কাছাকাছি নামিয়ে দিয়েছে, ফলে বিদেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সুবিধা হারিয়েছে তারা। রিজার্ভ থেকে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। কিন্তু এ পদক্ষেপ জ্বালানি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে। ফলে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।  

মানুষ পরিবারকে খাওয়াতে পারছে না, তাদের গাড়ির জ্বালানি ক্রয় করতে পারছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বালানির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সেখানে আবার পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সুপারমার্কেটের তাকগুলো খালি। ওষুধ সরাবরাহও বিপদজনকভাবে কমে গেছে। এ সবকিছুর জন্যই রাজাপক্ষেদের দায়ী মনে করে মানুষ। গোতাবায়া ও তার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে গত কয়েকমাস ধরেই শ্রীলঙ্কানরা রাস্তায় বেরিয়ে বিক্ষোভ করছে। প্রথমে বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দার পদত্যাগ ঘিরে তা সহিংস হয়ে উঠে। মাহিন্দা বিদায় নিলেও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন গোতাবায়া। রাজাপক্ষে পরিবারের পতন ঠেকাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৩ বছরের গোতাবায়াকেও তার প্রিয় দেশ ছাড়তে হয়েছে।

সূত্র : সিএনএন