পদ্মাসেতুর সুফল: ঈদের তৃতীয় দিনেও কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

পদ্মাসেতুর সুফলে সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

সৈকতে নেচে-গেয়ে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা।  কেউ বা সৈকতের বেঞ্চে বসেই সমুদ্র ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। গঙ্গামতি থেকে লেম্বুর বন, দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতের সকল পর্যটন স্পটেই পর্যটকদের আনাগোনায় পরিপূর্ণ।

কুয়াকাটার সবকটি হোটেল মোটেল বুকিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। পর্যটকের এমন ভিড়ে হাসি ফুটেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

সরেজমিনে শামুক-ঝিনুকের দোকানসহ বিপণিবিতানগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান কুয়াকাটার কুয়া, নারিকেল কুঞ্জ, ইকোপার্ক, জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, সীমা বৌদ্ধবিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল খ্যাত ফাতরার বনাঞ্চল, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর, লেম্বুরচর, শুঁটকি পল্লীসহ সৈকতের জিরোপয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর বেলাভূমি, একাধিক নয়নাভিরাম লেক, সংরক্ষিত বনায়নসহ বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখছেন আগত পর্যটকরা। থেমে নেই সৈকতে ফটোগ্রাফার ও ঘোড়ার দৌড়।

হোটেল মোটেল ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ঈদের লম্বা ছুটি উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসেছেন। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে কুয়াকাটা ভ্রমণে পর্যটকদের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

পূর্বে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢাকা থেকে ফেরি পার হয়ে আসতে হতো। এছাড়া ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটায় যেতে সময় লাগতো ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। এখন পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর মাত্র ৬ ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছাতে পারছেন তারা।

পর্যটক রাসেল মাহমুদ বলেন, কুয়াকাটা হলো প্রিয় একটি স্থান। সময় পেলেই বার বার এখানে ছুটে আসি। এবার খুব অল্প সময়ে কুয়াকাটায় পৌঁছেছি। আরেক পর্যটক তাহমিনা আক্তার বলেন, এর আগেও কুয়াকাটা এসেছি। তখন বেশ কয়েকটি ফেরি পার হতে বিড়ম্বনা পোহাতে হতো। এবার পদ্মা সেতু পার হয়ে মাত্র ৬ ঘণ্টার কম সময়ে কুয়াকাটা আসলাম। হোটেলে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সৈকতে বেরিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘুরে দেখলাম বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট। এর পর শেষ বিকেলে সৈকতে দাড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখবেন বলে জানান তিনি।

তবে এবার হোটেল ভাড়া ও খাবারের মূল্য অনেকটা বেশি রাখা হচ্ছে বলে পর্যটকদের অভিযোগ।

হোটেল সমুদ্র বাড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.শামীম খান বলেন, প্রতিবছর ঈদ ও সরকরি ছুটিতে বাড়তি পর্যটকের আগমন ঘটে কুয়াকাটায়। এ বছর পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ায় প্রথম ঈদে ব্যাপক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তাদের হোটেলের সব রুম বুকিং রয়েছে। রুমের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকদের রুম দিতে পারছেন না বলে জানান তিনি। 

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কুটুমের সাধারণ সম্পাদক মো.হোসাইন আমির বলেন, পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসেছেন। আমরা সর্বক্ষণই তাদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। ছোট-বড় সব মিলিয়ে এখানে ১৬০টি আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। কোনোটা একদিনের জন্য, কোনো কোনো হোটেল দুই থেকে তিন দিনের জন্য বুকিং রয়েছে। আবার কেউ কেউ হোটেলের রুম না পেয়ে বাসা বড়িতে অবস্থান করছেন।

মহিপুর থানার ওসি খোন্দকার মো. আবুল খায়ের বলেন, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই থানা পুলিশের একাধিক টিম পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, আগত পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিমসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারির দায়িত্বে রাখা রয়েছে।