কালিহাতীর তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রাণ মোজহারুল ইসলাম

 

কাজল আর্য:

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মোজহারুল ইসলাম তালুকদার দুইটি সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। তিনি তৃণমূলের অত্যন্ত শক্তিশালী ও জনপ্রিয় সাংগঠনিক নেতা এমনটাই বলছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। মোজহারুল ইসলাম তালুকদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকারী কমিটির সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ জুন বুধবার। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চলছে নানা উদ্যোগ। ২০১৫ সালে এ উপজেলায় সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সভাপতি পদে শুধু মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের একক নামই মাঠে মোনা যাচ্ছে । এটা তার সাংগঠনিক দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ।

মোজহারুল ইসলাম তালুকদার পা থেকে মাথা পর্যন্ত আগাগোড়া একজন পূর্ণাঙ্গ আওয়ামী লীগার। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘ ঠান্ডু ভাই’ হিসেবে সুপরিচিত। রাজনীতি তার ধ্যান-জ্ঞান আর আওয়ামী লীগ তার রসদ। আজীবন সংগ্রামী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাণ পুরুষ। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিকট অভিভাবক এবং আশ্রয়স্থল। তার সুদক্ষ নেতৃত্বেই অত্যন্ত সুসংগঠিত কালিহাতীর আওয়ামী লীগ। উপজেলার পূর্বাঞ্চল মরিচা থেকে পশ্চিমাঞ্চল আফজালপুর এবং দক্ষিণে সুরাবাড়ী থেকে উত্তরে বেতডোবা পর্যন্ত দিনরাত মাঠঘাট চষে বেড়ান। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিটি গ্রাম-মহল্লা এবং দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর ওয়ার্ড-ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সরাসরি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং পরিচিত।

মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ১৯৫০ সালে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের কুরুয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী বাড়ি মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নগরবাড়ীর সম্ভ্রান্ত তালুকদার পরিবারের সন্তান। ১৯৬৭ সালে সিংগুরিয়া স্যার আব্দুল হালিম গজনবী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৯ সালে সরকারি এমএম আলী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭২ সালে ওই কলেজ থেকেই বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সরকারি এমএম কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব, টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং পরে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন। ১৯৯২-৯৮ সালে প্রথম এবং ২০০৩-১১ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বার নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করেন। ২০১৪-২০১৯ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করেন। ১৯৭৪-৭৭ সাল পর্যন্ত কালিহাতী থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, ১৯৭৭-৮৪ সাল পর্যন্ত কালিহাতী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৪-৯০ সাল পর্যন্ত দুইবার কালিহাতী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯০-৯১ সাল পর্যন্ত কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, ১৯৯১-২০১৪ সাল এবং ২০১৪ থেকে চতুর্থ মেয়াদে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি দক্ষতার সাথে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বপালন করছেন। তিনি ১৯৯৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর হয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে উপজেলা-জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেছেন। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধু কর্মী বিশ্বনাথকে হত্যার প্রতিবাদে মিছিল করার সময় কারাভোগের পর (ওঅ) ঋড়ৎস ঈষবধৎধহপব পান। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পর দুই বার গ্রেপ্তার হন এবং দুইবারই সামরিক জান্তার নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন আন্দোলন- সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছেন। মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের নিজ এলাকা নারান্দিয়াসহ পুরো কালিহাতীর শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং একাধিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার রয়েছে অপরীসিম অবদান।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শ প্রচার ও দলকে সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়েও তার সাংগঠনিক সুনাম- গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টবাদী ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসায় এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন।

মোজহারুল ইসলাম তালুকদার সম্পর্কে কালিহাতী পৌর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রিফাত আল খালিদ রিমন বলেন তিনি কালিহাতীর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অভিভাবক। আমাদের সুখে দুখে, বিপদে আপদে ভরসা। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন কালিহাতীর আওয়ামী লীগ ও মোজহারুল ইসলাম তালুকদার দুইটি সমার্থক শব্দ। তিনি তিলতিল করে কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের সুদৃঢ় ভীত গড়ে তুলছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াতের মূর্তিমান আতংক। সুখে দু:খে, বিপদে আপদে আমরা তাকে সব সময় পাশে পাই। কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুর্গাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক বলেন মোজহারুল ইসলাম তালুকদার উপজেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে দীর্ঘদিন যাবত সুসংগঠিত করে রেখেছেন। তার নিরলস পরিশ্রমের ফল আমরা সবাই ভোগ করি এবং করছি। আশা করি দল তাকে মূল্যায়ন করবে। উপজেলার তুণমূল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযেগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা এ প্রবীন দক্ষ রাজনীতিবিদই এবারো বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

সম্মেলন সম্পর্কে মোজহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য। আওয়ামী লীগ করতে গিয়ে আমার রক্ত ঝরেছে , তবুও পিছপা হই নাই। দলকে সুসংগঠিত করতে দুঃসময়-সুসময় যাই বলিনা কেন, দলের সঙ্গে আছি এবং থাকবো। দলীয় নেতাকর্মীরা আমার ভাই-বন্ধু-আত্মার আত্মীয়। তাদের কারো শরীরে জ্বর হলে আমি কষ্ট পাই, তাদের ব্যাথায় ব্যাথাতুর হই বলেই তারা এত দীর্ঘ সময় আমাকে দলের উপজেলার গুরু দায়িত্বে রেখেছেন। তিনি আরো বলেন এবারের সম্মেলনকে সার্বিকভাবে সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা এবং দলের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তই শিরোধার্য।