জিডিপি ৭.৫% প্রবৃদ্ধির আশা

878

করোনা মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অস্থির অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) লক্ষ্য ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এবার নতুন অর্থবছরের জন্য আরও বড় জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।  উত্থাপিত ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কার মধ্যেও কেন এবার বেশি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন, সেই ব্যাখ্যাও বাজেট বক্তৃতায় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চলকসমূহের গতিপ্রকৃতি দেখে প্রতীয়মান হয় যে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ অব্যাহত থাকলেও অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়।

পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারির প্রলম্বিত প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর এল মহামারি। তার মধ্যেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু অর্জিত হয়েছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

মহামারির ধাক্কা সামলে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে। দুঃসময় কাটিয়ে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি এবার ৭ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে যাচ্ছে বলে ধারণা দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস। আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করল সরকার।

বাজেট বক্তৃতায় মুস্তাফা কামাল বলেন, গত ১৩ বছরে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৬ শতাংশ যা ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮ ও ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৭ শতাংশের উপরে ছিল এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৮ শতাংশ অতিক্রম করে। কোভিডকালীন সময়েও ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয় ৬.৯৪ শতাংশ ছিল।