মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, হরমুজ প্রণালিকে সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মিত্র দেশগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি চাই এই দেশগুলো এগিয়ে এসে নিজেদের অঞ্চল রক্ষায় ভূমিকা রাখুক। কারণ এখান থেকেই তারা জ্বালানি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের হয়তো সেখানে থাকার প্রয়োজন নাও হতে পারে, কারণ আমাদের নিজস্ব তেলের অভাব নেই।”
ট্রাম্প জানান, এ পর্যন্ত সাতটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করেছে, যাদের অনেকেই ন্যাটোর সদস্য। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ন্যাটো মিত্রদের পাশে থেকেছে, তাই হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো ‘ছোট উদ্যোগে’ কে সহযোগিতা করবে না—তা দেখা যাবে।
তবে কোন দেশ সরাসরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নেভির সক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছে। যদিও সতর্ক করে বলেন, কয়েকটি মাইন ফেলা বা সীমিত নাশকতাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
চীনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, দেশটি তাদের বিপুল পরিমাণ তেল এই প্রণালির মাধ্যমেই পায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে চীন যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিতে জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি টোকিও। তিনি বলেন, জাপান আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা এখনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়া তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দেশটি হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ওই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহায়তার অংশ হিসেবে বিমান সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান কার্যত এই সরু জলপথে চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।




