সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন, গেজেট বৃহস্পতিবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির ৩৬, জামায়াত জোটের ১২ এবং স্বতন্ত্র জোটের একজনসহ মোট ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বুধবার সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান এ ঘোষণা দেন।

আজ বিকেল চারটার পরে নির্বাচন ভবনে তিনি জানান, ৪৯ জন প্রার্থীর বৈধ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের নাম কমিশনে উপস্থাপন করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এসব সংসদ সদস্যদের নাম, ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে ইসি সচিবালয়। এরপর শপথ আয়োজনের জন্য সংসদ সচিবালয়ে গেজেট পাঠানো হবে। ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (প্রত্যাহারের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) কোনো প্রার্থী প্রত্যাহারের আবেদন করেননি। শূন্য পদের সমান পদে মনোনয়নপত্রও সমান হওয়ায় আইন অনুযায়ী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) গেজেট প্রকাশ করব।’

ইতিমধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে দলটির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র ইসিকে গ্রহণের জন্য বলেছে আদালত।

এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে একজন আপিল করেছেন এমন তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের রায়ের কপি দিয়ে গেছেন। ইসি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে। এখন তা নিষ্পত্তি করা হবে।’

গত ২১ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়। নির্ধারিত সময়ে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন ৫০টি আসনে। বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৪ জন, এর মধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির মনিরা শরামিন ও জোটের বাইরে তিনজন ছিল। বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হয়েছে আজ বুধবার বিকাল চারটায়।

আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রতি আসনের বিপরীতে একক প্রার্থী থাকায় বরাবরের মতো এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন এই ৪৯ প্রার্থী।

এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের একজন যুক্ত হচ্ছেন সংসদে। ফলে একটি আসন শূন্য থাকল।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনে এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তা আর গৃহীত হয়নি। পরে তিনি হাইকোর্টে গেলে মনোনয়নপত্র নেওয়ার জন্য ইসিকে নির্দেশনা দেয় আদালত। অন্যদিকে, জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির মনিরা শারমিন সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাদ পড়েন। নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও তা নামঞ্জুর হয়।

এমন পরিস্থিতিতে একটি নারী আসন শূন্য হলে আসনটির জন্য কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে বা আদালতের আদেশে একজন যুক্ত হওয়ার পর করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি।

পূর্বের খবরলিটারে ৪ টাকা বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম