মাথাব্যথা হলেই মাইগ্রেন নয়, কোন লক্ষণে বুঝবেন আসল সমস্যা

তানজিনা হাসা মৌ

বিশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদন :

রোদ, বৃষ্টি, ঘুমের অভাব কিংবা দীর্ঘ সময় পর্দার সামনে কাজ নানা কারণেই মাথা ধরতে পারে। কিন্তু মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব, আলো-শব্দে অস্বস্তি কিংবা এক পাশে দপদপ করা ব্যথা থাকলে সেটি মাইগ্রেনও হতে পারে। আবার ৫০ বছর বয়সের পর হঠাৎ নতুন ধরনের মাথাব্যথা শুরু হলে বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।

ভিনিউজ : মাথাব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা কমবেশি প্রায় সবারই হয়। কখনও রোদে দীর্ঘ সময় থাকার পর মাথা ধরে, কখনও ঘুম কম হলে, আবার কখনও টানা কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়। ফলে অনেকেই মাথাব্যথা হলেই ধরে নেন, এটি মাইগ্রেন। কিন্তু বাস্তবে সব মাথাব্যথা মাইগ্রেন নয়। সাধারণ মাথাব্যথা, মানসিক চাপ, ঘুমের অনিয়ম, সাইনাসের সমস্যা কিংবা অন্য শারীরিক কারণেও মাথায় ব্যথা হতে পারে।

তাহলে সাধারণ মাথাব্যথা আর মাইগ্রেনের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে বোঝা যাবে?

চিকিৎসক অর্কদ্বীপ বিশ্বাসের মতে, মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রে আকস্মিক বৈদ্যুতিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে কিছু রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে এবং মাথাব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। তবে মাইগ্রেনকে শুধু ব্যথার ধরন দিয়ে চেনা যায় না, এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গও গুরুত্বপূর্ণ।

মাইগ্রেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মাথার এক পাশে ব্যথা। অনেকের ক্ষেত্রে সেই ব্যথা দপদপ করতে থাকে। কারও আবার এক পাশ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে মাথার অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ঘাড়ে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হতে পারে। তীব্র আলো বা জোরালো শব্দে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়া এবং সেই সঙ্গে মাথাব্যথা আরও তীব্র হওয়াও মাইগ্রেনের পরিচিত লক্ষণ।

সাধারণ মাথাব্যথার তুলনায় মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যথা ৮ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

কোন বিষয়গুলো বাড়িয়ে দিতে পারে মাইগ্রেন?

মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অনেকের মাথাব্যথা বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। অতিরিক্ত কফি বা মদ্যপানও কারও কারও ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত আলো, উচ্চ শব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ থেকেও সমস্যা বাড়তে পারে।

তবে প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের উদ্দীপক এক রকম নয়। কারও নির্দিষ্ট খাবারে সমস্যা হতে পারে, কারও ঘুমের অনিয়মে, আবার কারও ক্ষেত্রে পরিবেশের পরিবর্তনে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। তাই কখন, কী কারণে এবং কতক্ষণ মাথাব্যথা হচ্ছে-এসব বিষয় লিখে রাখলে নিজের সমস্যার ধরন বুঝতে সুবিধা হয়।

৫০-এর পর নতুন মাথাব্যথা হলে সতর্ক

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হলে সেটিকে মাইগ্রেন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর হঠাৎ এক পাশে নতুন ধরনের মাথাব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এ ধরনের নতুন মাথাব্যথার পেছনে অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে।

আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ-মাথাব্যথা হলেই বারবার বেদনানাশক ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ ব্যবহার করলে উল্টো ওষুধ-অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা আরও ঘন ঘন হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই মাথাব্যথাকে অবহেলা না করে তার ধরন বোঝার চেষ্টা করা দরকার। ব্যথা কোথায় হচ্ছে, কতক্ষণ থাকছে, কত ঘন ঘন হচ্ছে এবং তার সঙ্গে বমি, আলো বা শব্দে অস্বস্তির মতো উপসর্গ আছে কি না-এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বারবার মাথাব্যথা হলে বা হঠাৎ অস্বাভাবিক ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। সঠিক কারণ জানা গেলে মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণ করাও অনেক সহজ হয়।

পূর্বের খবরজনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ : ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে
পরবর্তি খবরবলিউড : গোবিন্দকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে কটাক্ষ, দীর্ঘ পোস্টে বিস্ফোরক দিব্যা খোসলা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!