ভিনিউজ : হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬ উৎসবের অংশ হিসেবে রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা হলে এ উৎসবের উদ্বোধন হয়।
ঢাকার সমৃদ্ধ অতীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য চলচ্চিত্র শিল্পী, কলাকুশলী, সাংবাদিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘এই অনন্য উদ্যোগের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এক সময় সারা দেশে সাড়ে আটশোর বেশি সিনেমা হল চালু থাকলেও বর্তমানে তা কমে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও আধুনিক মাল্টিমিডিয়ার সহজলভ্যতায় দর্শকদের মনোজগতে বড় পরিবর্তন এসেছে। তাই কলাকুশলীদের দর্শক রুচি বিবেচনা করে সিনেমা নির্মাণ করতে হবে এবং এ খাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘দর্শকদের ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারলে আমাদের চলচ্চিত্রে আবারও সুদিন ফিরে আসবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘চলচ্চিত্র ছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে যথাযথভাবে চিত্রায়িত করা সম্ভব নয়। রাজধানী হিসেবে ঢাকা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। এ শহরের গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতেই ডিএসসিসি এ উৎসবের আয়োজন করেছে।’
আগামী সাত দিন মধুমিতা হলে বিনামূল্যে সিনেমা প্রদর্শিত হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।
অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী সুজাতা আজিম, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা, শাবনাজ; অভিনেতা উজ্জ্বল, সোহেল রানা, আলমগীর, খাজা নাঈম মুরাদ, আজাদ রহমান শাকিল; গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনির; সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম, আবিদা সুলতানা; সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান, শওকত আলী ইমন; চিত্রগ্রাহক রেজা লতিফ, শফিকুল ইসলাম স্বপন এবং পরিচালক ছটকু আহমেদ, হাফিজ উদ্দীন, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মতিন রহমান, সাইদুর রহমান সাঈদ ও আওকাত হোসেনকে জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে সম্মাননা জানানো হয়।

অন্যদিকে, পরিচালক আব্দুল জব্বার খান, নাজির আহমেদ, খান আতাউর রহমান, জহির রায়হান, এহতেশাম, মুস্তাফিজ, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত, দিলীপ বিশ্বাস, চাষী নজরুল ইসলাম; অভিনেতা আবদুল মতিন, খলিল উল্লাহ খান, নায়করাজ রাজ্জাক, রোজী আফসারী, খান জয়নুল, প্রবীর মিত্র, বুলবুল আহমেদ; গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার; সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ, আলাউদ্দীন আলী; সংগীতশিল্পী আজম খান, এন্ড্রু কিশোর এবং চিত্রগ্রাহক আফজাল চৌধুরী ও এম. এ. সামাদকে জানানো হয় মরণোত্তর সম্মাননা।
এ ছাড়া সাংবাদিকতা ও ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদান রাখা চিন্ময় মুৎসুদ্দী, রফিকুজ্জামান, অনুপম হায়াৎ, মাহমুদা চৌধুরী ও আবদুর রহমান ও ঐতিহ্যবাহী লায়ন সিনেমা হল, আজাদ সিনেমা হল ও মধুমিতা সিনেমা হলকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।
মধুমিতা হলে প্রতিদিন দুটি প্রদর্শনী (বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টা) সর্বসাধারণের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে। আগামী ২২ আগস্ট ‘মুখ ও মুখোশ’, ২৩ আগস্ট ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ও ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ২৪ আগস্ট ‘জীবন থেকে নেওয়া’ ও ‘নান্টু ঘটক’, ২৫ আগস্ট ‘অশিক্ষিত’ ও ‘রংবাজ’, ২৬ আগস্ট ‘সবুজ সাথী’ ও ‘নাচের পুতুল’, ২৭ আগস্ট ‘দূরদেশ’ ও ‘দহন’, এবং ২৮ আগস্ট ‘দোস্ত দুশমন’ ও ‘বধূ বিদায়’ প্রদর্শিত হবে।




