বেইজিং সফরে পুতিন: ২০ চুক্তি স্বাক্ষর, আরও ২০টির সম্ভাবনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে চীন পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরই মধ্যে পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং বৈঠক করেছেন। দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ২০টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এ ছাড়া, বিভিন্ন বিষয়ে আরও ২০টি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তি স্বাক্ষর ও পুতিন–সি বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতি ট্রাম্পের সফরের তুলনায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ, ট্রাম্পের বেইজিং সফরে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং কোনো যৌথ বিবৃতিও আসেনি।

আজ বুধবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়া ও চীন বলেছে, ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে কিছু দেশের বৈশ্বিক বিষয় নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিশ্ব আবারও ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের রুশ ভাষায় প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের এজেন্ডা নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভক্তি এবং জঙ্গলের আইনে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

ঘোষণায় আরও বলা হয়, ‘কিছু রাষ্ট্রের একতরফাভাবে বৈশ্বিক বিষয় পরিচালনা করা, পুরো বিশ্বের ওপর নিজেদের স্বার্থ চাপিয়ে দেওয়া এবং ঔপনিবেশিক যুগের মানসিকতায় অন্য দেশগুলোর সার্বভৌম উন্নয়ন সীমিত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ যদিও ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে চীন ও রাশিয়া অতীতে বহুবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছে।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বক্তব্য দিতে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং বলেন, রাশিয়া ও চীনের উচিত ‘সব ধরনের একতরফা দমননীতি এবং ইতিহাসকে উল্টে দেওয়ার কর্মকাণ্ডের’ বিরোধিতা করা। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্যও দেননি।

সির বক্তব্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—চীন-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন এক সূচনাবিন্দুতে পৌঁছেছে, দুই দেশ কৌশলগত যোগাযোগ ও সব পর্যায়ের বিনিময় ঘনিষ্ঠভাবে বজায় রাখবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে সহযোগিতা জোরদার করবে।

এর আগে জানা গিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪০টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ক্রেমলিন জানাচ্ছে, এর মধ্যে ২০টি নথিতে সি চিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে সই হয়েছে। আরও ২০টি চুক্তি আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে।

ক্রেমলিন আরও জানায়, সি ও পুতিনের আলোচনায় জ্বালানি প্রকল্পও ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে দুই নেতা সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলেও জানানো হয়েছে। তবে সেই চুক্তি বা সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি ক্রেমলিন।

পূর্বের খবরভুয়া রিপোর্টিংয়ে দুর্বল কোম্পানি ঢুকেছে পুঁজিবাজারে: অর্থমন্ত্রী
পরবর্তি খবরভারতের রাজনীতি: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয় ও আঞ্চলিক শক্তির নতুন বাস্তবতা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!