ভিনিউজ ডেস্ক:
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে একের পর এক গুলির ঘটনায় একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার সকালে দেশটির ট্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর (পিএনএটি)। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে ধূসর রঙের একটি রেনো ক্লিও গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গুলি চালান ওই ব্যক্তি। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে এই তাণ্ডব। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি ট্রাপ এলাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি সন্ত্রাসী অপরাধ। কৌঁসুলির দপ্তরও বিষয়টি জানিয়েছে।’
ট্রাপের মেয়র আলি রাবেহ জানান, গাড়ি থেকে নেমে নয়, গাড়ির ভেতর থেকেই বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান হামলাকারী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করতে চেয়েছিলেন। একটি পেট্রলপাম্প, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিশুদের খেলার মাঠ এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় গুলি চালানো হয়। পরে তিনি পাশের লা ভেরিয়ের শহরের দিকে চলে যান।
হামলায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে মেয়র আলি রাবেহের দাবি, নিহত ব্যক্তি আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ছিলেন এবং গুরুতর আহতদের একজন উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। তার ধারণা, হামলার পেছনে বর্ণবাদী এবং সম্ভবত ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব কাজ করে থাকতে পারে। তবে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর।
তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং জাতি, বর্ণ, জাতীয়তা কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলাকারী একটি পুরোনো ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন, যা দিয়ে একাধিক গুলি ছোড়া সম্ভব। প্যারিসের সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়াঁর প্রতিবেদনে অস্ত্রটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স ৩৯ বছর। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে পুলিশের নজরে থাকলেও ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরিচিত তালিকায় ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সামরিক পর্যায়ের অস্ত্র রাখার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।
সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলগুলোতে তদন্ত শুরু করেছে। তবে কেন তিনি এই হামলা চালিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার পেছনে সন্ত্রাসী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষ।




