আকাশে বড় ধরনের সংকট এড়াতে ভূমিকা রাখা ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে ইসরায়েলে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মে মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে পাইলট স্মিত মাচ্ছার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্মান জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব কথা জানানো হয়। ভিডিওতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাইলটের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখা যায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে।
৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ককপিটে একটি নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটে। ওই ফ্লাইটে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। ঘটনার সময় পাইলট স্মিত মাচ্ছার আহত হন। আহত অবস্থাতেও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রাখেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
নেতানিয়াহু বলেন, তিনি চান আগামী মে মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানে স্মিত মাচ্ছার ও নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে একটি শিখা প্রজ্বালন করুন। সাধারণত এ ধরনের সম্মান ইসরায়েলের নাগরিকদের দেওয়া হয়।
পাইলটের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু তাকে ‘সত্যিকারের বীর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভারত ও ইসরায়েলের সাহসী জনগণের একজন বীর এবং পুরো বিশ্বের একজন বীর হিসেবে স্মিত মাচ্ছারকে সম্মান জানাতে চান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটের ককপিটের ভেতরে সহকারী পাইলটের কথিত হামলায় স্মিত মাচ্ছার গুরুতর আহত হন। এরপর তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এতে অন্য ক্রু সদস্য ও যাত্রীরা ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন।
পরে ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছিল, স্মিত মাচ্ছার নিরাপদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে গেছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো এবং তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফ্লাইটের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে পাবলিক প্রসিকিউশনের সদস্যদের নিয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের তথ্য গোপন রাখছে। ককপিটের ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও এর পেছনে কারা জড়িত ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




