ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রচলন করতে হবে : পররাষ্ট্র সচিব

72
Social Share

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইনসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি চালু  করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল আর্কাইভ এবং ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব বিষয়ক সভায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং আইসিটি ডিভিশনের সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল আর্কাইভ এবং ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব বিষয়ক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার শুরুতে পররাষ্ট্র সচিব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং ১৫ আগস্টে নির্মমতার শিকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহিদ সদস্যবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপান্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের কথা উল্লেখ করে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জয়ই আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের নকশাকার।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে তথ্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে নতুনভাবে চিন্তা করা এবং সাজানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের বৃহত্তর সুবিধা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইনসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমশ প্রচলন করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বছরে গড়ে ৭ লাখের অধিক পরিমাণ সেবা প্রদান করে থাকে। এই সেবাগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেয়া হলে সাধারণ জনগণ অনেক উপকৃত হবে। তারা পৃথিবীর যে কোন কোন থেকে কম সময়ে সেবা গ্রহণ করতে পারবে।’
এটুআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আব্দুল মান্নান, পিএএ দেশে তৈরি ‘বৈঠক’ অ্যাপ সর্বপ্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবহারের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবাসমূহ ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
আইসিটি বিভাগের ডিএসডিএল দল ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেয়ার ব্যাপারে এবং নথিগুলোকে ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ বিষয় উপস্থাপন করেন। তারা অন্যান্য সরকারি দপ্তরসমূহের সাথে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতগণ এই ব্যাপারে তাঁদের মতামত প্রদান করেন। তাঁরা নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিনিয়র সচিব (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ) এন এম জিয়াউল আলম, পিএএ মতামত প্রকাশ করেন যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিজিটালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় গতিবেগ পেয়েছে এবং এটিকে কাজে লাগানোর এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করে বলেন, দেশে তৈরি ‘বৈঠক’ এ্যাপটি ব্যবহারের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম ও আইসিটি) অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যে বাংলাদেশ বর্তমানে ম্যানুয়াল বা এনালগ থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের পথে আছে এবং এই পথ পরিক্রমায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পিছিয়ে থাকবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং বিদেশস্থ ৭৮টি মিশনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত/হাই কমিশনার, মিশন প্রধান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দুই ঘন্টাব্যপী এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।