খেলোয়াড় জীবনে রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য না হওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পেশাদার খেলোয়াড়রা কোনো দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয়—তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে।

আজ সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই নিজ যোগ্যতায় বিজয়ী হয়ে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় যারা ইতোমধ্যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বিজয়ের পেছনে প্রতিপক্ষ থাকে। প্রতিপক্ষ আছে বলেই বিজয়ের আনন্দ পাওয়া যায়। খেলাধুলায় পরাজয় মানে হেরে যাওয়া নয়, বরং জয়েরই একটি অংশ।
আলবার্ট আইনস্টাইনের উদ্ধৃতি টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে কখনো কিছুই করেনি। পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তাদের পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু শখ বা বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একটি স্বীকৃত পেশা। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে—এ প্রতিশ্রুতি বিএনপি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দিয়েছিল, যার বাস্তবায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

তারেক রহমান জানান, খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার প্রথমবারের মতো তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনছে এবং ক্রীড়া ভাতা প্রদান শুরু করেছে। এতে খেলোয়াড়রা নিজেদের পছন্দের খেলাকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে নিতে পারবেন।

সরকারের অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু হবে। এর ধারাবাহিকতায় চালু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’। শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদরাও এর আওতায় আসবেন।

‘সবার জন্য ক্রীড়া’ প্রতিপাদ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশ-বিদেশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ক্রিকেট ও ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও আর্চারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল ও ব্যাডমিন্টনের মতো খেলাগুলোও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ান হয়েছে।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোটোবেলা থেকেই খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা কারিকুলামেও পরিবর্তনের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ নতুনভাবে চালু হয়েছে। এবার ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে শুরু হয়ে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও টিম স্পিরিট থাকলে সাফল্যের পথে কোনো বাধা টিকবে না।

খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন—আপনারা দেশের প্রতিনিধি। দেশের হয়ে খেলুন, বিজয় অর্জন করুন এবং বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যান।

পূর্বের খবরবিদ্যুৎ খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ
পরবর্তি খবরঈদের ১৫ দিনে ৩৭৭ দুর্ঘটনা, ৩৯৪ মৃত্যু
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!