খাগড়াছড়ির নিচু এলাকা প্লাবিত, দীঘিনালা-লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

 

ভিনিউজ ডেস্ক : খাগড়াছড়িতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে চিটাইগ্যাংয়া পাড়া, নিচের বাজারসহ কয়েকটি পাড়ার লোকজন একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

দীঘিনালা-লংগদু সড়কের হেড কোয়ার্টার এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ার রাঙামাটির লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ দুপুর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মেরুং বাজার ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দীঘিনালা দ্বিতীয় শ্রেণির আবহওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সূভূতি চাকমা বলেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, সিন্দুকছড়ি-জালিয়াপাড়া সড়কে কয়েকটি স্থানে সড়কের মাটি ধসে গেছে। সড়ক বিভাগের কর্মীরা গিয়ে মাটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মেরুং ইউনিয়ন নারী ইউপি সদস্য জমিলা খাতুন বলেন, আমাদের নিচু এলাকা গত জুনের শুরুতেও ডুবেছে। এবারও একই অবস্থা। বৃষ্টি বাড়ছে। নদীতে পানি বাড়লে আমাদের মেরুং বাজারও ডুবে যাবে। ইতিমধ্যে ৫০ পরিবার ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। আরও মানুষ আসছে। তাদের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন ও মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, এখানে তিন দিন ধরে টানা বর্ষণ হচ্ছে। মাইনী নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে মেরুংয়ের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির এখন যে পরিস্থিতি তাতে রাতের মধ্যে আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে। অনেকগুলো পরিবার ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

খাগড়াছড়ি পৌর শহরের শালবন, কুমিল্লাটিলা, সবুজবাগ বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে স্থানীয়রা। পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে সাড়ে তিন হাজার পরিবার। বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরিরত চৈতন্য রায় বলেন, সকাল ১০টার দিকে গেছি তখন সড়কে হাঁটু সমান পানি ছিল। এক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত এক ফুট পানি বেড়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পানি আরও বাড়বে। যেভাবে বৃষ্টি পড়ছে তাতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে।

প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেছে জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। অনেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। যেহেতু টানা বৃষ্টি হচ্ছে, পাহাড় ধসের শঙ্কা আরও বেশি। পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে। কিন্ত বারবার অনুরোধ করার পরও তারা বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না। আশ্রয়কেন্দ্রে আমরা গরম খাবার দিচ্ছি। খাবার নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। আমরা প্রচুর চেষ্টা করছি কিন্তু বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না।

পূর্বের খবরভিন্নমত দমন না করে তা প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল
পরবর্তি খবরগাজায় বেড়েই চলছে নিহতের সংখ্যা, ২৪ ঘণ্টায় ১০৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা