একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন’ প্রকল্প।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ৬টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১২ তম এবং বর্তমান সরকারের চতুর্থ একনেক সভায় মোট ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তবে সভায় যাচাইবাছাই শেষে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়া বাকি দুটির মধ্যে একটি বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্প অন্যটি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি।

একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। সভায় প্রকল্পটির বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটি সময়ের স্বল্পতার কারণে সভায় আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হতে পারে এবং তখন অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

পূর্বের খবরসুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!