‘ইসরায়েল ব্যতীত’ ফেরাসহ পাসপোর্টে আসছে যেসব পরিবর্তন

বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দটি। একইসঙ্গে পাসপোর্টে জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপনের পাশাপাশি টাকার নোটে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি সংযোজনের কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ ফিরছে কিনা বা আর কি কি পরিবর্তন আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে সামনে যে পাসপোর্টগুলো ইস্যু করা হবে, সেই পাসপোর্টে আমরা আগের মতোই ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ যুক্ত করব। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত, সরকারের সিদ্ধান্ত। আর এটা বাংলাদেশের গণমানুষের চাহিদাও বটে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাসপোর্টে আরও বিভিন্ন বিষয় যেগুলো ভিসা পেইজ থাকে, ওগুলার মধ্যে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে একটা ব্যক্তিতান্ত্রিক চর্চা আমরা লক্ষ্য করেছি। যেটা বাংলাদেশ অধিকাংশ জনগণের এবং এদেশের কালচারকে প্রতিনিধিত্ব করে না। সেই ক্ষেত্রে আমরা এটাকে বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা অনুসারে সাজানোর চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে মুদ্রার মধ্যে আপনারা বীরশ্রেষ্ঠদের চেহারা দেখতে পাবেন। এটা অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিষয়। একইভাবে আমরা পাসপোর্টে যেমন জাতীয় স্মৃতিসৌধকে ধারণ করতে চাই। আমাদের ঐতিহ্য হিসেবে আরও অনেক বিষয় আছে। যেমন টাঙ্গুয়ার হাওর, তারপরে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতকে নৈর্ব্যক্তিকভাবে, মানে নির্মোহভাবে আমরা উপস্থাপন করতে চাই। আগে আমরা দেখেছি এ সমস্ত কিছু কিছু বিষয় ওখানে থাকলেও সেটাকে একটা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে  উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু ছবি ওখানে ধারণ করব, আপনারা বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব দেখবেন। বাংলাদেশের মানুষের কালচারাল যে চিন্তা, সেটাও ওখানে পরিস্ফুটন হতে দেখবেন। ওখানে কোনো দলীয় চিন্তা দেখবেন না, আগে যেটা করা হয়েছিল। সবকিছুতে রাজনীতিকরণ বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা– সেগুলো ন্যাশনাল বিষয়গুলোতে থাকবে না। এটা আমাদের অঙ্গীকার।’

পূর্বের খবরবাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি খবরনজরুল জাতীয় জাগরণের তূর্যবাদক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের রূপকার: রাষ্ট্রপতি