ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আয়ুর্বেদ বিষয়ে একটি যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার গুলশানে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সামগ্রিক সুস্থতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানব্যবস্থার গুরুত্ব আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আয়ুর্বেদ বিষয়ে একটি যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের যৌথ প্ল্যাটফর্ম দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এটি ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে একাডেমিক সেশন, কর্মশালা এবং সাংস্কৃতিক পর্বের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক মিস অ্যান মেরি জর্জ উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মি. রশিদুজ্জামান খান, প্রাচী -এর সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী ডা. মো. মোখলেসুর রহমান, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মামুন মিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ আর্টস কলেজের অধ্যক্ষ মি. শামসুল আলম আজাদ।
মিস জর্জ এ বছরের আয়ুর্বেদ দিবসের প্রতিপাদ্য “Ayurveda for a Healthier Tomorrow” বা “সুস্থতর আগামীর জন্য আয়ুর্বেদ” তুলে ধরেন। তিনি আয়ুর্বেদের পাশাপাশি যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথির প্রসারে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সম্পর্কেও আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের একাডেমিক পর্বে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসাইন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ুর্বেদ মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বাবুল আক্তার এবং নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মামুন মিয়া।
বাংলাদেশের বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এ পর্বের শুরুতে বাংলাদেশি শিল্পী শাহীন সোবহানা সুরভীর হাতে উলের তৈরি গণপতি ট্যাপেস্ট্রি প্রতীকীভাবে উদ্বোধন করা হয়।
পরে বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় ও বাংলা খেয়াল সংগীতশিল্পী এবং সংগীতশিক্ষক রঞ্জন চন্দ্র সরকার মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর পরিবেশনায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও বাংলা সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ফুটে ওঠে, যা দুই দেশের গভীর ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি চমৎকার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগীতশিল্পীকে সম্মাননা প্রদান এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, হামদর্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ এবং দ্য আয়ুর্বেদ কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।




