৯ আইন কর্মকর্তা নিয়োগে বিস্মিত হাইকোর্ট

72
৯ আইন
Social Share

গেজেটে বাবার নাম, জন্ম, আইন জীবী হিসেবে হাইকোর্টে তালিকাভুক্তির তারিখ, ঠিকানা উল্লেখ না করে সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবীকে দুই বছর আগে সরকারের আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে প্রশ্ন উঠেছে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ওই প্রজ্ঞাপনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও।

আজ মঙ্গলবার আদেশের জন্য থাকা এসংক্রান্ত এক রিটের শুনানিতে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রশ্ন ওঠে।

আদালতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া নিজেই শুনানি করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কফিল উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

২০১৯ সালের ৭ জুলাই ১০৫ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) এবং ২১ জুলাই ৭০ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকারের আইন মন্ত্রণালয়। ওই নিয়োগে দুজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। রিটে বলা হয়, এই নিয়োগ বাংলাদেশ ল’ অফিসার অর্ডার-১৯৭২-এর ৩(৩) শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ শর্তে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কমপক্ষে পাঁচ বছর আইন পেশা পরিচালনা না করা কাউকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

রিটে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ ল’ অফিসার অর্ডার-১৯৭২-এর আর ৩(২) শর্ত তুলে ধরে আদালতে বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দিতে হবে। একজন বিচারকের বয়সসীমা হচ্ছে ৬৭ বছর। কিন্তু নিয়োগ পাওয়ার সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুনুর রশীদ ও কামালউদ্দীন আহমেদের বয়স ৬৭ বছরের বেশি ছিল। আর আল মামুন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল চার বছর দুই মাস। আর ২০১৯ সালের ৭ জুলাই নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল আজিজ মাসুদ, মাসুদ রানা মোহাম্মদ হাফিজ, মো. আবুল হাসান, মো. হুমায়ুন কবির বাবুল, রায়হান কবির ও সাহিদা বেগমের নাম ছাড়া আর কিছুই ছিল না। 

যেখানে নিয়োগ পাওয়া বাকি ১০৪ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বাবার নাম, হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সাল-তারিখ, জন্ম তারিখ, নিবাসের উল্লেখ ছিল। তখন ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুনুর রশীদ ও কামালউদ্দীন আহমেদ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল মামুন কোন কর্তৃত্ব বলে পদে আছেন, তা জানতে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত।

সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল আজিজ মাসুদ, মাসুদ রানা মোহাম্মদ হাফিজ, আল মামুন, মো. আবুল হাসান, মো. হুমায়ুন কবির বাবুল, রায়হান কবির ও সাহিদা বেগমের তালিকাভুক্তির সাল-তারিখের বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে হলফনামা করে দুই মাসের মধ্যে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

রিটকারী আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, এই ৯ জন আইন কর্মকর্তা হিসেবে এখনো কর্মরত। আদালত নিয়োগের ওই প্রজ্ঞাপন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আদালত বলেছেন, এ রকম একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রজ্ঞাপনে কিভাবে নিয়োগ হয়!

এ আইনজীবী বলেন, “আদালতের বিস্ময় দেখে আমি বলেছি, ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ প্রজ্ঞাপন বাতিলযোগ্য। ভারতের উচ্চ আদালতের এ ধরনের সিদ্ধান্ত আছে। আমি রুল শুনানির সময় তা আদালতে উপস্থাপন করব। তখন বিবাদীদের একজন আইনজীবী বলতে চেষ্টা করেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বা আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।’ তখন আমি বলেছি, যেহেতু এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন ও সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে, সেটিকে লঙ্ঘন করে তো রাষ্ট্রপতি কোনো আদেশ দিতে পারেন না।”

বার কাউন্সিল প্রতিবেদন দিয়েছে কি না জানতে চাইলে আইনজীবী ফরহাদ বলেন, বার কাউন্সিল ৯ আইন কর্মকর্তার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে

পরে আদালত আগামী ২ ফেব্রুয়ারি রিটটি পরবর্তী আদেশের জন্য রাখেন।