“৭ জুন ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস” এক অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন

39
Social Share
প্রদ্যুৎ কুমার সরকার: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৭ জুন এক অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এইদিন বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা আদায়ের লক্ষ্যে  আওয়ামী লীগের ডাকে হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার উপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর অন্যায়ভাবে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করে। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনুমিয়া-শফিক এবং শামসুল হক সহ ১১ জন শহীদ হন । শহীদদের রক্তে ৬-দফা আন্দোলন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, রাজপথে নেমে আসে বাংলার মুক্তিকামী জনতা ।
পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-ত্রাসন ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ডাকা এক জাতীয় সন্মেলনে পূর্ববাংলার জনগনের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬-দফা দাবী উত্থাপন করেন ।
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১১ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় ফিরে এসে ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেন এবং বাংলার আনাচে-কানাচে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে-অঞ্চলে গিয়ে জনগণের নিকট ৬-দফার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন । বাংলার সর্বস্তরের জনগণ এই ৬-দফা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করেন এবং ৬-দফার প্রতি স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন পোষণ করেন। তখন ৬-দফাই হয়ে উঠে পূর্ব বাংলার শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সনদ । ৬-দফার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তার ভীত উপলব্ধি করে সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী সরকার ১৯৬৬ সালের ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় । যার ফলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার রাজপথ ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬-দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৭ জুন তারিখে পায় নতুন মাত্রা । বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৬-দফার প্রতি বাঙালির অকুণ্ঠ সমর্থনে রচিত হয় মহান স্বাধীনতার রুপরেখা। ৬-দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অঙ্কুরিত হয় মহান স্বাধীনতার স্বপ্নবীজ । ৬-দফা ভিত্তিক আন্দোলনই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামে রুপ নেয়। ৬-দফা ভিত্তিক ১১-দফা আন্দোলনের পরিক্রমায় শুরু হয় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান। সর্বোপরি ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাংলার জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে  একচেটিয়া রায় প্রদান করেন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পরেও পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী যখন সরকার গঠনে নির্বাচিত বাঙালি জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে গড়িমসি শুরু করে ঠিক তখনই ১৯৭১-এর ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যেও ৬ দফার মর্মবাণী উচ্চারিত হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েও মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালনা এবং দেশের অভ্যন্তরে সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় ঐতিহাসিক ৬-দফার ভিত্তিতেই । স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ৬-দফার গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম। আওয়ামী লীগ এবং সকল সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠন প্রতিবছর ৭ জুন পালন করে থাকে “ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস”। কিন্ত, এবছর বৈশ্বিক মহামারী নোভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯-এর মতো ভয়াবহ মহামারী/অতিমারীর কারণে এবং এক্ষণে রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় বিরাজ করার কারনে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডাঃ চিন্ময় কান্তি দাস -এর পরামর্শক্রমে নেতা-কর্মীদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টা গভীর বিবেচনায় রেখে সবাইকে স্বাস্থ্যগতভাবে সংকটমুক্ত রাখতে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে ঐতিহাসিক এই দিনটিতে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে যথাযথ শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে গভীর সন্মান প্রদর্শনপূর্বক রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ-এর অলোকার মোড়স্থ স্থায়ী কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করে রাখা হয় ।
“ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যুক্ত বিবৃতি”
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস উপলক্ষে এক যুক্ত বিবৃতিতে ঐতিহাসিক ৭ জুনের ৬-দফা আন্দোলনে শহীদান হওয়া সকল বীর শহীদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ বীর শহীদ এবং দেশমাতৃকার স্বাধীনতা-মুক্তি-গণতন্ত্র ও প্রগতি প্রতিষ্ঠায় আত্মদানকারী সকল বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে পরম করুণাময় স্রষ্টার দরবারে দোয়া/প্রার্থনা করেন এবং সবাইকে দোয়া /প্রার্থনা করার অনুরোধ জানান।  একইসাথে দেশমাতৃকার কল্যাণে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের পবিত্র স্মৃতি-চেতনা এবং মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান উন্নত-সমৃদ্ধ-সুখী-শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণময় বাংলাদেশ বিণির্মানের সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে সকলকেই একযোগে ঐকবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তাঁরা ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু । বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।