৭৪-তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ

Social Share

নয়াদিল্লি, ১৫ অগাস্ট, ২০২০

 

আমার প্রিয় দেশবাসী,

স্বাধীনতার এই পবিত্র উৎসবে সমস্ত দেশবাসীকে অভিনন্দন। আর অনেক অনেক শুভকামনা। আজ যে আমরা স্বাধীন ভারতে শ্বাস নিচ্ছি, এর পেছনে ভারতমাতার লক্ষ লক্ষ পুত্রকন্যার ত্যাগ, তাঁদের বলিদান, আর ভারতমাতাকে স্বাধীন করে তোলার প্রতি তাঁদের সমর্পন, আজ এমন সব আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের, স্বাধীনতার বীরদের, নরসিংহদের, বীর শহীদদের প্রণাম জানানোর এই অনুষ্ঠান।

আমাদের সেনার লড়াকু জওয়ান, আমাদের আধাসামরিক দল, আমাদের পুলিশ জওয়ানরা, নিরাপত্তা বাহিনীগুলির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক, ভারতমাতা রক্ষায় মোতায়েন থাকেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকেন। আজ তাঁদের সবাইকেও অন্তর থেকে সমাদরে স্মরণ করার, তাঁদের মহান ত্যাগ তপস্যাকে প্রণাম জানানোর উৎসব। আরও একটি নাম – শ্রী অরবিন্দ ঘোষ। বিপ্লবের দূত থেকে আধ্যাত্মিক যাত্রা, আজ তাঁর সংকল্প, তাঁর জন্মজয়ন্তী। আজ তাঁর সংকল্পকে আমাদের সংকল্পকে পূর্ণ করার জন্য তাঁর আশীর্বাদ যেন বর্ষিত হতে থাকে।

আমরা একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আজ ছোট ছোট শিশুদের আমার সামনে দেখা যাচ্ছে না। ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যত ওরা, কেন? করোনা তাঁদের সবাইকে আটকে রেখেছে। এই করোনার সময়কালে লক্ষ লক্ষ করোনা যোদ্ধা, তা তাঁরা ডাক্তার, নার্স, সাফাইকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালক, কার কার নাম বলবো? তাঁরা এত দীর্ঘ সময় ধরে যেভাবে ‘সেবা পরমো ধর্ম’ এই মন্ত্রকে পালন করে দেখিয়েছেন, পূর্ণ সমর্পনভাব নিয়ে ভারতমাতার সন্তানসন্ততিকে সেবা করেছেন, এমন সমস্ত করোনা যোদ্ধাদেরও আজ আমি প্রণাম জানাচ্ছি।

 এই করোনার সময়কালে আমাদের অনেক ভাইবোন এই করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন, অনেক পরিবারের ওপর প্রভাব পড়েছে। অনেকে নিজেদের প্রাণ হারিয়েছেন। আমি এমন পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। আর এই করোনার বিরুদ্ধে, আমার বিশ্বাস, ১৩০ কোটি দেশবাসীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সংকল্প শক্তি, আমাদের এক্ষেত্রেও জয় এনে দেবে, আমরা অবশ্যই বিজয়ী হবোই।

 আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিগতদিনেও আমরা একপ্রকারে অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। বন্যার প্রকোপ, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ভারত, দক্ষিণ ভারত, পশ্চিম ভারতের কিছু এলাকা, কোথাও ধ্বস – মানুষকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, অনেক মানুষ নিজের প্রাণ হারিয়েছেন, আমি সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতিও সমবেদনা জানাই। আর রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এমন সঙ্কট সময়ে হামেশা, দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়ে, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলি মিলেমিশে দ্রুত যথাসম্ভব সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, তা সাফল্যের সঙ্গেও করছি।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আমাদের জন্যে, এটা স্বাধীনতার অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথা মনে করে, নতুন সংকল্পের প্রাণশক্তির উৎসে পরিণত হয়। এক প্রকার দিবসটি আমাদের জন্য নতুন প্রেরণা নিয়ে আসে, নতুন উদ্দীপনা, নতুন উৎসাহ নিয়ে আসে। আর এবার তো আমাদের জন্যে সংকল্প করা খুব জরুরীও। কারণ আগামী বছর যখন আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করবো, তখন আমরা ৭৫ বছরে প্রবেশ করবো। এটি নিজেই একটি অনেক বড় সুযোগ। সেজন্য আজ আগামী দু-বছরের জন্য, অনেক বড় সংকল্প নিয়ে আমাদের এগোতে হবে, ১৩০ কোটি দেশবাসীকে এগোতে হবে। স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষে যখন প্রবেশ করবো, আর স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ যখন পূর্ণ হবে, আমরা আমাদের সংকল্প পূর্তির এক মহা উৎসব রূপে তা পালন করবো।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

আমাদের পূর্বজরা, অখণ্ড, একনিষ্ট তপস্যা করে, ত্যাগ ও বলিদানের উচ্চ ভাবনাগুলিকে উৎসাহ দানের মাধ্যমে আমাদের যে রকম স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু আমাদের একথা ভুললে চলবে না, যে দাসত্বের এত দীর্ঘ সময়কালে কোনও সময় এমন ছিল না, কোনও অ়ঞ্চল এমন ছিল না, যখন স্বাধীনতার আকাঙ্খা মূর্ত হয়নি, স্বাধীনতার ইচ্ছা নিয়ে কেউ না কেউ প্রচেষ্টা করেনি, লড়াই লড়েনি, ত্যাগ করেনি। আর এক প্রকার যৌবন জেলে কাটিয়ে দিয়েছেন, জীবনের সমস্ত স্বপ্নকে ফাঁসির দড়িকে চুম্বন করে আহুতি দিয়েছেন, এমন বীরদের প্রণাম জানিয়ে, অদ্ভূত… তাঁরা নিজেরা একদিকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের ধারা, আর অন্যদিকে গণ আন্দোলনের ধারা, পূজনীয় বাপুজীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র- জাগরণের সঙ্গে গণআন্দোলনের ধারা স্বাধীনতা আন্দোলনকে একটি নতুন প্রাণশক্তি দিয়েছে। আর আমরা আজ স্বাধীনতা দিবস পালন করতে পারছি।

এই স্বাধীনতা আন্দোলন ও ভারত-আত্মাকে দাবিয়ে দেওয়ারও নিরন্তর প্রচেষ্টা হয়েছে, অসংখ্য চেষ্টা হয়েছে। ভারতকে নিজের সংস্কৃতি, রীতি, রেওয়াজ – এই সবকিছু থেকে উপড়ে ফেলার জন্য কত চেষ্টাই না হয়েছে। সেই সময়কাল ছিল, শত শত বছরের সময়কাল ছিল। সাম-দাম-দণ্ড-ভেদ সবকিছু তাদের চরমে ছিল, আর কিছু মানুষ এটা মেনে চলতেন, যে আমরা তো – ‘যাবৎ চন্দ্র দিবাকরঃ’ এখানে রাজত্ব করতে এসেছি। কিন্তু স্বাধীনতার আকাঙ্খা তাঁদের সমস্ত উচ্চাকাঙ্খাকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। তাঁদের ভাবনা ছিল, এত বড় বিশাল দেশ, অনেক রাজারাজড়া, নানা ভাষা উপভাষা, পোশাক পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, অনেক ভাষা, এত বিবিধতার ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা দেশ কখনও ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম লড়তে পারবে না। কিন্তু এই দেশের প্রাণশক্তি তাঁরা চিনে উঠতে পারেননি। আভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তি। একতার সূত্র, যা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে, তা স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হলে, দেশ স্বাধীনতার যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে।

 আমরা এটাও জানি যে সেই সময়কালে সাম্রাজ্যবাদী ভাবনা নিয়ে যারা ছিলেন, বিশ্বে যেখানে সম্ভব সেখানেই সাম্রাজ্য কায়েম করায় চেষ্টা করেছে। নিজেদের পতাকা পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন বিশ্বের সর্বত্র একটি প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে, অলৌকিক স্তম্ভ হয়ে ওঠে, আর বিশ্বের সর্বত্র স্বাধীনতার আকাঙ্খা মূর্ত হয়ে ওঠে। আর যারা সাম্রাজ্যবাদের অন্ধ দৌড়ে ব্যস্ত ছিলেন, নিজেদের পতাকা পোঁতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁরা নিজেদের উচ্চাকাঙ্খা, সাম্রাজ্যবাদের উচ্চাকাঙ্খাকে কায়েম করতে বিশ্বকে দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে, মানবতাকে তছনছ করে দিয়েছে। জীবনকে ধ্বংস করেছে, বিশ্বকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে দিয়েছে। কিন্তু তেমন সময়কালেও যুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যেও ভারত নিজের স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে ত্যাগ করেনি, এতে কোনও শ্লথতা কিম্বা নমনীয়তাকে প্রশ্রয় দেয়নি, দেশ জীবন উৎসর্গ করার প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে থাকে, কষ্ট সহ্য করার সময় কষ্ট সহ্য করতে থাকে, গণআন্দোলনের প্রয়োজনে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে থাকে। আর ভারতের এই লড়াই বিশ্বে স্বাধীনতার আবহ গড়ে তোলে। আর ভারতের এই শক্তি বিশ্বে যে পরিবর্তন এনেছে, তা গোটা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। ইতিহাস এই কথা কখনও অস্বীকার করতে পারবে না।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

স্বাধীনতার লড়াইয়ে গোটা বিশ্বে ভারতের ঐক্যবদ্ধতার শক্তি, নিজের সমগ্রতার শক্তি, নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি নিজেদের সংকল্প সমর্পন ও প্রেরণা, সেই প্রাণশক্তি সম্বল করে দেশ এগিয়ে যেতে থাকে।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

করোনা বিশ্বব্যাপী মহামারীর মাঝে ১৩০ কোটি ভারতবাসী সংকল্প নিয়েছে। এই সংকল্প, আত্মনির্ভর হওয়ার, আজ সব ভারতবাসীর মন মস্তিষ্কে ছেয়ে আছে আত্মনির্ভর ভারত – এই স্বপ্নকে সংকল্পে পরিবর্তিত হতে দেখছি। আত্মনির্ভর ভারত – এটি শুধুই একটি শব্দ নয়, এটি আজ ১৩০ কোটি দেশবাসীর জন্য মন্ত্র হয়ে উঠেছে।

 আমরা জানি, যখন আত্মনির্ভরতার কথা বলি, আমাদের মধ্যে যাঁরাই ২৫-৩০ বছরের বেশি বয়স, তাঁরা সবাই নিজেদের পরিবারে তাঁদের বাবা-মা, অন্য প্রবীণদের কাছে হয়তো শুনেছেন, হ্যাঁ ভাই, পুত্র, কন্যা, তোমাদের ২০-২১ বছর বয়স হয়ে গেছে, এখন নিজের পায়ে দাঁড়াও। ২০-২১ বছর বয়সী সন্তানসন্ততিদের কাছে পরিবার তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করে। আমরা তো স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি থেকে এক কদম দূরে রয়েছি। আমাদের জন্যও, ভারতের মতো দেশের নিজের পায়ে দাঁড়ানো অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আত্মনির্ভর হয়ে ওঠা অনিবার্য। যা পরিবারের জন্য অনিবার্য প্রয়োজন, তা দেশের জন্যও প্রয়োজন। সেজন্য আমার বিশ্বাস, ভারত এই স্বপ্নকে চরিতার্থ করে ছাড়বে। আর তার কারণ, আমার দেশের নাগরিকদের সামর্থ্যের ওপর আমার আস্থা রয়েছে, আমি আমার দেশের প্রতিভাদের নিয়ে গর্বিত। দেশের যুবশক্তিতে, মহিলাদের মধ্যে – অপ্রতিম সামর্থ্যতে আমার ভরসা রয়েছে। আমার ভারতের ভাবনা, ভারতের দৃষ্টিভঙ্গীর ওপর ভরসা রয়েছে। আর ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে, যে ভারত যদি একবার দৃঢ়সংকল্প হয়, তাহলে তা করে দেখায়।

 আর সেজন্য আমরা যখন আত্মনির্ভরতার কথা বলি, বিশ্ববাসী তখন উৎসুক হয়ে ওঠে, ভারতের প্রতি প্রত্যাশাও রয়েছে। আর সেজন্য, আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিজেদের যোগ্য করে তোলার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে।

আমাদের নিজেদের তৈরি করার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। ভারতের ভাবনা-চিন্তায়, ভারতের মতো বিশাল দেশ, ভারত যুবশক্তিতে পরিপূর্ণ দেশ, আত্মনির্ভরতার প্রথম শর্ত হল, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ভারত। এটাই তার ভিত্তি। আর এটাই উন্নয়নকে নতুন গতি, নতুন প্রাণশক্তি জোগাতে সামর্থ্য রাখে।

 ‘বিশ্ব এক পরিবার’ এই শিষ্টাচারগুলি নিয়ে ভারত প্রতিপালিত হয়েছে। বেদে যেমন লেখা ছিল, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, তেমনি বিনোবা জি বলতেন, ‘জয় জগৎ’। আর সেজন্য আমাদের জন্য বিশ্ব একটি পরিবার। আর সেজন্য আর্থিক উন্নয়নও হবে, কিন্তু তার পাশাপাশি মানব এবং মানবতারও কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠতে হবে। একে গুরুত্ব দিতে হবে, এসব নিয়েই আমরা এগিয়ে চলি।

আজ, দুনিয়া ইন্টার- কানেক্টেড, এবং ইন্টার ডিপেন্ডেন্ট, আর সেজন্য সময়ের দাবি হল, বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের মতো দেশের অবদান বাড়াতে হবে। ভারতের মতো বিশাল দেশের অবদান বাড়াতে হবে, বিশ্বকল্যাণের জন্যও এটা ভারতের কর্তব্য। আর ভারতের অবদান বাড়াতে হলে, ভারতের নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। ভারতকে আত্মনির্ভর হতে হবে। আমাদের বিশ্বকল্যাণের জন্যও নিজেদের সমর্থ্য করে তুলতে হবে। আর তখনই আমাদের শিকড় মজবুত করতে হবে। আমাদের নিজেদের সামর্থ্য হলে তবেই আমরা বিশ্বকল্যাণের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারি।

আমাদের দেশে অপার প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, কী নেই বলুন তো? আজ সময়ের দাবি হল, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদগুলির মূল্যয়াণ করতে হবে। আমাদের মানবসম্পদ মূল্য উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। আর আমরা দেশ থেকে কতদিন কাঁচামাল বিদেশে পাঠাতে থাকবো? কাঁচামাল বিদেশে পাঠিয়ে ফিনিসড প্রোডাক্ট আমদানি করতে থাকা, এই খেলা কতদিন চলতে থাকবে? আর সেজন্য, আমাদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। আমাদের প্রতিটি শক্তিতে বিশ্বের প্রয়োজন অনুসারে মূল্য যুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব, এই ভ্যালু অ্যাডিশন করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। বিশ্বে অবদান রাখতে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

এভাবে আমরা কৃষি ক্ষেত্রে, একটা সময় সময় ছিল যখন আমাদের বাইরে থেকে গম আমদানী করে আমাদের পেট ভরাতে হতো। কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকরা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। আত্মনির্ভর ভারত, আজ কৃষিক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়েছে। আজ ভারতের কৃষকরা শুধু ভারতবাসীর পেট ভরান না, আজ ভারত সেই অবস্থায় রয়েছে যে, বিশ্বে যাদের প্রয়োজন, তাঁদেরকেও আমরা খাদ্য সরবরাহ করতে পারি। এটা যদি আমাদের শক্তি হয়, আত্মনির্ভরতার এই শক্তি, তাহলে আমাদের কৃষি ক্ষেত্রেও মূল্য সংযোজন অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশ্বের প্রয়োজন অনুসারে আমাদের কৃষিজগতে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্বের প্রত্যাশা পূরণের জন্যে আমাদের নিজেদের কৃষিজগতকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

আজ দেশ অনেক নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর সেজন্য এখন আপনারা দেখুন, মহাকাশ ক্ষেত্রকে আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। দেশের যুব সম্প্রদায়ের সামনে সুযোগ এসেছে। আমরা কৃষিক্ষেত্রকে আইনের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে দিয়েছি, অনেক বন্ধন থেকে মুক্ত করে দিয়েছি। আমরা নিজেদের আত্মনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করছি। যখন ভারত মহাকাশ ক্ষেত্রে শক্তিশালী হবে, তখন প্রতিবেশীরাও অবশ্যই এর মাধ্যমে লাভবান হবেন। যখন আপনি শক্তি উৎপাদন ক্ষেত্রে শক্তিশালী হন, তখন যে দেশ তাদের অন্ধকার দূর করতে চায়, ভারত তাদের সাহায্য করতে পারে। দেশে যখন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পরিকাঠামো আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে, তখন বিশ্বের অনেক দেশের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে, স্বাস্থ্য গন্তব্য হিসেবে ভারত তাদের পছন্দের দেশ হয়ে উঠতে পারে। আর সেজন্য প্রয়োজন হল, ভারতে উৎপন্ন পণ্য কিভাবে গোটা বিশ্বের প্রশংসা আদায় করে নিতে পারে। আর একটা সময় ছিল, যখন আমাদের দেশে যা উৎপন্ন হত, আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ প্রশিক্ষিত মানব সম্পদ যে যে পণ্য উৎপাদন করতো, গোটা বিশ্বে তার প্রশংসা হত… ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে।

আমরা যখন আত্মনির্ভরতার কথা বলি, তখন শুধু আমদানী কম করতে হবে, এটাই আমাদের ভাবনা নয়। যখন আত্মনির্ভরতার কথা বলি, তখন আমাদের যে দক্ষতা, আমাদের যে মানব সম্পদের সামর্থ্য… যখন পণ্য বাইরে থেকে আসতে শুরু করে, তখন সেই সামর্থ্য বিলীন হতে শুরু করে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তা নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের নিজেদের সেই সামর্থ্যকে বাঁচাতে হবে… বাড়াতেও হবে। দক্ষতাকে বাড়াতে হবে, সৃষ্টিশীলতাকে বাড়াতে হবে… আর এই সমস্ত কিছু নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে জোর দিতে হবে – আত্মনির্ভর ভারতের জন্য, আমাদের সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

আমি জানি, যখন আমি আত্মনির্ভরতার কথা বলি, তখন অনেক আশঙ্কাও জাগিয়ে তোলা হয়। আমি একথা মানি, যে আত্মনির্ভর ভারতের জন্য লক্ষ লক্ষ চ্যালেঞ্জ রয়েছে, আর যখন বিশ্ব প্রতিযোগিতার মোড-এ থাকে, তখন চ্যালেঞ্জগুলিও বেড়ে যায়। কিন্তু দেশের সামনে লক্ষ লক্ষ চ্যালেঞ্জ থাকলেও, দেশে রয়েছে কোটি কোটি সমাধান সৃষ্টিকারী শক্তিও…. আমাদের দেশবাসীও রয়েছেন, যারা সমাধানের সামর্থ্য রাখেন।

আপনারা দেখুন, করোনার সঙ্কটকালে আমরা দেখেছি, অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের সামনে সমস্যা এসেছে… আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হতো, যা বাইরের দেশগুলি দিয়ে উঠতে পারছিল না। আমাদের দেশের নবীন প্রজন্ম, আমাদের দেশের শিল্পোৎদ্যোগীরা, আমাদের দেশের শিল্পজগতের মানুষেরা, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, যেদেশে N 95 মাস্ক তৈরি  হতো না, তা তৈরি হওয়া শুরু হল, পিপিই উৎপাদন হতো না, তা তৈরি হতে শুরু হল, ভেন্টিলেটর উৎপাদন হত না, তাও তৈরি হতে শুরু হল। দেশের প্রয়োজন তো পূরণ হলোই, বিশ্বের অন্যত্রও এক্সপোর্ট করার ক্ষমতাও আমাদের গড়ে উঠল। বিশ্বের প্রয়োজন ছিল। আত্মনির্ভর ভারত বিশ্বকে কিভাবে সাহায্য করতে পারে, আজ আমরা এর মধ্যে তা দেখতে পারছি। আর সেজন্য বিশ্বের কল্যাণের জন্যও ভারতের অবদান রাখার দায়িত্ব রয়েছে।

অনেক হয়েছে… স্বাধীন ভারতের মানসিকতা কেমন হওয়া উচিত, স্বাধীন ভারতের মানসিকতা হওয়া উচিত – ভোকাল ফর লোকাল…. আমাদের যে স্হানীয় উৎপাদন, তারজন্য আমাদের জয়গান করা উচিত। আমাদের নিজস্ব উৎপাদনের জন্য আমরা যদি জয়গান না করি, তাহলে উৎকৃষ্ট উৎপাদনের সুযোগও পাব না। আমাদের হিম্মতও বাড়বে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে সংকল্প নিই, স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের দিকে যখন পা বাড়াচ্ছি, তখন ভোকাল ফল লোকালকে জীবনের মন্ত্র করে নিই, আর আমরা সবাই মিলে ভারতের সেই শক্তিকে উৎসাহ দিই।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

আমাদের দেশ কিভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে, কিভাবে এগিয়ে যায়, একথা আমরা খুব ভালভাবেই বুঝতে পারি। কে ভেবেছিল যে কখনও গরিবদের জনধন অ্যাকাউন্টে লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি ট্রান্সফার হবে। কে ভাবতে পেরেছিল যে, কৃষকদের কল্যাণে এপিএমসি-র মতো আইন… এতে এত পরিবর্তন হয়ে যাবে! কে ভেবেছিল, আমাদের ব্যবসায়ীদের ওপর যে তলোয়ার ঝুলতো – এসেন্সিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট, এত বছর পর তাও বদলে যাবে, কে ভাবতে পেরেছিল, আমাদের স্পেস সেক্টর আমাদের দেশের যুব সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, জাতীয় শিক্ষানীতি, ওয়ান নেশন-ওয়ান রেশন কার্ড হোক, ওয়ান নেশন– ওয়ান গ্রিড হোক, ওয়ান নেশন–ওয়ান ট্যাক্স হোক, ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড হোক, ব্যাঙ্কগুলিকে মার্জারের প্রচেষ্টা হোক…. এগুলি সব আজ দেশের বাস্তবে পরিণত হয়েছে, দেশে বাস্তব হয়েছে।

ভারতে পরিবর্তনের এই সময়কালে সংস্কারের পরিণামগুলি বিশ্ববাসী দেখছে। একের পর এক… পরস্পরের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক আমরা যে রিফর্স করছি, তাকে বিশ্ব অত্যন্ত সুক্ষভাবে দেখছে । আর সেজন্যই গত বছর ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এখন পর্যন্ত সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে – ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট… এখন পর্যন্ত সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ।

            গত বছর ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে…. বেড়েছে । আর সেইজন্য করোনার সময়েও বিশ্বের বড় বড় কোম্পানীগুলি ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে । এই বিশ্বাস, এমনি গড়ে ওঠেনি, এমনিই বিশ্ব মোহিত হয় নি । সেজন্য ভারত নিজস্ব নীতির ক্ষেত্রে, ভারত নিজস্ব গণতন্ত্রে, ভারত নিজস্ব অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করার যে কাজ করেছে, সেজন্য এই বিশ্বাস জেগেছে ।

            সারা পৃথিবীর অনেক বিজনেস ভারতকে সাপলাই চেন-এর কেন্দ্র রূপে আজ দেখছে । এখন আমাদের মেক-ইন-ইন্ডিয়া-র সঙ্গে সঙ্গে মেক-ফর-ওয়ার্ল্ড-এই মন্ত্র নিয়েও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে ।

            ১৩০ কোটি ভারতবাসীর সামর্থ্য…. একটু মনে করুন.. বিগত কিছু দিনের কথা… আর ১৩০ কোটি দেশ বাসীর সামর্থ্যের জন্য গর্ব করুন । যখন একই সময়ে, করোনার এই মহাকালখণ্ডে একদিকে, ঘূর্ণিঝড়, পূর্বদিকেও ঘূর্ণিঝড়, পশ্চিমদিকেও ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাতে অনেক মানুষের মৃত্যুর খবর, কোথাও বার বার ধ্বস নামার ঘটনা, ছোট ছোট ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি…. এহ যেন কম ছিল, তার ওপর আমাদের কৃষকদের জন্য পঙ্গপালের দল বিপর্যয় ডেকে আনে । এরকম একসঙ্গে একের পর এক সমস্যার ঢেউ আসতে থাকে । কিন্তু, তা স্বত্তেও দেশ বিন্দুমাত্রও নিজের বিশ্বাস হারায় নি । দেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে ।

            দেশবাসীর জীবনকে দেশের অর্থনীতিকে করোনার প্রভাব থেকে যত দ্রুত সম্ভব বাইরে বের করে আনার আজ আমাদের অগ্রাধিকার । এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হবে, ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকটার পাইপলাইন প্রোজেক্ট-এর । এক্ষেত্রে ১১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি খরচ করা হবে । সেজন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৭ হাজার প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে । এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন একটি নতুন লক্ষ্যও পাবে । একটি নতুন গতিও পাবে । আর সেজন্য সর্বদাই এটা বলা হয়, এমন সঙ্কটের সময়েই যত বেশি ইনফ্রাস্ট্রাকটারে জোর দেওয়া হয়, যাতে এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক গতিবিধি বাড়ে, মানুষের কর্মসংস্থান হয়, কাজ পায়…. এর সঙ্গে যুক্ত অনেক কাজ একসঙ্গে এগুতে থাকে । ছোট, বড় শিল্পোৎদ্যোগ, কৃষক, প্রত্যেক মধ্যবিত্ত এর মাধ্যমে অনেক লাভবান হন ।

আর আজ আমি একটি কথা মনে করতে চাই… যখন শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি সোনালী চতুর্ভুজ নামক একটি অনেক বড়, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রভাবশালী প্রকল্প শুরু করেছিলেন । আর দেশের রোড নেটওয়ার্ক-এর পরিকাঠামোকে নেক্সট জেনারেশনে নিয়ে গেছিলেন । আজও সেই সোনালী চতুর্ভুজের দিকে দেশবাসী অনেক গর্ব নিয়ে তাকান, যে হ্যাঁ, আমাদের ভারত বদলাচ্ছে, এটা দেখতে পান ।

            আমার প্রিয় দেশবাসী,

অটলজি নিজের সময়ে এই কাজ করেছেন, কিন্তু এখন আমাদের তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে । আমাদের নতুন দিকে নিয়ে যেতে হবে, আর এখন আমারা SILOS-এ চলতে পারি না । আমাদের পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে যদি রোডের কাজ রোডওয়ালা করে, রেলের কাজ রেলওয়ালা করে, রেলের সঙ্গে রোডের কোন সম্পর্ক না থাকে, আর রোডের সঙ্গে রেলে, এয়ারপোর্টের সঙ্গে পোর্টের সম্পর্ক না থাকে, আর পোর্টের সঙ্গে এয়ারপোর্টের, রেলস্টেশনের সঙ্গে বাসের কোন সম্পর্ক না থাকে, আর বাসস্ট্যান্ডের সঙ্গে রেল পথের সম্পর্ক থাকবে না – এমন পরিস্থিতি হওয়া উচিত নয় । এখন আমাদের সমস্ত ইনফ্রাস্ট্রাকচার একটি কমপ্রিহেন্সিভ হবে, ইন্টিগ্রেটেড হবে । পরস্পরের পরিপূরক । রেল, রোডের পরিপূরক, রোড, সিপোর্টের পরিপূরক, সিপোর্ট, পোর্টের পরিপূরক… এভাবেই একটি নতুন শতাব্দীর জন্যে আমাদের মাল্টিমডেল কানেক্টিভিটি, ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে যুক্ত করার লক্ষ্যে এখন আমরা এগিয়ে চলেছি । আর এটা একটা নতুন মাত্রা যোগ করবে । অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে একাজ শুরু হয়েছে, আর আমার বিশ্বাস, যে SILOS-এর অবসান ঘটিয়ে আমরা এই গোটা ব্যবস্থাকে একটি নতুন শক্তি যোগাব ।

            এর পাশাপাশি আমাদের সমুদ্রতট…. বিশ্ব  বাণিজ্যে সমুদ্রতটগুলি নিজস্ব অনেক গুরুত্ব থাকে । যখন আমরা পোর্ট লেড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে এগিয়ে চলেছি, তখন আমরা আগামীদিনগুলিতে সমুদ্রতটের সমগ্র অংশে ফোর লেন রোড নির্মাণের লক্ষ্যে একটি আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ করব ।

            আমার প্রিয় দেশবাসী,

আমাদের দেশে শাস্ত্রে একটি অত্যন্ত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে । আমাদের শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘সামর্থর্মূলং স্বাতন্ত্রং, শ্রমমূলং চঃ বৈভবম’ অর্থাৎ কোন সমাজের, কোন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার উৎস হয় তার সামর্থ । আর তার বৈভব উন্নতি প্রগতির উৎস হয় তার শ্রমশক্তি । আর সেজন্য সাধারণ নাগরিক – শহর হোক কিম্বা গ্রামে – তাদের পরিশ্রমের কোন তুলনা হয় না । পরিশ্রমী সমাজ যখন প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি পায়, জীবনের সংঘর্ষ দৈন্দন্দিন জীবনের সমস্যগূলি হ্রাস পায়, তখন তাদের প্রাণশক্তি, তাদের শক্তি অনেক প্রস্ফুটিত হয়… অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারে । বিগত ৬ বছরে দেশের পরিশ্রমী নাগরিকদের জীবন উন্নত করে তোলার জন্যে অনেক অভিযান চালানো হয়েছে । আপনারা দেখুন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে, পাকা বাড়ি বানিয়ে দেওয়া, এত বড় সংখ্যায় শৌচালয় নির্মাণ, প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া, মা-বোনেদের ধোঁয়া থেকে মুক্ত করার জন্য গ্যাস কানেকশন দেওয়া, দরিদ্র থেকে দরিদ্রতরদের বীমা সুরক্ষা প্রদানের প্রচেষ্টা, পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যায়ে ভাল ভাল হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য আয়ুষ্মান ভারত যোজনা, রেশনের দোকানগুলিকে টেকনোলজির সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা – প্রত্যেক গরিব, প্রত্যেক ব্যক্তিকে বৈষম্যহীনভাবে সম্পূর্ণ পারদর্শীতার সঙ্গে স্বচ্ছভাবে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ফলে বিগত ৬ বছরে অনেক ভাল উন্নতি হয়েছে ।

                করোনার সঙ্কটের সময়েও এই ব্যবস্থাগুলি অনেক সহায়ক প্রতিপন্ন হয়েছে । এই সময়ে কোটি কোটি গরিব পরিবারকে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছানো… রেশন কার্ড থাকুক বা না থাকুক… ৮০ কোটিরও বেশি আমার দেশবাসীর বাড়িতে উনুন জ্বলেছে…. ৮০ কোটিরও বেশি দেশবাসীকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ হয়েছে, ৯০ হাজার কোটি টাকারও বেশি নগদ সরাসরি গরিবদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছে, কয়েক বছর আগে কেউ ভাবতেও পারতো না, কল্পনাও করতে পারত না, যে দিল্লি থেকে এক টাকা বেরলে তার ১০০ পয়সাই গরিবের অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে, এটা আগে কখনও ভাবাও যেত না ।

                নিজের গ্রামেই কর্মসংস্থানের জন্যে গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযান শুরু করা হয়েছে । শ্রমিক সাথীরা নিজেদের রি-স্কিল করে, আপ-স্কিল করবেন- এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস রেখে, শ্রমশক্তির ওপর ভরসা রেখে, গ্রামের সম্পদের ওপর ভরসা রেখে, আমাদের ভোকাল ফর লোকালকে জোর দিয়ে রি-স্কিল, আপ-স্কিলের মাধ্যমে আমাদের দেশের শ্রমশক্তিকে, আমাদের গরিবদের এমপাওয়ার করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি ।

            শহরে আমাদের যে শ্রমিকেরা রয়েছেন – তাদের অর্থনৈতিক গতিবিধির কেন্দ্র সহ – গ্রাম থেকে … দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শহরে আসে, স্ট্রীট ভেন্ডারসরা, ঠেলাওয়ালা – রেললাইনের ধারে ব্যাবসা করা মানুষেদের আজ ব্যাঙ্ক থেকে সরাসরি ঋণদানের প্রকল্প চালু হয়েছে । লক্ষ লক্ষ মানুষ এই অল্প সময়ের মধ্যেই করোনা কালখণ্ডে এর দারা লাভভান হয়েছেন । এখন তাদের কোথাও থেকে বেশি সুদে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না । ব্যাঙ্কগুলি থেকে নিজের অধিকারে নিজের টাকা তুলতে পারবেন ।

            তেমনি যখন শহর থেকে আমাদের শ্রমিকরা আসেন, তাদের থাকার জন্য ভাল সুবিধা পেলে, তাদের কর্মক্ষমতা অনেক গুন বেড়ে যায় । আর একথা মাথায় রেখে শহরের মধ্যে তাদের জন্য আমরা আবাসনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি বড় প্রকল্প রচনা করেছি । যাতে শহরের মধ্যেই শ্রমিকরা থাকবেন, আর তাদের কাজের জন্য মুক্তমনে সম্পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন ।

            আমার প্রিয় দেশবাসী,

এটাই ঠিক যে উন্নয়নের এই যাত্রাপথেও আমরা দেখেছি, যেমন সামাজিক জীবনে কিছু শ্রেণীর মানুষ পিছিয়ে পড়েন, দারিদ্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না, তেমনি দেশের ক্ষেত্রেও কিছু অঞ্চল থাকে, কিছু ভূ-ভাগ থাকে, কিছু এলাকা থাকে, যেগুলি পেছনে থেকে যায় । আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার জন্য আমাদের জন্য ভারসাম্যযুক্ত উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । আর আমরা ১১০-টিরও বেশি উচ্চাকাঙ্খী জেলা আইডেনটিফাই করেছি, সেই ১১০-টি জেলাকে যে এভারেজে পিছিয়ে রয়েছে, সেই রাজ্যের এবং দেশের এভারেজে তাদেরকে তুলে আনতে হবে, সমস্ত প্যারামিটারে তুলে আনতে হবে । সেখানকার মানুষেরা যাতে উন্নত শিক্ষা পান, সেখানকার মানুষেরা উন্নত স্বাস্হ্য পরিষেবা পান, সেখানকার জনগণের জন্য স্হানীয়ভাবে কর্মসংস্থানে সুযোগ গড়ে ওঠে, আর সেজন্য আমরা লাগাতার এই ১১০-টি জেলাকে, যেগুলি  আমাদের উন্নয়ন যাত্রায় কোনভাবে পিছিয়ে রয়েছে, তাদেরকে এগিয়ে আনার চেষ্টা করছে ।

            আমার প্রিয় দেশবাসী,

আত্মনির্ভর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার আত্মনির্ভর কৃষি এবং আত্মনির্ভর কৃষক । আর এগুলিকে আমরা কখনও ছোট করে দেখতে পারি না । কৃষকদের আমরা বিগতদিনে দেখেছি, একের পর এক সংস্কার স্বাধীনতার এত বছর পর আনা হয়েছে, কৃষকদের সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত করতে হবে, সেকাজ আমরা করেছি ।

            আপনারা হয়তো ভাবতে পারবেন না, আমাদের দেশে যদি আপনারা সাবান উৎপন্ন করেন, তাহলে ভারতের যেকোন প্রান্তে গিয়ে সাবান বিক্রি করতে পারেন । যদি কাপড় বোনেন, তাহলে ভারতের যেকোন প্রান্তে গিয়ে কাপড় বিক্রি করতে পারেন । আপনারা চিনি উৎপাদন করলে, চিনি বিক্রি করতে পারেন । কিন্তু আমাদের কৃষকেরা….. অনেকেই হয়তো জানেন না, আমার দেশের কৃষকেরা যে ফসল ফলাতেন, তা তাদের নিজের ইচ্ছামতো বিক্রি করতে পারতেন না, তাদের নিজের ইচ্ছামতো যেখানে বিক্রি করতে চাইতেন, সেখানে বিক্রি করতে পারতেন না । তাদের জন্য যে সীমা বেধে দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যেই বিক্রি করতে হত, আমরা তাদের সেসব বাঁধন থেকে মুক্ত করে দিয়েছি ।

            এখন ভারতের কৃষক সেই স্বাধীনতার শ্বাস নিতে পারবেন, কারণ তিনি ভারতের যে কোন প্রাণ্তে, বিশ্বের যে কোন প্রান্তে নিজের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারবেন, তিনি নিজের শর্ত অনুসারে বিক্রি করতে পারবেন । আমারা কৃষকদের আয় বৃদ্ধির জন্য অনেক বিকল্প পথে জোর দিয়েছি । তাদের কৃষিতে ইনপুট কস্ট কিভাবে হ্রাস করা যায়, সোলার পাম্প – তাদের ডিজেল পাম্প থেকে কিভাবে মুক্ত দিতে পারে, আমাদের অন্নদাতারা কিভাবে শক্তি উৎপাদনকারি হয়ে উঠতে পারেন, মৌচাষ থেকে শুরু করে, মৎস্যচাষ, পোল্ট্রি – এমনি অনেক কিছুকে একসঙ্গে যুক্ত করে যাতে তাদের আয় দ্বিগুন হতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত কাজ করছি ।

            আজ সময়ের চাহিদা হল, আমাদের কৃষি ক্ষেত্রকে আধুনিক করে তোলা । মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে মূল্য সংযোজন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং প্যাকেজিং-এর ব্যবস্থা, সেগুলি সামলানোর ব্যবস্থাপনা আর সেজন্যে ভাল পরিকাঠামোর প্রয়োজন । আপনারা হয়তো দেখেছেন, এই করোনার সময়কালেই  বিগত দিনে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এক লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে । পরিকাঠামো -যা কৃষকদের ভালর জন্য হয়, আর এর ফলে কৃষক নিজের পণ্যের মূল্য পাবেন, বিশ্বের বাজারে বিক্রিও করতে পারবেন, বিশ্ববাজারে তার উপস্হিতিও বৃদ্ধি পাবে ।

            আজ আমাদের গ্রামীণ শিল্পোৎদ্যোগগুলিকে শক্তিশালী করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে । গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বিশেষ ধরণের আর্থিক ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে । গ্রামে গ্রামে কৃষি এবং অকৃষি শিল্পোৎদ্যোগের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে । আর সেজন্য এর পাশাপাশি কৃষকদের জন্যে যে নতুন এফপিও- কৃষক উৎপাদক সঙ্ঘ গড়ে তোলার চেষ্টা আমরা করেছি, তা নিজেই একটি অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ণের কাজ করবে ।

            ভাই ও বোনেরা, আমি গতবার এখানে জলজীবন মিশন-এর ঘোষণা করেছিলাম, আজ তার ১ বছর পূর্ণ হচ্ছে, আমি আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারছি, যে আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম শুদ্ধ পাণীয় জল, আমাদের দেশবাসীর ‘কল থেকে জল’ পাওয়া উচিত । স্বাস্হ্য সমস্যাগুলির সমাধানও শুদ্ধপানীয় জলের সঙ্গে যুক্ত থাকে । অর্থনীতিতেও এর বড় অবদান থাকে….. আর তা নিয়েই জলজীবন মিশন শুরু করেছিলাম ।

            আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত । যে আমরা প্রতিদিন ১ লক্ষেরও বেশি বাড়িতে – প্রতিদিন ১ লক্ষেরও বেশি বাড়িতে – জল পৌঁছে দিচ্ছি…. নলের মাধ্যমে জল পৌঁছে দিচ্ছি । আর বিগত ১ বছরে দুই কোটি পরিবারের কাছে আমরা জল পৌঁছে দিতে সফল হয়েছি । আর বিশেষ করে জঙ্গল এলাকায় দূর-দূরান্তে বসবাসকারী আমাদের জনজাতি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ…. বড় অভিযান চলছে । আর আমি আনন্দিত যে আজ জলজীবন মিশন দেশে একটি স্বাস্হ্যকর প্রতিযোগিতার আবহ গড়ে তুলেছে । জেলাগুলির মধ্যে স্বাস্হ্যকর প্রতিযোগিতা চলছে, নগরগুলির মধ্যে স্বাস্হ্যকর প্রতিযোগিতা চলছে, রাজ্যগুলির মধ্যে স্বাস্হ্যকর প্রতিযোগিতা চলছে, প্রত্যেকেই ভাবছেন প্রধানমন্ত্রীর জলজীবন মিশনের এই স্বপ্নকে যত দ্রুত সম্ভব তাদের নিজের এলাকায় বাস্তবায়িত করবেন সহযোগিতামূলক প্রতিযোগিতামূলক যুক্তরাজ্য ব্যবস্থার একটি নতুন শক্তিই জল জীবন মিশনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, আর তার সঙ্গে আমরাও এগিয়ে চলেছি ।

            আমার প্রিয় দেশবাসী,

আমাদের কৃষি ক্ষেত্র থেকে শুরু করে আমাদের ক্ষুদ্র শিল্পোৎদ্যোগ, আমাদের চাকুরীজীবী সমাজের মানুষ থেকে শুরু করে প্রায় ভারতের অধিকাংশ নাগরিকরাই মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ । আর মধ্যবিত্ত সমাজ থেকে উঠে আসা পেশাদাররাই আজ বিশ্বে নিজেদের সাফল্যের জয়ধ্বজা ওড়াচ্ছেন । মধ্যবিত্ত থেকে উঠে আসা আমাদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, বৈজ্ঞানিক, সবাই বিশ্বে নিজেদের সাফল্যে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন । আর সেজন্য এটা সত্য যে মধ্যবিত্ত যতটা সুযোগ পায়, তার অনেক বেশি শক্তি নিয়ে উঠে আসে । আর সেজন্য মধ্যবিত্তদের অহেতুক সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি দিতে হবে । মধ্যবিত্তদের অনেক নতুন সুযোগ চাই – তাই উন্মুক্ত ময়দান চাই, আর আমাদের সরকার লাগাতার মধ্যবিত্তদের এই স্বপ্নগুলি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে । মধ্যবিত্ত মিরাকেল করার শক্তি রাখে । ইজ অফ লিভিং… এর দারা যদি কেউ সবচাইতে বেশি লাভবান হয়, তাহল আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি । সুলভে ইন্টারনেট, সস্তায় স্মার্ট ফোন, কিম্বা বিমান যাত্রার সময়ে টিকিটের দাম ন্যূনতম করার প্রসঙ্গ কিম্বা আমাদের হাইওয়েজ থেকে শুরু করে ইনফরমেশন ওয়েজ এই সমস্তকিছু মধ্যবিত্তের শক্তিকে বাড়াবে । আজ আপনারা হয়তো দেখেছেন দারিদ্র থেকে যারা মধ্যবিত্ত হয়েছেন, তাদের প্রথম স্বপ্ন হয় নিজস্ব বাড়ি । তারা একটি সম্পূর্ণ জীবনযাপন করতে চান । দেশের অনেক বড় কাজ আমরা ইএমআই-এর মাধ্যমে চালু করেছি । আর সেজন্য গৃহ ঋণ সুলভ হয়েছে । আর যখন একটি বাড়ির জন্য কেউ ঋণ নেয়, তখন ঋণ চোকানোর সময় তার প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ছাড় পেয়ে যান । বিগত দিনে আমরা দেখেছি অনেক গরিব, মধ্যবিত্ত পরিবার কিছু আবাসন প্রকল্পে টাকা জমা দিয়েও প্রকল্প সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত না হওয়ায় নিজের বাড়িতে যেতে পারছিলেন না । অন্যের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতে হচ্ছিল । কেন্দ্রীয় সরকার সেজন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করে সেই অসম্পূর্ণ আবাসনগুলিকে সম্পূরণ করে মধ্যেবিত্ত পরিবারগুলির নিজস্ব গৃহপ্রবেশের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে ।

      জিএসটিতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ট্যাক্সেশন হ্রাস পেয়েছে । আয়কর কমেছে । আজ মিনিমাম সেরকম ব্যবস্থাগুলি নিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি । কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কগুলিকে আরবিআই-এর সঙ্গে যুক্ত করা, এটি নিজেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির সঞ্চিত অর্থ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ ।

অতিক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার হয়েছে, কৃষি ক্ষেত্রে যে সব সংস্কার হয়েছে, সেগুলির সরাসরি লাভ আমাদের এই মধ্যবিত্ত পরিশ্রমী পরিবারগুলি পাবেন । আর সেজন্য হাজার হাজার কোটি টাকার স্পেশাল ফান্ড, আজ যারা আমাদের ব্যবসায়ী বন্ধু ও আমাদের ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের আমরা দিচ্ছি, তারা এর দারা লাভবান হবেন । সাধারণ ভারতবাসীর শক্তি তাদের প্রাণশক্তি আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের একটি অনেক বড় ভিত্তি । এই শক্তিকে বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক স্তরে নিরন্তর কাজ চলছে ।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

আত্মনির্ভর ভারতের নির্মাণে, আধুনিক ভারতের নির্মাণে, নতুন ভারতের নির্মাণে, সমৃদ্ধ এবং সম্পদশালী ভারত নির্মাণে দেশে শিক্ষার অনেক বড় গুরুত্ব রয়েছে । এই ভাবনা নিয়ে দেশে তিন দশক পর নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করে আজ আমরা অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছি ।

            ভারতের প্রত্যেক কোনায় একে স্বাগত জানানোর খবর আমাদের মনে একটি নতুন প্রাণশক্তি, একটি নতুন বিশ্বাস সৃষ্টি করছে । এই শিক্ষা.. এই জাতীয় শিক্ষানীতি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করবে । কিন্তু পাশাপাশি তাদের একজন বিশ্ব নাগরিক করে  গড়ে তুলতেও সম্পূর্ণ সামর্থ্য জোগাবে । তাঁরা শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন । কিন্তু তাদের মাথা আকাশের উচ্চতা স্পর্শ করবে ।

আজ আপনারা দেখছেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে । ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনে কারণ, দেশে প্রগতির জন্য উদ্ভাবন খুব জরুরি । উদ্ভাবনে যত জোর দেওয়া হবে, গবেষণায় যত জোর দেওয়া হবে, ততটাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, কাম্পিটিটিভ ওয়ার্ল্ডে এগিয়ে যেতে শক্তি পাওয়া যাবে । আপনারা কখনও ভেবেছেন, এত দ্রুত গ্রামে অনলাইন ক্লাশের পরিস্থিতি তৈরি হবে ? কখনও কখনও বিপদের মধ্যে এমন কিছু জিনিস উঠে আসে, নতুন শক্তি দেয় ।

                আর তাই আপনারা হয়তো দেখেছেন, করোনাকালে অনলাইন ক্লাশ এক অর্থে কালচার হয়ে গেছে । আপনারা দেখুন অনলাইন ডিজিটাল লেনদেন  কত বাড়ছে । ভীম অ্যাপ নিয়ে  যে কেউ গর্ব করতে পারেন, ভারতের মতো দেশে গত এক মাসে ইউ পি আই ভীম  কোটি টাকার লেনদেন করেছে । আমরা নিজেরাই কিভাবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মেনে নিচ্ছি, এটা তার একটা উদাহরণ ।

                আপনারা দেখেছেন, ২০১৪-র আগে আমাদের দেশে পাঁচ ডজন পঞ্চায়েতে অপটিক্যাল ফাইবার ছিল । গত পাঁচ বছরে দেড় লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছে গিয়েছে । যা আজ অনেক সাহায়্য করছে । সব পঞ্চায়েতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি । যে এক লক্ষ পঞ্চায়েত বাকি আছে, সেখানেও দ্রুত কাজ চলছে । কিন্তু, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে গ্রামের অংশগ্রহণও অনিবার্য হয়ে গিয়েছে । গ্রামের লোকেদেরও এই রকম অনলাইন সুবিধার প্রয়োজন বেড়ে গিয়েছে । এটা মনে রেখো, আমাদের যা নির্ধারিত ছিল । সব পঞ্চায়েতে আমরা পৌঁছাব, কিন্তু আজ আপনাদের আমি বলতে চাই, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ৬ লক্ষের বেশি যে গ্রাম আছে, তার সবগুলিতেই অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছান হবে । প্রয়োজন বেড়েছে, তো প্রায়োরিটিও বেড়েছে । ৬ লক্ষের বেশি গ্রামে হাজার লক্ষ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবারের কাজ চালানো হবে। আর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১০০০ দিনে, এক হাজার দিনের মধ্যে দেশের ৬ লক্ষের বেশি গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে ।

                পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিতে সাইবার স্পেস-এ আমাদের নির্ভরতাও বাড়ছেই । কিন্তু, সাইবার স্পেসে বিপদও যুক্ত থাকে – বিশ্ব তার সঙ্গে কমবেশি পরিবর্তিত । আর এর থেকে আমাদের সামাজিক পরিস্থিতি, আমাদের আর্থব্যবস্থা, আমাদের উন্নয়নে বিপদ সৃষ্টি করার সহজ পথ হতে পারে । এজন্য ভারত খুব সচেতন । ভারত খুবই সতর্ক, আর এমন বিপদের মোকাবিলার জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছে । শুধু এটাই নয়, এই ব্যবস্থাও ক্রমাগত বিকশিত করা হচ্ছে । খুব অল্প সময়ে, নতুন সাইবার সুরক্ষা রণনীতির পূর্ণ চেহারা দেশের সামনে আসবে । আগামী দিনে সমস্ত সংস্থাগুলিকে জুড়ে… এই সাইবার সিকিউরিটির মধ্যে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে চলতে হবে। সেজন্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে পরিকল্পনা রচনা করবো।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

ভারতে মহিলা শক্তি, যখন যখন সুযোগ পেয়েছে, দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন, দেশকে শক্তিশালী করেছেন । মহিলাদের স্বরোজগার ও রোজগারের সমান সুযোগ দেওয়ার জন্য আজ দেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ । আজ ভারতে মাটির নিচে কয়লাখাদানে কাজ করছেন । আজ আমাদের দেশের মেয়েরা ফাইটার প্লেন উড়িয়ে আমাদের উচ্চতাকে চুম্বন করছেন । আজ ভারত পৃথিবীর ওই সামান্য কিন্তু দেশের মধ্যে রয়েছে, যেখানে নৌসেনা ও বায়ুসেনার কমব্যাট রোল-এ মহিলাদের নিযুক্তি হচ্ছে । গর্ভবতী মহিলাদের সবেতন ছ-মাস ছুটি দেওয়ার বিষয়ই হোক । আমাদের দেশের মহিলারা, যারা তিন তালাকের জন্য অত্যাচারিত ছিলেন, আমাদের সেই মুসলিম বোনেদের অত্যাচার মুক্ত করায় কাজ হোক, মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বনের কাজ হোক, ৪০ কোটি যে জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তার মধ্যে ২২ কোটি অ্যাকাউন্ট আমাদের বোনেদের । করোনাকালে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা এই বোনেদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে । মুদ্রা লোন, ২৫ কোটির মুদ্রা লোন দেওয়া হয়েছে । এর মধ্যে ৭০ শতাংশ লোন নিয়েছেন আমাদের মা-বোনেরা । প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যাতে নিজেরে ঘর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে অধিকতম নথিভুক্ত হয়েছে মহিলাদের নামে ।

                আমার প্রিয় দেশবাসী, গরিব বোন মেয়েদের ,

আমার জনঔষধি কেন্দ্রে এক টাকায় স্যানিটারি প্যাড পৌঁছানোর দরুণ কাজ করেছি । ৬০০০ জনঔষধি কেন্দ্রে বিগত দিনে অল্প সময়ে ৫ কোটির বেশি স্যানিটারি প্যাড আমাদের গরিব মেয়েদের কাছে পৌঁছেছে । মেয়েদের অপুষ্টি শেষ  হোক, তাদের বিয়ের সঠিক বয়স কি হবে, এজন্য আমরা কমিটি গড়া হয়েছে । তাদের রিপোর্ট আসতেই মেয়েদের বিয়ের বয়সের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ।

                আমার প্রিয় দেশবাসী,

এই করোনার সংকটের কালখণ্ডে স্বাস্হ্যের দিকে নজর যাওয়া খুব স্বাভাবিক । আর তারজন্য, আত্মনির্ভর-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা আমাদের স্বাস্হ্য ক্ষেত্র পিছিয়ে দিয়েছে । আর সেই লক্ষ্য প্রাপ্তির জন্য আমাদের আগেও এগোতে হবে ।

আপনারা দেখুন, করোনার সময়ে, তার আগে, আমাদের দেশে মাত্র একটা ল্যাব ছিল টেস্ট করার । আজ ১৪০০ ল্যাবের নেটওয়ার্ক আছে । ভারতের বিভিন্ন কোনায় ছড়িয়ে । যখন করোনা সঙ্কট এল, তখন দিনে শুধু ৩০০ টেস্ট হয়ে পারতো । এত কম সময়ে আমাদের লোকেরা এই শক্তি দেখিয়েছে যে, আজ প্রতি দিন ৭ লক্ষ টেস্ট আমরা করতে পারছি । ৩০০ দিয়ে শুরু করেছিলাম, আর কোথায় ৭ লক্ষে পৌঁছে গেছি ।

দেশে নতুন এইমস, নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আধুনিকীকরণের জন্য লাগাতার প্রয়াস আমরা করছি । পাঁচ বছরে MBBS, MD-তে ৪৫,০০০-এর বেশি ছাত্রদের আসন বাড়ানো হয়েছে । গ্রামে দেড় লক্ষের বেশি ওয়েলনেস সেন্টার । যার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ তো এখনই কাজ করছে, যারা করোনার দরুণ সাহায্য করেছে । করোনার সময়ে ওয়েলনেস সেন্টারের ভূমিকা গ্রামে দারুণ সাহায্য করেছে ।

                স্বাস্হ্য ক্ষেত্রে আজ থেকে একটা খুব বড় অভিযান শুরু  হচ্ছে । আর তাতে প্রযুক্তির বিরাট ভূমিকা থাকবে । আজ থেকে ন্যাশনাল ডিজিটাল হেল্থ মিশন-এর সূত্রপাত হচ্ছে । ভারতের স্বাস্হ্য ক্ষেত্রে এ এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে । চিকিৎসায় আসা সমস্যাগুলি কমানোর জন্য প্রযুক্তির অনেক সুচিন্তিত ব্যবহার হবে ।

প্রত্যেক ভারতীয়কে হেল্থ আই ডি দেওয়া হবে । এই হেল্থ আই ডি স্বাস্হ্য অ্যাকাউন্টের মতো কাজ করবে । আপনারা প্রত্যেকটি টেস্ট, প্রতিটি রোগ, আপনি কোন ডাক্তারের থেকে কোন ওষুধ নিয়েছেন, কি ডায়গোনিসিস করেছিলেন, কবে নিয়েছিলেন, রিপোর্ট কি ছিল – এই হেল্থ আই ডি-তে একসঙ্গে থাকবে । ডক্টরের অ্যাপয়ন্টমেন্ট হোক, বায়না জমা করা হোক, হাসপাতালে টিকিট করার দৌড়ঝাঁপ হোক, সমস্ত সমস্যা ন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ মিশনের মাধ্যমে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে । আর ভাল স্বাস্হ্যের জন্য যে কোনও নাগরিক সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, এই ব্যবস্থা হতে চলেছে ।

                আমর প্রিয় দেশবাসী,

যখনই করোনা কথা ওঠে, এটা স্বাভাবিক যে, করোনার প্রতিষেধক কবে তৈরি হবে । এই প্রশ্ন সবার মনে, গোটা বিশ্বেই ।

আজ দেশবাসীদের বলতে চাই, আমাদের দেশের বৈজ্ঞানিক, আমাদের বিজ্ঞানীদের প্রতিভা, ঋষিমুনিদের মতো, ল্যাবরেটরিতে জানপ্রাণ দিয়ে, জুড়ে আছেন । অখণ্ড একনিষ্ট তপস্যা করছেন । ভীষণ কঠিন পরিশ্রম করছেন । এখন ভারতে একটা নয়, দুটো নয়, তিন – তিন তিনটি ভ্যাক্সিন পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে । বিজ্ঞানীদের থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলে, ব্যাপক পরিমাণে উৎপাদন হবে এবং তার জন্য প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ তৈরি । দ্রুত উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে এই ভ্যাক্সিন প্রত্যেক ভারতীয়র কাছে কত কম সময়ে পৌঁছয়, তার রূপরেখাও তৈরি হয়ে রয়েছে ।

                আমার প্রিয় দেশবাসী,

আমাদের দেশে আলাদা আলাদা জায়গায় বিকাশের চিত্র – কিছু এলাকা অনেক আগে, কিছু এলাকা অনেক পিছিয়ে । এই ভারসাম্যহীনতা আত্মনির্ভর ভারতের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা । এই জন্য যা আমি শুরুতে বলেছিলাম, আমরা ১২০-টি জেলার ওপর জোর দিচ্ছি, সেগুলিকে উন্নয়নের সমামানে আনতে চাইছি । আমরা বিকাশ-এর ইকো সিস্টেম তৈরি, কানেকটিভিটি ভাল করা – এটা আমাদের অগ্রাধিকার ।

আপনারা দেখুন, ভারতের পশ্চিম ভাগ, ভারতের মধ্য থেকে দেখুন এবং ভারতের পূর্ব ভাগ – পূর্ব উত্তর প্রদেশ হোক, বিহার হোক, বাংলা হোক, উত্তরপূর্ব হোক, ওড়িশা হোক – এসব আমাদের এলাকা । অপার সম্পদ আছে, প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার রয়েছে । এখানকার লোক সামর্থ্যবান, শক্তিশালী প্রতিভাবান – কিন্তু সুযোগের অভাবে এই ক্ষেত্র আমাদের ভারসাম্যহীন রয়েছে । এই জন্য অনেক নতুন পদক্ষেপ নিয়েছি । ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর হোক, পূর্বকে গ্যাস পাইপ লাইনে জোড়ার প্রশ্ন হোক, রেলের নতুন পরিকাঠামো তৈরির প্রশ্ন হোক, সেখানে নতুন বলয় বানানোর কথা হোক, – অর্থাৎ এক অর্থে বিকাশের জন্য সম্পূর্ণ পরিকাঠামো থাকা উচিৎ । সংহত উপায়ে আমরা সেটা করছি, যাতে এই ক্ষেত্রগুলিও উন্নয়নের লক্ষ্যে এগোয় ।

এইভাবেই লে, লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর একটি এলাকা, এক অর্থে এই ক্ষেত্রটি এক বছর আগে, ৩৭০ থেকে মুক্তি পেয়েছে । এক বছর পূর্ণ  হয়েছে । এক বছর জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সময় । এই এক বছর সেখানে মহিলাদের, দলিতদের মৌলিক অধিকার দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল । এটা আমাদের শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে বাঁচারও একটি বছর । উন্নয়নের লাভ গ্রাম আর গরিবের কাছে পৌঁছানোর জন্য, ব্যাক টু ভিলেজেস – এর মতো বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে । আয়ুষ্মান যোজনাকে ভালভাবে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ এলাকায় রূপায়ণ করা হচ্ছে ।

                প্রিয় দেশবাসী,

গণতন্ত্রের শক্তি, ক্ষমতা আমাদের নির্বাচিত স্হানীয় সংগঠনে আছে । আমাদের সবার গর্বের, জম্মু-কাশ্মীরে স্হানীয় সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সক্রিয়তা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিকাশের নবযুগকে আগে নিয়ে যাচ্ছেন । আমি সেখানকার সব পঞ্চায়েত সদস্য ও গ্রামপ্রধানদের হৃদয় থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, বিকাশ যাত্রায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ।

জম্মু-কাশ্মীরে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া চলছে – সুপ্রিমকোর্টের, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে, আর দ্রুত ডিলিমিটেশনের প্রক্রিয়া শেষ হতেই ভবিষ্যতে সেখানে নির্বাচন হোক । জম্মু-কাশ্মীরের বিধায়ক হোন, মন্ত্রী হোন, মুখ্যমন্ত্রী হোন – নতুন প্রেরণা নিয়ে বিকাশের পথে এগোন, এজন্য দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রযত্নশীল ।

লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানিয়ে বহু বছর আগে তাঁদের যে দাবি ছিল, তাদের যে আকাঙ্খা ছিল, তা পূর্ণ করার, তাদের মর্যাদা দেওয়ার, একটি বড় কাজ হয়েছে । হিমালয়ের মাথায় অবস্থিত লাদাখ উন্নয়নের চূড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । সেখানে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় তৈরি  হচ্ছে,  নতুন গবেষণা কেন্দ্র হচ্ছে । হোটেল ম্যানেজমেন্টের কোর্স ওখানে পড়ানো হচ্ছে, তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান বিদ্যুতের সৌর বিদ্যুৎ পার্ক তৈরি হচ্ছে ।  কিন্তু আমার প্রিয় দেশবাসী, লাদাখের কিছু বৈশিষ্ট আছে । সেই বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের বুঝতেও হবে, সামলাতেও হবে। আর যেমন সিকিম, আমাদের উত্তরপূর্বের রাজ্য সিকিম নিজেদের জৈবচাষের রাজ্য হিসেবে পরিচিতি গড়ে তুলেছে । তেমনই লাদাখ, লে, কারগিল, সমগ্র ক্ষেত্রে আমাদের দেশের জন্য কার্বন নিউট্রাল একক রূপে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারে। আর সেজন্য ভারত সরকার সেখানকার নাগরিকদের সঙ্গে মিলে একটি নমুনা রূপে, প্রেরণা রূপে, কার্বন নিউট্রাল উন্নয়নের মডেল, সেখানকার প্রয়োজনীয়তা পূরণের উপযোগী মডেল … সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

ভারত দেখিয়েছে যে পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখেও দ্রুত গতিতে উন্নয়ন সম্ভব। আজ ভারত এক বিশ্ব, এক সূর্য, এক গ্রিড এর ভাবনা নিয়ে গোটা বিশ্বকে বিশেষভাবে সৌরশক্তির ক্ষেত্রে প্রেরণা জোগাচ্ছে।

পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে আজ ভারত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচটি দেশের মধ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছে। প্রদূষণের সমাধান নিয়ে ভারত যেমন সতর্ক তেমনই সজাগ। স্বচ্ছ ভারত অভিযান হোক, ধোঁয়া মুক্ত রান্নার গ্যাসের ব্যবস্থা হোক, এলইডি বাল্বের অভিযান হোক, সিএনজি নির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা হোক, ইলেক্ট্রিক মোবাইলিটির জন্য প্রচেষ্টা হোক, আমরা কোনও চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না। পেট্রল থেকে প্রদূষণকে কম করার জন্যে ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধি আর তাঁর ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছর আগে আমাদের দেশে ইথানলের অবস্থা কেমন ছিল … পাঁচ বছর আগে আমাদের দেশে ৪০কোটি লিটার উৎপন্ন হতো। আজ পাঁচ বছর পর পাঁচ গুণ হয়ে গেছে … আর আজ ২০০ কোটি লিটার ইথানল আমাদের দেশেই উৎপন্ন হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য অনেক উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

দেশের ১০০টি শহরে … নির্বাচিত ১০০টি শহরে, প্রদূষণ কম করার জন্য , আমরা একটি সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে, একটি সংহত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ,একটি গণ অংশীদারীত্ব নিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তির ভরপুর প্রয়োগের মাধ্যমে সেখানকার প্রদূষণ কম করার লক্ষ্যে… একটি মিশন মোডে কাজ করছি।

আমার প্রিয় দেশবাসী, ভারত এজন্যে গর্ব করতে পারে … ভারত সেই বিরল দেশগুলির অন্যতম যেখানে অরণ্য বিস্তার লাভ করছে। আমাদের  বায়ো-ডাইভারসিটির সংরক্ষণ এবং ক্রমবৃদ্ধির জন্যে ভারত সম্পূর্ণরূপে সংবেদনশীল। আমরা সাফল্যের সঙ্গে ব্যাঘ্র প্রকল্প, হস্তী প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে চলেছি। আমাদের দেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এখন আগামীদিনে এশিয়াটিক লায়ন এর জন্যে সিংহ প্রকল্প চালু হচ্ছে। এতে ভারতীয় শহরগুলির নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো… আর বিশেষ করে, তাঁদের জন্যে যা প্রয়োজন হয়, বিশেষ প্রকারের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, তা নিয়েও কাজ করা হবে। আর সিংহ প্রকল্পে জোর দেওয়া হবে।

পাশাপাশি আমরা আরটি কাজকেও উৎসাহ জোগাতে চাই, আর তা হল – ডলফিন প্রকল্প। নদীগুলিতে এবং সমুদ্রে বসবাসকারী উভয় প্রজাতির ডলফিন নিয়ে আমরা কাজ করবো। এতে বায়ো- ডাইভারসিটি উন্নত হবে আর কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। এটি পর্যটনের আকর্ষণের কেন্দ্রও হয় … তাই এই লক্ষ্যেও আমরা এগিয়ে যাবো।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

যখন আমরা অসাধারণ লক্ষ্য নিয়ে অসাধারণ যাত্রাপথে বের হই, তখন পথে অনেক সমস্যা আসে, আর সেই সমস্যাগুলিও অসাধারণ হয়। এত বিপর্যয়ের মাঝে সীমান্তে দেশের সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর অপচেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু এলওসি থেকে এলএসি পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্বের দিকে যারাই কুনজরে তাকিয়েছে, দেশের সেনা, আমাদের বীর- জওয়ানরা তাঁদেরকে তাঁদের ভাষাতেই জবাব দিয়েছে।

 ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গোটা দেশ এক উদ্দীপনায় পরিপূর্ণ , শপথে প্রাণিত এবং সামর্থ্যে অটুট শ্রদ্ধা বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে | এই শপথের জন্য আমাদের বীর জওয়ানরা কী করতে পারেন, দেশ কী করতে পারে তা লাদাখেই গোটা পৃথিবী দেখে নিয়েছে | আমি আজ মাতৃভূমির জন্য প্রান বিলিয়ে দেওয়া সমস্ত বীর জওয়ানকে লালকেল্লার প্রাকার থেকে সাদরে প্রনাম জানাচ্ছি |

সন্ত্রাসবাদ হোক, কি সাম্রাজ্যবাদ ভারত বুক চিতিয়ে তার মোকাবিলা করছে| আজ ভারতের ওপর গোটা দুনিয়ার আস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে | বিগত দিনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ১৯২ টির মধ্যে ১৮৪টি দেশের সমর্থন পাওয়া আমাদের প্রত্যেক ভারতবাসীর পক্ষে এক গৌরবের বিষয় |পৃথিবীর বুকে আমরা কিভাবে নিজেদের পৌঁছে দিতে পেরেছি , এটাই তার নিদর্শন | আর এটা তখনই সম্ভব হতে পারে যদি ভারত নিজে মজবুত, শক্তিশালী, নিরাপদ হয়| এই ভাবনাকে সঙ্গী করে বহু মঞ্চেই কাজ এগিয়ে চলেছে |

     আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, আমাদের পড়শী দেশ, তা সে স্থলভাগের সঙ্গে যুক্ত হোক, কি সামুদ্রিকভাবে যুক্ত, আমরা নিজেদের সম্পর্ককে সুরক্ষা, বিকাশ এবং বিশ্বাসের যুথবদ্ধতায় যুক্ত করছি|  ভারতের নিরন্তর প্রয়াস এই থাকে যে, আমরা নিজেদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বহু শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক, আর্থিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও গভীরতা প্রদান করতে পারি| দক্ষিন এশিয়াতে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যার বসবাস |আমরা যোগাযোগ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এই বিশাল জনসংখ্যার বিকাশ এবং সমৃদ্ধির অসংখ্য সম্ভাবনা তৈরী করতে পারি | এই অঞ্চলের দেশগুলির নেতাদের এই বিশাল জনসমুদ্রের বিকাশ ও প্রগতির ক্ষেত্রে অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে | এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে | এই দায়িত্ব পালনের জন্য দক্ষিন এশিয়ার এই অঞ্চলের সমস্ত লোকের, রাজনৈতিক নেতা , সাংসদ, বুদ্ধিজীবীদের প্রতিও আমি আহ্বান জানাচ্ছি |এই গোটা অঞ্চলে যত শান্তি বজায় থাকবে , সৌহার্দ্য থাকবে, ততই তা মানবতার কাজে আসবে, মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করবে | …গোটা পৃথিবীর কল্যাণ এতে নিহিত আছে |

আজ প্রতিবেশী শুধু যাদের সঙ্গে ভৌগোলিক সীমানা আছে তারাই নয়, বরং যাদের সঙ্গে আমাদের মনের মিল আছে …যেখানে সম্পর্কে সমান বন্ধুতা থাকে, তালমিল থাকে তারাও প্রতিবেশী | আমি খুশি যে, বিগত কিছুটা সময়ে ভারত সম্প্রসারিত পড়শীয়ানার সমস্ত দেশের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে মজবুত করেছে | পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক, আর্থিক ও মানবিক সম্পর্কের প্রগতির প্রক্রিয়া অনেক গুন গতিশীল হয়েছে |আস্থাও অনেকটা বেড়েছে | এই দেশগুলির সঙ্গে আমাদের আর্থিক সম্পর্ক , বিশেষ করে শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ | এমন অনেক ক’টা দেশে .. বেশিরভাগ দেশে ব্যাপক সংখ্যায় আমাদের ভারতীয় ভাই-বোনেরা কাজ করছেন| যেভাবে এই দেশগুলি করোনা সংকটের সময় ভারতীয়দের সাহায্য করেছে | ভারত সরকারের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়েছে | সেজন্য ভারত সে সমস্ত দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে | আমিও আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাইছি |

একইভাবে আমাদের পূর্ব প্রান্তে আসিয়ান দেশ, যারা আমাদের সামুদ্রিক পড়শীও বটে, তারাও আমাদের জন্য খুবই বিশেষ গুরুত্বের জায়গায় রয়েছে | এদের সঙ্গে ভারতের হাজার বছরের পুরনো ধার্মিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে | বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্য আমাদের তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে | আজ ভারত এই দেশগুলির সঙ্গে শুধু সুরক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামুদ্রিক সম্পদের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে |

আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, ভারতের যতটা প্রয়াস শান্তি ও সৌহার্দ্যের জন্য , একই ধরনের দায়বদ্ধতা নিজেদের সুরক্ষা এবং সৈনিকদের শক্তিশালী করার জন্যও বটে | প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভর ভারত গড়তে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে | সম্প্রতি ১০০টিরও বেশি সেনা সরঞ্জাম আমদানিতে আমরা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি | ক্ষেপনাস্ত্র থেকে শুরু করে হালকা হেলিকপ্টার পর্যন্ত , অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে পরিবহনের বিমান সমস্ত কিছুই মেক ইন ইন্ডিয়ার আওতাভুক্ত হয়ে গেছে | নিজেদের তেজসও নিজের তেজ,গতি ও শক্তি দেখানোর জন্য আধুনিক প্রয়োজনের নিরিখে তৈরী করা হচ্ছে | দেশের নিরাপত্তায় আমাদের স্থল সীমা এবং উপকূলীয় পরিকাঠামোরও অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে | আজ হিমালয়ের চূড়াতে হোক, কি ভারত মহাসাগরের দ্বীপে, প্রতি ক্ষেত্রে যোগাযোগ সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে | লাদাখ থেকে অরুনাচল প্রদেশ পর্যন্ত ব্যাপক মাত্রায় আমাদের দেশের  নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নতুন সড়ক তৈরী করা হয়েছে|

আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, আমাদের এত বড় সমুদ্র উপকূল রয়েছে, এরসঙ্গে কিন্তু রয়েছে ১৩০০-র বেশি দ্বীপ |কয়েকটি বাছাই করা দ্বীপের গুরুত্ব বিবেচনা করে সেখানে দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি | আপনারা হয়ত দেখেছেন , বিগত সপ্তাহে দিন পাঁচেক আগে আন্দামান-নিকোবরে সাবমেরিন অপটিক্যাল ফাইবার প্রজেক্ট দেশবাসীকে উৎসর্গ করা হয়েছে| আন্দামান-নিকোবরেও এখন চেন্নাই ও দিল্লির মত ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যাবে | এখন আমরা আগামী দিনে লাক্ষাদ্বীপকেও এইভাবে যুক্ত করার জন্য…কাজ এগিয়ে নিতে চলেছি |

আগামী একহাজার দিনে লাক্ষাদ্বীপকেও দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য আমরা রেখেছি। সীমান্ত এবং সমুদ্রতট এলাকার যুবশক্তির …তাঁদেরকেও … নিরাপত্তার কেন্দ্রে রেখে উন্নয়নের মডেল গড়ার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি। আর এতে এক কদম, একটি বড়ো অভিযান আমরা শুরু করেছি।

আমাদের সীমান্ত এলাকা এবং সমুদ্রতটবর্তী অঞ্চলগুলির সঙ্গে যুক্ত ১৭৩টি জেলায় আগামীদিনে এনসিসি-র বিস্তারের মাধ্যমে ঐ অঞ্চলগুলি থেকে প্রায় এক লক্ষ নতুন এনসিসি ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সমুদ্রতটবর্তী ক্যাডেটদের  আমাদের নৌসেনার প্রশিক্ষকরা আর যেখানে যেখানে আমাদের এয়ারবেস রয়েছে সেখানকার ক্যাডেটদের আমাদের বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষকরা প্রশিক্ষণ দেবেন। সীমান্ত এলাকা এবং সমুদ্রতটবর্তী অঞ্চলগুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য একটি প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ পাওয়া যাবে, নবীনরা সশস্ত্র বাহিনীগুলিকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারবেন।

আমার প্রিয় দেশবাসী,

গতবছর লালকেল্লা থেকে আমি বলেছিলাম, বিগত পাঁচ প্রয়োজন সাধনের জন্য কাজ করেছি, আর আগামী পাঁচবছর আকাঙ্খাপূরণের জন্য কাজ করবো। বিগত এক বছরেই দেশ বড়ো এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির ধাপ অতিক্রম করেছে। গান্ধীজীর ১৫০তম জন্মজয়ন্তীতে ভারতের গ্রামগুলি নিজেদের উন্মুক্তস্থানে শৌচমুক্ত ঘোষণা করেছে। ধর্মীয় কারণে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে বিতাড়িত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের আইন, দলিত, পিছিয়ে পড়া, এসসি, এসটি,ওবিসিদের জন্যে সংরক্ষণের অধিকার, আসাম ও ত্রিপুরায় ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি, সেনাবাহিনীগুলির সামগ্রিক শক্তিকে আরও প্রভাবশালী করে তোলার জন্যে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ এর নিযুক্তি, রেকর্ড সময়ে করতারপুর সাহিব করিডর এর দ্রুত নির্মাণ …ইত্যাদির মাধ্যমে দেশ ইতিহাস গড়েছে, অসাধারণ কাজ করে দেখিয়েছে।

১০দিন আগে অযোধ্যায় ভগবান রামের সুন্দর মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। রাম জন্মভূমির কয়েক শতাব্দী প্রাচীন বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়ে গেছে। দেশের মানুষ যে সংযম নিয়ে পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অভূতপূর্ব, এবং ভবিষ্যতের জন্য আমাদের প্রেরণার উৎস। শান্তি, একতা, এবং সদ্ভাবনার – এটাই তো ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের গ্যারান্টি।এই সদ্ভাব নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। উন্নয়নের এই মহাযজ্ঞে প্রত্যেক ভারতবাসীকে কিছু না কিছু আহুতি দিতে হবে।

এই দশকে ভারত নতুন নীতি এবং নতুন রীতি নিয়ে এগিয়ে যাবে, যখন সাধারণ দিয়ে কাজ চলেনা… এখন ‘হোতা হ্যায়’, ‘চলতা হ্যায়’ এর জমানা চলে গেছে, আমরা এখন বিশ্বে কারও থেকে কম নই। আমরা সবার উপরে থাকার চেষ্টা করবো। আর সেজন্য আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ উপাদান, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব সম্পদ, সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসন, আর প্রত্যেক ক্ষেত্রে  সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষের জন্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আমাদের নীতি, আমাদের প্রক্রিয়া, আমাদের পণ্যসমূহ –সবকিছু যাতে উৎকৃষ্ট হয়, তবেই ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ এর পরিকল্পনাসাকার হবে। আজ আমাদের আরেকবার সংকল্প গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এই সংকল্প স্বাধীনতার জন্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করার জন্যে হবে, এই সংকল্প ১৩০ কোটি দেশবাসীর জন্য হবে, এই সংকল্প আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্যে, এই সংকল্প আত্মনির্ভর ভারতের জন্যে হবে। আমাদের শপথ নিতে হবে, আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আমরা আমদানী হ্রাস করার লক্ষ্যে অবদান রাখবো, আমরা নিজেদের ক্ষুদ্র শিল্পগুলিকে ক্ষমতায়িত করবো, আমরা সবাই লোকালের জন্যে ভোকাল হবো আর আমরা বেশি উদ্ভাবন করবো… আমরা আমাদের নবীনদের, মহিলাদের, আদিবাসীদের, দিব্যাংগদের, দলিতদের, গরিবদের, গ্রামগুলিকে, পিছিয়ে পড়াদের, প্রত্যেককে ক্ষমতায়িত করবো।

আজ ভারত অসাধারণ গতিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এই ইচ্ছাশক্তি, এই ঐকান্তিকতা, এই উদ্দীপনা নিয়ে প্রত্যেক ভারতীয়কে এগিয়ে যেতে হবে।

২০২২সাল আমাদের স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষ সামনেই এসে গেছে। আমরা এক পা দূরে। আমাদের দিনরাত এক করে কাজ করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশক আমাদের স্বপ্ন পূরণের দশক হওয়া উচিত। করোনা বড়ো বিপত্তি হয়ে এসেছে, কিন্তু এত বড়ো হয়নি যে আত্মনির্ভর ভারতের বিজয়যাত্রাকে থামাতে পারবে।

আমি দেখতে পাচ্ছি, একটি নতুন প্রভাতের লালিমা, একটি নতুন আত্মবিশ্বাসের উদয়, একটি নতুন আত্মনির্ভর ভারতের শঙ্খনাদ। আরেকবার আপনাদের সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের কোটি কোটি শুভকামনা। আসুন আমার সঙ্গে দুই হাত উপরে তুলে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে বলুন –

 ভারতমাতা কী জয়, ভারতমাতা কী জয়, ভারতমাতা কী জয়,

বন্দে মাতরম,  বন্দে মাতরম,  বন্দে মাতরম,

জয় হিন্দ, জয় হিন্দ।