৬১৩ জন ইমাম, ১৮ লাখ উইঘুর মুসলিমদের বন্দি করল চিন

3
Social Share

বেইজিং: চিনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন ও দমন-পীড়নের অভিযোগ নতুন নয়। এবার মসজিদের ইমামদেরও আটকে রাখার অভিযোগ উঠলো চিনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

নির্বাসনে থাকা একজন উইঘুর ভাষাবিদ জানান, ক্রমশ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, উইঘুররা মৃত্যুকে ভয় পায়, কেননা মারা গেলে ধর্মীয় নিয়ম তাদের দাফন-কাফন (জানাজা) করার জন্যেও কোনও ইমাম নেই।

নরওয়ে ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সিটিস অফ রেফিউজি নেটওয়ার্ক (আইসিওআরএন) সংস্থার এক্টিভিস্ট আবদুবেলি আইয়ুপ শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুরদের সাক্ষাৎকার নিয়ে বলেন, ৬১৩ জনেরও বেশি ইমামকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ভিত্তিক উইঘুর মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমামরা কোথায়?’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ। আইয়ুপ বলেন, আমরা ২০১৮ সালের মে মাস থেকে এই অনুসন্ধান শুরু করেছি এবং নভেম্বরে এই সাক্ষাৎকার শেষ হয়। আমি দেখেছি বেশি সংখ্যক উইঘুর জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় নেতাদের টার্গেট করা হয়েছে।

আবদুবেলি আইয়ুপ জানান, ২০১৭ সাল থেকে প্রদেশটির বন্দিশিবিরে আটক ১ কোটিরও বেশি উইঘুর এবং অন্তত ৬১৩ জন ইমাম। বন্দিশিবির থেকে মুক্তি পাওয়া অন্তত ১৬ জন উইগুরের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, সম্প্রতি ইমামদের আটক করার সংখ্যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। মূলত উইঘুরদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে চিন সরকার।

চিনের শি জিনপিং প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী উইঘুর মুসলিমদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। বন্দিশিবিরে আটকে রাখার পাশাপাশি, ৬০০টির বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ইসলাম ধর্মকে অপমান করতে কিছু মসজিদকে সুলভ শৌচালয়ও বানিয়ে দিচ্ছে।