৫৬০ মডেল মসজিদ নির্মাণে ফের সময় বাড়ছে

Social Share

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছর ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। আড়াই বছর পার হলেও প্রকল্পটিতে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। কার্যাদেশ দিয়েও এখনো ৯৫টি স্থানের জমির দখল বুঝে পায়নি ইসলামি ফাউন্ডেশন (ইফা)। করোনার প্রভাবে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ। প্রকল্পটিতে কিছু স্থানে এখনো নকশা চূড়ান্ত হয়নি। ইফা সূত্র জানায়, প্রতিটি জেলায় চারতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু আগস্ট পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি মসজিদের চতুর্থ তলা ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পটিতে অতি সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছেন মো. নজিবর রহমান (অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী)। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটিতে চাহিদার অর্ধেক টাকাও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। করোনার প্রভাবেও কাজ ধীরগতি হয়েছে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরো অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। নির্মাণকাজের ব্যয় বাড়তে পারে ১৮ শতাংশের মতো। তবে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্প সংশোধনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিটি জেলা  উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প নেওয়া হয়। ইতিপূর্বে ১ম সংশোধিত আকারে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এপ্রিল, ২০১৭ হতে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটিতে প্রত্যাশিত সৌদি অনুদান না পাওয়ায় নিজস্ব ব্যয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে সংশোধন করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের শুরু থেকেই ভূমি জটিলতায় বিভিন্ন স্থানে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। ইফা সূত্রে জানা যায়, সংশোধিত অনুমোদিত প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মডেল মসজিদের জন্য ৪০ শতাংশ জায়গার প্রয়োজন। জেলা পর্যায়ে চারতলা ও উপজেলার জন্য তিনতলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতিকেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের পৃথক অজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি গবেষণা ও দীনি দাওয়া কার্যক্রম, পবিত্র কুরআন হেফজ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অধীনে ৫২৯টির ডিজিটাল সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মৃত্তিকা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ৫২৭টির। সবমিলিয়ে ৫১৫টির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাঁচটি মসজিদের চতুর্থ তলা ছাদ ঢালাই হয়েছে। ৩৩টির তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। ৩১টি দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সবমিলিয়ে কাজ শুরু হয়েছে ৪১২টি মসজিদের।

ইফা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৭ মার্চের মধ্যে অন্তত ৪০টি মসজিদ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ব্যবহার উপযোগী করাতে চাইছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। বাকিগুলো অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে কাজ চলমান রাখা হবে। পার্বত্য এলাকায় জনসংখ্যা কম বিবেচনায় মসজিদের আয়তন ছোট করা হতে পারে। ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় দরপত্র স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন দুরূহ ও ব্যয় সাপেক্ষ হওয়ায় ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব এলাকায় কার্যাদেশ দিয়েও জমি বুঝে পাওয়া যায়নি সেসবস্থানে দ্রুত জমির দখল বুঝে নেওয়ার কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।