২৮ অক্টোবর ২০০৬: ভয়াল সেই দিনের কিছু অজানা ঘটনা ও কথা

Social Share

নীরবেই চলে গেল ঘটনাবহুল ২৮ অক্টোবর ২০২০। এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের  একটি ঘটনাবহুল ভয়াবহ দিন। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি বিএনপি ঘরনার কে এম হাসানকে নিয়োগ প্রদান না করার দাবীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জাতীয় সংসদে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘লগি-বৈঠা’ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সমাবেশে হাজির হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিন রাজধানীর পল্টনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও তৎকালীন সদ্য ক্ষমতাত্যাগী চারদলীয় বিএনপি-জামাত জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

স্মৃতি রোমন্থন করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই ভয়াল দিনের ঘটনাগুলো। আরও মনে পরে সেদিনের আওয়ামী লীগ নেতাদের জীবনবাজি রাখা ভূমিকাসমূহ। তৎকালীন ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক, সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক মির্জা আজম, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিম, সাধারন সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি লিয়াকত সিকদার, সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, যুব মহিলালীগ সভাপতি নাজমা বেগম ও সাধারন সম্পাদক অপু উকিল এবং শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দের ভূমিকার কথা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

উল্লিখিত নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ‘লগি-বৈঠা’ নিয়ে সকাল থেকেই ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হতে থাকে। মাননীয় নেত্রী সুধাসদন থেকেই নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে লোক সমাগমও বাড়তে থাকে। লোক সমাগম বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ছাড়িয়ে পল্টন ময়দান পর্যন্ত ছড়িয়ে পরলো। মতিঝিল, ডেমরা, শ্যামপুর এলাকার নেতাকর্মীরা দৈনিক বাংলার মোড় হয়ে শাপলা চত্বর পর্যন্ত জমায়েত হতে থাকে। বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা নানারকম মারাত্নক অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে অবস্থান নিয়েছিল। ফলে দুই গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে যায়। যোহর নামাজের একটু আগে, ১২ টা /সাড়ে বারোটা নাগাদ টেলিফোনে জানতে পারলাম একটি এম্বুলেন্স বেশ কয়েকজন লোকসহ রোগী নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যাবে বলে দৈনিক বাংলার মোড়ে অবস্থানরত মানুষের ভীড় ঠেলে পল্টন মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সহায়তায় মানবিক কারনে সমাগত নেতাকর্মীরা এ্যাম্বুলেন্সটিকে এগিয়ে যেতে সহযোগীতা করে। তখন কেউই বুঝতে পারেনি, এ্যাম্বুলেন্সের লোকগুলো নানা অস্ত্রে সজ্জিত বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসী। ওরা এসেছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের খুন করার জন্য।

মাননীয় নেত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব হিসাবে আমি তখন কর্মরত ছিলাম। পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলার মোড়, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী কার্যালয়ের সামনে সমবেত নেতাকর্মীদের অবস্থান, সার্বিক পরিস্থিতি জানার জন্য নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলাম এবং মাননীয় নেত্রীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট দিচ্ছিলাম। নেতাকর্মীরা যে যার মত করে ফোন করে পরিস্থিতি জানাচ্ছিলেন। হঠাৎ সংবাদ পেলাম পূর্বের ঐ এম্বুলেন্সের কিছু লোক হাউসবিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনের দোতলায় এবং অপর কিছু লোক বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটের উল্টো দিকে একটি বিল্ডিং এর দোতলায় অবস্থান নিয়েছে। কয়েকজন আওয়ামীলীগ কর্মীকে অনুরোধ করলাম তাদের অনুসরণ করার জন্য এবং লোকগুলো সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য দেওয়ার জন্য। অল্পক্ষণ পরই অনুকরণকারীরা জানালো, উক্ত লোকগুলো নানা ধরনের মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত। হাউজবিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনের দোতলায় অবস্থানরত লোকগুলো পল্টন মোড়ে অবস্থানরত আমাদের নেতাকর্মীদের উপর এবং ভিন্ন গ্রুপটি দৈনিক বাংলা মোড়ে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের উপর গুলিবর্ষণ করার পরিকল্পনা করছে। এ খবর জানার পর কোনপ্রকার কালক্ষেপণ না করে দুই মোড়ে অবস্থানরত আওয়ামীলীগ নেতাদের বিষয়টি অবহিত করলাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে, তৎকালীন ডেমরা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ মুন্নাকে আমি ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম, ”হারুন, তোমার অবস্থান কোথায়? সাথে কে কে আছে? লোকজন কত হবে?” সে উত্তরে জানালো ‘হাবিবুর রহমান মোল্লা (মরহুম)সহ হাজার খানেক লোক দৈনিক বাংলার মোড়ের কাছাকাছি ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছি”। আমি বললাম, “দ্রুত দৈনিক বাংলার মোড়ে সবাই অবস্থান নাও। ওরা (বিএনপি-জামাত) দৈনিক বাংলার মোড় দখলে নিয়ে নিবে, হামলা হতে পারে, প্রতিরোধের ব্যবস্থা করো’। সত্যি কথা বলতে কি, হারুন-অর-রশিদ মুন্নার সেদিনের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। ডেমরা থানা আওয়ামীলীগ এর তৎকালীন সভাপতি হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ বিশাল মিছিল নিয়ে তারা দ্রুত দৈনিক বাংলার মোড়ে অবস্থান নেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে মাননীয় নেত্রীকে আশ্বস্থ করতে বলে। ওদিকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ও মহিলা নেতাকর্মীরা আগে থেকেই পল্টন মোড় নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।

সর্বত্রই এক ভীতিকর ও থমথমে অবস্থা বিরাজমান। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া শুরু হলো। এভাবে দুপুর পেরিয়ে বিকাল হয়ে গেল। দু’পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ চলছিল। সাথে গুলিবর্ষণ, বোমা বিষ্ফোরণ, জ্বালাও পোড়াও। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের রক্ষা করার জন্য দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নিল। হঠাৎ জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাইয়ের ফোন। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললেন, “আমাদের ‘খাবার’ শেষ। পিছু হঠতে বাধ্য হচ্ছি। জরুরী ভিত্তিতে খাবার লাগবে”। ভাবলাম হয়তো লোকজন বেশী দুপুরের খাবার শেষ হয় গেছে। কিন্তু এখন খাবার কেন? বুঝতে সামান্য সময় নিলাম। না, সাংকেতিক বার্তা। আদিষ্ট হলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

সুধাসদনের চারিদিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোক সজাগ দৃষ্টি নিয়ে ঘুরাফেরা করছে। চিন্তা করছি, কিভাবে ‘খাবার’এর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি পাঠাবো? সুধাসদনের মুল ফটকের সামনে একটি টিভি চ্যানেলের গাড়ি। রিপোর্টারের খোঁজ নিয়ে জানলাম শামিম আহমেদ, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। আমাদের সাথে খুবই আন্তরিক সম্পর্ক। তাকে সব ঘটনা বুঝিয়ে বললাম। সহযোগীতা চাইলাম। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি রাজি হলেন। উনার গাড়িতে কয়েক শত পানি ভর্তি বোতল তুললাম। শত্রু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ‘খাবার’ পানির নীচে দিলাম। শামিম আহমেদ গাড়ি নিয়ে পল্টন মোড়ে নানক ভাইয়ের নিকট সকল ‘খাবারের সরঞ্জামাদি’ হস্তান্তর করলেন। নেতৃবৃন্দের মনোবল বেড়ে গেল। নেতাকর্মীরা বিপুল মনোবল নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে ঝাঁপিয়ে পরলো। এ যেন একাত্তরের আরেক রনাঙ্গণ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা ফাক্রার জন্য মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত শত্রুদের বিতাড়িত করার যুদ্ধ। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের মুহুর্মুহু আক্রমণে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়ে পুলিশী নিরাপত্তায় বায়তুল মোকাররম এর উত্তর গেইট ত্যাগ করেছিল। এই আন্দোলনে বিজয়ের ফলশ্রুতিতে বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২৮ অক্টোবর ২০০৬-এর ঘটনার রেশ এখানেই শেষ হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর শুরু হয় ভিন্ন ষড়যন্ত্র। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে মাননীয় নেত্রী আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় সাংগঠনিক কর্মসুচি শেষ করে ঢাকা ফিরেছেন। মাননীয় নেত্রীকে সুধাসদনে পৌঁছে দিয়ে সহকারী একান্তসচিব হিসাবে আমার করনীয় সকল আনুষঙ্গিক কাজ যথারীতি শেষ করে সন্ধ্যার একটু আগে বাসায় ফিরছিলাম। আমি সাধারনত ধানমন্ডি লেকের পাড় দিয়ে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরি। সুধাসদন থেকে আমার বাসার দূরত্ব কয়েক মিনিটের পায়ে হাঁটা পথ। সারাদিন পর ক্লান্ত শরীরে লেকের পাড়ের নিরিবিলি পরিবেশে হেঁটে আসতে ভালই লাগে। কিন্তু সেদিন হেঁটে আসলাম না । কারন, গোপালগঞ্জ থেকে ফেরার পূর্বে মাননীয় নেত্রী সফরসঙ্গী সকল নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে শীত মৌসুমের উপহার হিসাবে মাদারীপুরের বিখ্যাত ‘খেজুরের গুড়’ উপহার দিয়েছিলেন। ক্লান্ত শরীরে সেই গুড়সহ ভারী ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে ইচ্ছে করছিল না। কানাডা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি সরোয়ার ভাই-এর গাড়িতে আমি ও মাহমুদুল হাসান বাবুল ভাই লিফ্ট নিয়েছিলাম।

আমরা গাড়িতে করে সুধাসদন থেকে সামান্য এগুতেই ধানমন্ডি ৬নং রোডের ক্রসিং থেকে আমাদের তিনজনকেই গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতারের কোন কারণ জানালো না। এরপর  JIC (Joint Interrogation Cell) তে আমাকে ৫ রাত ৫দিন অমানুষিক শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। ছাদের ফ্যানহুকের সাথে ঝুলিয়ে চারিদিক থেকে একাধিক লোক কোমড় থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সেই ক্ষতসমূহ নিরাময় হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উদ্দেশ্য ছিল একটাই, মাননীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে কয়েকটি মিথ্যা মামলা দেওয়া। তন্মধ্যে একটি ছিল, ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষে আমজনতার গনপিটুনীতে সন্ত্রাসী নিহতের ঘটনায় মাননীয় নেত্রীকে হুকুমদাতা হিসাবে আসামী করে হত্যা মামলা করা। প্রতিটি মামলায় মাননীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে আমাকে সাক্ষী বানানোর জন্যই নির্মম শারীরিক নির্যাতনসহ মানষিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ক্রসফায়ার করা হবে বলে গভীর রাতে অজু করিয়ে হুজুরকে দিয়ে কলেমা পাঠ করানো হয়েছিল। শেষ ইচ্ছা কি, জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। এমনিভাবে দুইদিন ক্রসফায়ার করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

একদিন গভীর রাতে চোখ খোলা রেখে মাথার চুল পরিপাটি করে কাফরুলের একটি মার্কেটের খোলা মাঠ পায়ে হেটে অতিক্রম মার্কেটের দোতলায় নিয়ে গিয়েছিল। অন্য একদিন খালি পায়ে, চোখ বেঁধে, হাতকড়াসহ কোথাও কোন খোলা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। পায়ের নীচে ঠান্ডা ভিজা বালি, ঠান্ডা বাতাস, চোখ বাঁধা, চারিদিকে নীরব নিস্তব্ধ। আমাকে শেষবারের মত রাজী করাতে চেষ্টা করছে। আমার মনে নানা ধরনের চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। ভাবলাম, আমি মুসলমান, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, জন্ম-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। মরি বাঁচি মাথানত করবো না। আমি চিৎকার করে বলেছিলাম, ‘শেখ হাসিনা নির্দোষ, ফুলের মত নিষ্পাপ’। আমার মায়ের দোয়ায়, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ক্রসফায়ার হয়নি, আমি আজও বেঁচে আছি। আমি গর্ব  করে বলি, শত নির্যাতনেও আমাকে দিয়ে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোন মামলায় বাদী বা সাক্ষী হতে রাজি করাতে পারেনি।

কাফরুল মার্কেটের ঘটনাসহ সেই নির্যাতনের আরও অনেক বর্ননা রয়েছে। সেদিকে না গিয়ে মূল ঘটনায় ফিরে আসি। সেই ভয়ংকর ঘটনাবহুল স্মৃতিবিজড়িত দিন ২৮ অক্টোবর এ বছর নীরবে চলে গেল। সেই ভয়াল দিনে নেতৃত্বদানকারী সিপাহসালারদেরসহ সেদিনের সফলতার পেছনে সহায়তা দানকারীদের খোঁজ নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মান দেওয়া উচিত।

চলার পথে একদিন সেদিনের সহায়তাদানকারী একজন এসবি পুলিশ কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত হয়েছিল, অবসরে গেছেন, মেয়ের লেখাপড়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। মেয়ের চাকুরীর জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। সেদিনের সেই টিভি রিপোর্টার শামীম আহমেদ জীবন-জীবিকার কি করছেন জানিনা। একদিন দেখা হয়েছিল, কুশল বিনিময়ের পর অনেক স্মৃতিচারণ হলো। অবশেষে বললেন, “ ভাল আছি। দিন কেটে যাচ্ছে”

২৮ অক্টোবর ২০০৬ এর আন্দোলনের সফলতায় সম্পৃক্ত সকল নেতাকর্মীকে আন্তরিক অভিনন্দন। আরও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঐ সকল প্রতি যাঁরা চাকুরীর মায়া না করে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করার জন্য জনগনের যৌক্তিক আন্দোলনে সহযোগীতা করেছিলেন। যদি ঐ সময় টিভি চ্যানেল এর গাড়িটা না থাকতো, অথবা যদি শামীম আহমেদ চাকুরীর ভয়ে সহযোগীতা করতে রাজি না হতো, অথবা যদি পুলিশের কর্মকর্তারা চাকুরীর ভয়ে সহযোগীতার হাত প্রসারিত না করতো, তবে হয়তো ফলাফল ভিন্ন হতো। আজকের লেখাটাও হয়তো ভিন্নভাবে লেখা হতো।

লেখক: ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক কর্মী।