২৪ ঘন্টায় দেশে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু কমেছে, বেড়েছে সুস্থতা

Social Share

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের ১৯০তম দিনে এই ভাইরাসে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে সুস্থতার হার।
গত ২৪ ঘন্টায় ১২ হাজার ৯৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৭৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ১০ হাজার ৭২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২৮২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কম।
দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৪৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫২০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ১৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৩৭২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৪৩ জন।
আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৭০ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ৩ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৪ জন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৭৩৩ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ। গতকালও মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৫০ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১০ হাজার ৯৮ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ২ হাজার ৭৫২টি নমুনা বেশি সংগ্রহ হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৯৪টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে
১২ হাজার ৯৯৯ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১০ হাজার ৭২৩ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার ২৭৬টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত শনাক্ত ১৯৮১ দশমিক ৮৪ জন। সুস্থ হয়েছেন প্রতি ১০ লাখে এ পর্যন্ত ১৪১৩ জন এবং প্রতি ১০ লাখে মারা গেছেন এ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৭৯ জন। সপ্তাহের ভিত্তিতে নমুনা পরীক্ষা ৯৭ হাজার ৫২৩টি, শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৪৭৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ২০ হাজার ৪১৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৫৫ জন।
৩৬তম সপ্তাহের সাপেক্ষে পরিবর্তনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, শনাক্ত হ্রাস পেয়েছে ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায মৃত্যুবরণকারী ৩১ জনের মধ্যে পুরুষ ২৫ জন, আর নারী ৬ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ৬৮৬ জন, আর নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৪৭ জন; শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, আর নারী ২২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জন হাসপাতালে ও ৩ জন বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেছেন ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়া ২ হাজার ৩৭২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১ হাজার ৪০১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৯ জন, রংপুর বিভাগে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৩০০ জন, বরিশাল বিভাগে ৪০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৯ জন, সিলেট বিভাগে ১০৭ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন এবং ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ২১ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২১ জন; যা শূন্য দশমিক ৪৪ শতংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪১ জন; যা শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১০৯ জন; যা ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২৮২ জন; যা ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৬১৭ জন; যা ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন; যা ২৭ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ২ হাজার ৩৭৫ জন; যা ৫০ দশমিক ১৮ শতাংশ।
মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুর বিভাগে ২ জন করে এবং খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২ হাজার ২৯৩ জন; যা ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১ জন; যা ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৩১৯ জন; যা ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৪০১ জন; যা ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ১৮০ জন; যা ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ২১২ জন; যা ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২২৫ জন; যা ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২ জন; যা ২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ১০৭টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৩১ জন ও শয্যা খালি আছে ৪ হাজার ১৭৬টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩০৮টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি রোগী আছে ১৮৭ জন ও শয্যা খালি আছে ১২১টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭৮২টি, ভর্তিকৃত রোগী ১৭০ জন ও শয্যা খালি আছে ৬১২টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৪ জন ও শয্যা খালি আছে ২৫টি। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৩৮৬টি, সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগী ১ হাজার ১৪০ জন ও শয্যা খালি আছে ৬ হাজার ২৪৬টি এবং আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২০১টি ও আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৯৩ জন ও শয্যা খালি আছে ১০৮টি । সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ২৭৫টি, রোগী ভর্তি আছে ৩ হাজার ২৪১ জন এবং শয্যা খালি আছে ১১ হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৪৮টি, রোগী ভর্তি আছে ২৯৪ জন এবং খালি আছে ২৪৫টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৩ হাজার ১টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৫২২টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১৩১টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে। এছাড়া www.dghs.gov.bd এর CORONA কর্ণারে ‘করোনা বিষয়ক অভিযোগ প্রেরণ’ লিঙ্ক অথবা http:/app.dghs.gov.bd/covid19-complain লিঙ্ক ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক যেকোন অভিযোগ পাঠানো যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৩৪৫ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৫১৭ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৭৬ হাজার ২৩৩ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৮৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ২৪৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৪১ জন, আর কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৭১৪ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ১২ হাজার ৬৯৩ জন, আর এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৪ লাখ ৬২ হাজার ২৪৮ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫০ হাজার ৪৪৫ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৮০৩টি, ৩৩৩ এই নম্বরে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৮২টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫, এই নম্বরে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ২৩৮টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫২৩টি। এ পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকল এসেছে ২ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৩৩৪টি।
করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৯৮ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৫ হাজার ১১২ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯০১ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ৭৪৭ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৯ লাখ ২৫ হাজার ৯২৯ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৩ জন এবং এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৯১ হাজার ১২১ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৯০ জন এবং এ পর্যন্ত ৯ লাখ ১১ হাজার ৮৭৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।