২০০ বছরেও যে গ্রাম এ ঢোকেনি পুলিশ

89
গ্রাম
Social Share

এ যেন এক রূপকথার গ্রাম। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ, সবুজ-শ্যামল, অপরূপ ও মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য। দিগন্তবিস্তৃত ধান খেত আর প্রকৃতি। যেখানে শিক্ষার হার শতভাগ। অধিকাংশই উচ্চশিক্ষায় আলোকিত। এখানে নেই চুরি, ডাকাতি বা মাদকের ছোবল। নেই ঝগড়া-বিবাদ। সুখে-দুঃখে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো তাদের মূল বৈশিষ্ট্য। এমন এক আদর্শ গ্রাম নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের হুলহুলিয়া। অবাক করা তথ্য হলো, গত ২০০ বছরেও এই গ্রামে কখনো পুলিশ আসার প্রয়োজন হয়নি।

জেলা সদর থেকে ৩৭ কিলোমিটার এবং সিংড়া থানা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ছায়াঢাকা ও শান্ত এক গ্রাম হুলহুলিয়া। চলনবিলবেষ্টিত এ গ্রাম ১৩টি পাড়া নিয়ে গঠিত। গ্রামের আয়তন প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার। এই গ্রামে শিক্ষার হার ও স্যানিটেশন-ব্যবস্থা প্রায় শতভাগ। এ গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় ৬ হাজার, ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬০০। এ গ্রামে রয়েছে একটি মসজিদ, মন্দির, কওমি মাদরাসা, ডাকঘর, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চবিদ্যালয়। এ উচ্চবিদ্যালয়ে রয়েছে ছাত্র সংসদ।

১৯১৪-১৫ সালের দিকে একবার প্রবল বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্রামে অভাব দেখা দেয়। বন্যার পর গ্রামের অনেক চাষি ধানবীজের অভাবে জমি ফেলে রাখতে বাধ্য হন। সবার মনে কষ্ট, হতাশা। বিষয়টি গ্রামের মাতবর মছির উদ্দিন মৃধার মনে দাগ কাটে। একদিন গ্রামের প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে লোক ডেকে নিয়ে সভা করেন তিনি। সিদ্ধান্ত হয়, যাদের ঘরে অতিরিক্ত ধানবীজ আছে, তারা বিনা শর্তে অন্যদের ধার দেবেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, খালি জমি ফসলে ভরে ওঠে। এতে উদ্বুদ্ধ হয়েই গ্রামের উন্নয়নে সবাইকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৪০ সালের ১ জানুয়ারি গঠিত সেই পরিষদই আজ ‘হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ’ নামে পরিচিত।

জানা যায়, হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে গ্রামের নিজস্ব ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ২৩ সদস্যের সামাজিক উন্নয়ন পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, একজন ভাইস-চেয়ারম্যান ও ২১ জন নির্বাহী সদস্য থাকেন। এছাড়া পাঁচজন উপদেষ্টা থাকেন কমিটিতে। দুই বছর পরপর গ্রামবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে পরিষদ নির্বাচিত হয়। গ্রামের পুরুষ ভোটারদের ভোটে এ পরিষদ গঠিত হয়।

জানা যায়, হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে গ্রামের নিজস্ব ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ২৩ সদস্যের সামাজিক উন্নয়ন পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, একজন ভাইস-চেয়ারম্যান ও ২১ জন নির্বাহী সদস্য থাকেন। এছাড়া পাঁচজন উপদেষ্টা থাকেন কমিটিতে। দুই বছর পরপর গ্রামবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে পরিষদ নির্বাচিত হয়। গ্রামের পুরুষ ভোটারদের ভোটে এ পরিষদ গঠিত হয়।