১৪ দলের সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই : বাদশা

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন, ‘পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন-এর একটি বক্তব্য নিয়ে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো, তার অবসান হয়েছে। এখন ১৪ দলের মধ্যে কোন বিরোধী নেই।’

আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে পার্টি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

পার্টির দশম কংগ্রেস উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক ও কামরুল আহসান এবং কেন্দ্রীয় সদস্য তপন দত্ত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত পার্টির দশম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।

পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে ওই কংগ্রেস প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি অন্যান্য নেতাকর্মীদের তা বর্জনের আহ্বান জানান দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটব্যুরোর দুই সদস্য নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির জাহিদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকির হোসেন হবি, মোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু, অনিল বিশ্বাস ও তুষার কান্তি দাস। এর আগে একই অভিযোগে পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস দল থেকে পদত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, দশম কংগ্রেস বর্জনের আহ্বানকারী ছয় কেন্দ্রীয় নেতার কংগ্রেস প্রতিনিধিত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাঁদেরকে বহিষ্কারের বিষয়ে কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিমল বিশ্বাসকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর ওই ৬ নেতার কংগ্রেসের প্রতিধিত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের বহিস্কারের বিষয়ে কংগ্রেসে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে। কতিপয় নেতার পার্টিবিরোধী তৎপরতায় কংগ্রেসে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন-এর বক্তব্য নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন কোনো বিরোধ নেই। পার্টির সভাপতি তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যাতে তাঁর বক্তব্যে যে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তার অবসান ঘটেছে। আদর্শিক জোট ১৪ দল বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য বাদশা বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করায় পার্টির আগের থেকে শক্তিশালী হয়েছে। এরইমধ্যে পার্টির ৫৭টি জেলা কমিটি সফল সম্মেলন করেছে। যা অতীতের থেকে বেশি। কংগ্রেস নিয়ে এবার পার্টির আগ্রহ ও উদ্দীপনাও অনেক বেশি। এবারের কংগ্রেসে আট শতাধিক প্রতিনিধি-পর্যবেক্ষক ও দেশ-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান।

আগামী ২ নভেম্বর শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কংগ্রেসের উদ্বোধন করবেন পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোল’। কংগ্রেসে প্রাথমিক সদস্যদের মধ্যে থেকে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। কেবল তাঁরাই কংগ্রেসে অংশ নিতে পারবেন।