ফরিদপুরের করিমপুর যুদ্ধে ১২ শহীদের শাহাদাত বার্ষিকী

ফরিদপু প্রতিনিধি: প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচিতে পালিত

95
১২ শহীদের
Social Share

ফরিদপুরে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১২ শহীদের ৫০তম শাহাদাত বার্ষিকী ছিল আজ ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার।
ফরিদপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচিতে এ বছরে প্রথমবারের মতো করিমপুরের যুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ১২ শহীদের কবর জিয়ারত, পুস্পমাল্য অর্পণ, মোনাজাত, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌণে নয়টার দিকে শহরের আলীপুর কবরস্থানে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংয়গঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) লিটন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন,লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা ও একটি দেশ পেয়েছি। আমরা যেন তাদের আত্মত্যাগের কথা কখনও ভুলে না যাই। শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে সর্বদা সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোরের পতন হলে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের করিমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। এ খবর পেয়ে পাশের নতিবপুর ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা অধিনায়ক কাজী সালাউদ্দিন নাসিম ও সহঅধিনায়ক মেজবাহউদ্দিন নৌফেলের নেতৃত্বে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।শুরু হয় হানাদারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের এক মরণপণ সম্মুখযুদ্ধ হয়।এই যুদ্ধে সালাউদ্দিন ও নৌফেলসহ সাতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার অভিযোগে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা পাঁচজন গ্রামবাসীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।
ওই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা জানান,একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর বিনাযুদ্ধে যশোরের পতন হলে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটে ফরিদপুরের দিকে আসতে থাকে।এ খবর পেয়ে নতিবপুর ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা করিমপুর সেতু এলাকায় অবস্থান নিয়ে শক্রসেনার মুখোমুখি হয়ে পড়ে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের করিমপুর এলাকায় ঢাকাগামী পাকসেনাদের বহরের একটি জিপে ৯ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা জিপটির ওপর গ্রেনেড চার্জ করে।প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হয় হানাদার বাহিনীর একটি বড় বহর। শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শক্র সেনাদের মরণপণ যুদ্ধ।খবর পেয়ে আশেপাশের ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে অংশ নেন। বিকেল পর্যন্ত ওই যুদ্ধে সাত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়।শেষ পর্যন্ত বিকেল পাঁচটার দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি ফুরিয়ে গেলে তারা পাশের ধোপাডাঙ্গা-চাঁদপুর গ্রামে আশ্রয় নেয়।ওই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সালাউদ্দিন শক্রসেনাদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়।গুরুতর আহত হয়ে সালাউদ্দিন পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীর সদস্যরা পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে। আহত সালাউদ্দিন যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল হানাদাররা সে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে পুড়ে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী সালাউদ্দিন
করিমপুর যুদ্ধে শহীদরা হলেন,মুক্তিযোদ্ধা কাজী সালাউদ্দিন আহেেমদ, মেজবাহউদ্দিন নৌফেল, আব্দুল ওয়াহাব, সোহরাব হোসেন, আব্দুল আউয়াল, আব্দুল হামিদ ও মজিবুর রহমান।আর গ্রামবাসীদের মধ্যে শহীদ হন তিন সহোদর বাকেলউদ্দীন মন্ডল, হযরতউদ্দিন আলী মন্ডল ও হাছেন আলী মন্ডল,ফেলু শেখ ও আদিলউদ্দিন শেখ ওরফে আবু খাঁ।