হেফাজতের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা হোক: ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ

48
Social Share
আলেম শব্দটা কিন্তু অনেক বড় বিষয়। আমাদের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আলেম সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন, ঠিক যেভাবে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সময়ে করে গিয়েছিলেন। কিন্তু আলেমদের একটা অংশ আজ মানুষকে ধর্মান্ধতার নামে যেভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। যারা নিজেদেরকেই হেফাজত করতে পারে না তারা কিভাবে ইসলামকে হেফাজত করবে। ইসলামকে হেফাজত করার মালিক স্বয়ং আল্লাহ।
দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩২৮তম পর্বে সোমবার (৩ মে) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- ইতালি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের (আয়বা) যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ইতালি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ রব মিন্টু, সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।
ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ বলেন, হেফাজতে ইসলাম। এই সংগঠনটা কিসের হেফাজত করবে? ইসলামের!! আমার কথা হচ্ছে এখনতো তারা নিজের হেফাজত করতে পারছে না। যারা নিজেদেরকেই হেফাজত করতে পারে না তারা কিভাবে ইসলামকে হেফাজত করবে। ইসলামকে হেফাজত করার মালিক স্বয়ং আল্লাহ। চৌদ্দশ বছর ইসলামকে তিনিই হেফাজত করেছেন, সেখানে ইসলামকে হেফাজত করার দায়িত্ব হেফাজত ইসলামকে কে দিলো তা একটা বড় প্রশ্ন। শুরুতে ঘোষণা করেছিল তারা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এবং তাদের একমাত্র কাজ মানুষকে ইসলামের পথে আনা। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই তারা হয়ে গেলো শুধু একটা রাজনৈতিক সংগঠনই নয় বরং একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী সংগঠন। আর তারা তাদের এই সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করে মাদরাসার এতিম ছাত্রদের। বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনের আকাক্সক্ষা-অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অর্জন। আর এই অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় দৃঢ় থাকার কারণে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিতে হয়েছে, চার জাতীয় নেতাকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে এই উগ্রবাদীদের সাম্প্রদায়িকতার আস্ফালন আমাদের রাষ্ট্র ধারণার উপর পদাঘাত। কারণ সাম্প্রদায়িকতাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে সম্প্রীতির সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল। সব কিছু মিলিয়ে আমরা এটা বলতে পারি যে তাদের নামের সাথে কাজের কোন মিল নেই। নতুন কৌশলে হেফাজত। তারা এটা করবেই কারণ এটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী ধর্মের দোহাই দিয়েই আমাদের ওপর তাদের অন্যায়-অত্যাচার চাপিয়ে দিয়েছিল। ধর্মকেই তারা তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। আজ ঠিক একয় কায়দায় তাদের রয়ে যাওয়া প্রেতাত্মারায় এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপগুলো করে যাচ্ছে। তারা নতুনভাবে আবার আঘাত হানার চেষ্টা করবে এবং এই জন্য আমাদের আরও সোচ্চার হতে হবে এবং এদের পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।